সিসি নিউজ।। নীলফামারীতে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে পালিত হয়েছে হানাদার মুক্ত দিবস। এ উপলক্ষে মঙ্গলবার বেলা বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূরের নেতৃত্বে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে শোভাযাত্রায় অংশগ্রহন করেন জেলা প্রশাসক পঙ্কজ ঘোষ, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান। এর আগে জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স চত্বরে জাতীয় ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পতাকা উত্তোলন করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুস্পমাল্য অর্পণ করা হয়।
পরে কেন্দ্রয়ি শহীদ মিনার চত্বরে সমাবেশে প্রধান অতিথি বক্তৃতায় নীলফামারী-২ আসনের সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূর বলেন,‘আজ নীলফামারী হানাদার মুক্ত দিবস। কিন্তু এই কর্মসুচিতে বিএনপি জামায়াত আসে নাই। কারণ তারা মুক্তিযুদ্ধকে বিশ্বাস করে না। অগ্নি সন্ত্রাসীরা আবারো সক্রিয় হচ্ছে, তাদের ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘দেশ স্বাধীনের পর স্বাধীনতা বিরোধীরা একের পর এক ষড়যন্ত্র শুরু করে। তারা বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যা করেছে, জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হত্যা করেছে, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে দেশে আসতে বাধা দিয়েছে। শেখ হাসিনা বাধা অতিক্রম করে বীরের বেশে দেশে ফিরেছেন। তিনি আজ প্রধানমন্ত্রী। তিনি সফলভাবে দেশ পরিচালনা করছেন। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের নিয়ে জিয়াউর রহমান সরকার গঠন করেছেন। নবীন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের এসব ইতিহাস জানাতে হবে।’
জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের আয়োজনে কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেনে সংগঠনের আহবায়ক মো. হাফিজুর রশীদ মঞ্জু। অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা দেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মমতাজুল হক, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহিদ মাহমুদ, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন নাহার, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুজার রহমান, সাধারণ সম্পাদক ওয়াদুদ রহমানস, সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা সহিদুল ইসলাম, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা কান্তিভূষণ কুন্ডু, বীর মুক্তিযোদ্ধা আমিনুল হক, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের যুগ্ম আহবায়ক মো. কামরুজ্জামান কামরুল প্রমুখ। পরে সেখানে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
১৯৭১ সালের ১৩ ডিসেম্বর ভোরে বীর মুক্তিযোদ্ধারা হানামুক্ত করেন নীলফামারী। শত্রুকে পরাজিত করে শহরের চৌরঙ্গী মোড়ে উত্তোলন করেন স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বিজয়ের উল্লাস আর ‘জয় বাংলা’ শ্লোগানে রাস্তায় নেমে আসেন সে সময়ের মহকুমা শহরের মুক্তিকামী সাধারণ মানুষ।
বীর মুক্তিযোদ্ধা সহিদুল ইসলাম বলেন, ‘১৯৭১ সালের ১২ ডিসেম্বর রাতে শহরের চারদিক থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রবল আক্রমণে হানাদার বাহিনী পরাজিত হয়ে জেলা শহর ছেড়ে ১৩ ডিসেম্বর ভোরে আশ্রয় নেয় সৈয়দপুর সেনানিবাসে। এরপর থেকে মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিকামী মানুষের বিজয় উল্লাসের ঢল নামে শহরে। আর সে উল্লাসের ঢল চলে দিনব্যাপী।