• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৬ অপরাহ্ন |

১৭ মার্চ ভারত থেকে বাংলাদেশে আসবে ডিজেল

সিসি নিউজ।। ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন চালুর মধ্য দিয়ে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের আরেকটি সোনালী অধ্যায় রচনা করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ও ভারত। ১৭ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকীতে উদ্ধোধন হতে যাচ্ছে পাইপলাইনটি। এদিনই পাইপলাইনের মাধ্যমে ভারত থেকে ডিজেল আসবে বাংলাদেশে। উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এর কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন।
সূত্র মতে, বর্তমানে চট্টগ্রাম ও খুলনার মোংলা সমুদ্রবন্দরের মাধ্যমে আনা ডিজেল রেলওয়ের তেলবাহী ওয়াগনের মাধ্যমে দেশের উত্তরাঞ্চলে সরবরাহ করা হয়, যা সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। চট্টগ্রাম থেকে পার্বতীপুরে তেল আনতে প্রতি ব্যারেলে পরিবহন ব্যয় পড়ে প্রায় ৮ ডলার। তবে পাইপলাইনের মাধ্যমে ভারত থেকে আমদানি করা ডিজেল পার্বতীপুরে আনতে ব্যয় হবে ব্যারেলপ্রতি ৫ ডলার। এ ছাড়া চট্টগ্রাম থেকে পরিবহনের ক্ষেত্রে সময় লাগে এক থেকে দুই দিন। আর পাইপের মাধ্যমে লাগবে এক ঘণ্টার কিছু বেশি সময়। ফলে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের ১৬টি জেলায় অল্প সময়ে মধ্যে ভোক্তা পর্যায়ে পৌঁছানো যাবে ডিজেল। এতে সরকারের বছরে কোটি কোটি টাকা সাশ্রয় হবে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) তথ্যমতে, প্রায় ১৩১ দশমিক ৫ কিলোমিটার পাইপলাইনের মাধ্যমে ভারতের শিলিগুড়ির নুমানিগড় রিফাইনারি লিমিটেড (এনআরএল) থেকে ডিজেল আমদানি করা হবে। এ জন্য দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলা শহরে বিপিসির ডিপোর পাশে গড়ে তোলা হচ্ছে ডিজেল গ্রহণ টার্মিনাল। এ বাফার স্টোরেজ ট্যাংকে ধারণ ক্ষমতা হবে ২৬ হাজার মেট্রিক টন। পাইপ লাইনার্স লিমিটেড নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান টার্মিনালটি নির্মাণ করছে।
সূত্রটি আরো জানায়, ভারতের শিলিগুড়ি থেকে পার্বতীপুর ডিপোর পাইপলাইনের মধ্যে ভারতীয় অংশে ৫ এবং বাংলাদেশের পঞ্চগড়ে ৮২, দিনাজপুরে ৩৫ ও নীলফামারীতে সাড়ে ৯ কিলোমিটার রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ২০১৮ সালের নভেম্বর মাসে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর হয়। কাজ শুরু হয় ২০২০ সালের মার্চে। প্রকল্পের মেয়াদ ছিল ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত। কিন্তু করোনার কারণে কাজের গতি কিছুটা শিথিল হওয়ায় প্রকল্পের মেয়াদ গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়। পাইপলাইনের মাধ্যমে বছরে প্রায় ১০ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল ভারত থেকে আমদানি করা যাবে। তবে প্রাথমিক পর্যায় আড়াই লাখ টন আমদানি করা হবে। ১৫ বছর মেয়াদি চুক্তি অনুযায়ী প্রতি বছর আমদানির পরিমাণ ৪ থেকে ৫ মেট্রিক টন করে বৃদ্ধি পাবে।
ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের প্রকল্প পরিচালক টিপু সুলতান জানান, আমন ও বোরো মৌসুমে উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলায় ডিজেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকায় সরকার পাইপলাইনের মাধ্যমে এ জ্বালানি আমদানির সিদ্ধান্ত নেয়। এর ফলে বিপুল পরিমাণ অর্থ সাশ্রয়ের পাশাপাশি অতি অল্প সময়ে কম খরচে তা কৃষকদের কাছে সরবরাহ করা সক্ষম হবে।
উল্লেখ্য যে, ডিজেল সরবরাহের জন্য ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন উদ্বোধনের আগে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন আগামী ১-৩ মার্চ তিন দিনের ভারত সফর করবেন। সফরকালে তিনি পাইপলাইন উদ্বোধনের বিশাল কর্মসূচি চূড়ান্ত করতে জি-২০ বৈঠকের ফাঁকে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

আর্কাইভ