• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২১ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

ডোমার নেসকোর নির্বাহী প্রকৌশলী পুণবহালের দাবিতে গ্রাহকদের মানববন্ধন

নীলফামারী প্রতিনিধি।। নীলফামারীতে ডোমার নেসকোর বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে পুণবহালের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সাধারণ গ্রাহকের ব্যানারে সোমবার বেলা ১২টার দিকে উপজেলা শহরের চেয়ারম্যানের মোড় নামক স্থানে ঘন্টাব্যাপী ওই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে অংশগ্রহনকারীরা জানান, নেসকোর নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম ডোমারে আসার পর তাঁর কার্যালয়কে দালালমুক্ত ঘোষণা করেন। এরপর থেকে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন একটি মহল। তারা বিভিন্ন সময়ে তাঁকে ফাঁসানোর চেষ্টায় লিপ্ত হন। তারই অংশে চক্রটি বিভিন্ন মাধ্যমে ভুয়া তথ্য সরবরাহের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হলে গত ৬ মার্চ ওই নির্বাহী প্রকৌশলীকে সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করা হয়।
উপজেলার পাঙ্গামুটুকপুর গ্রামের কৃষক শাহিনুর আলম (৪৫) জানান, নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম ২০২০ সালের ১৮ অক্টোবর ডোমার বিদ্যুৎ বিপণন ও বিতরণ কেন্দ্রে যোগদান করেন। তাঁর যোগদানের আগে এ কার্যলয়টি ছিল দালারের অভয়ারণ্য। এসব দালাল নানা অজুহাতে সাধারণ গ্রাহকদের সমস্যায় ফেলতেন। নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম সেটি শক্তহাতে দমন করে নিজ কার্যালয় দালালমুক্ত ঘোষণা করেন।
তিনি বলেন, ‘আমার বিদ্যুৎচালিত তিনটি সেচপাম্প রয়েছে। এসব সেচপাম্প দিয়ে এলাকার ৩০০ বিঘা জমিতে সেচ প্রদান করা হয়। এই নির্বাহী প্রকৌশলী আসার আগে ওই দালল চক্র নানা সমস্যার সৃষ্টি করতেন। পরে দালালমুক্ত হওয়ায় আমি সরাসরি যোগাযোগ করতে পারায় আর কোন সমস্যা হয়নি।’
পশ্চিম চিকনমাটি গ্রামের জয়নাল আবেদীন (৫৫) বলেন, ‘অন্য অফিসার থাকাকালে আমরা ঠিকমত বিদ্যুৎ পাই নাই। এই অফিসার আসার পর আমরা সবসময় বিদ্যুৎ পাইছি। এলাকায় নতুন পিলার বসানো হইছে, নতুন নতুন বাড়ি বিদ্যুৎ পাইছে। এজন্য কোন টাকা-পয়সা লাগে নাই। আগে এসব কাজ দালালের মাধ্যমে করতে হতো। অনেক টাকা লাগতো। দালাল না থাকায় এখন টাকা লাগে না।’
চিকনমাটি গ্রামের অপর কৃষক রাজু ইসলাম (৪৫) বলেন, ‘আগে দালাল ছাড়া বিদ্যুতের কোন কাজই সম্ভব হতো না। এই অফিসার আসার পর সাধারণ গ্রাহক সরাসরি যোগাযোগ করে তাঁকে সমস্যার কথা বলতে পারেন। তিনি এলাকার অনেক মানুষের সমস্যাও সমাধান করেছেন। এতে করে তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষিপ্ত ওই দালাল চক্রটি।’
মানববন্ধনে নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামের পুণবহালের দাবি জানিয়ে তারা বলেন, ‘সেটি না হলে আবারো দালালের হাতে জিম্মি হবে বিদ্যুৎ কার্যালয়টি। এতে করে সেবা বঞ্চিত হবে এলাকার মানুষ।’
নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম জানান, ২০২০ সালের মাঝামাঝি সময়ে ডোমার নেসকো কার্যালয়ের সিস্টেম লস ছিল ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ। এতে করে প্রতিমাসে সরকারের রাজস্ব ক্ষতি হতো প্রায় ৫০ লাখ টাকা। বর্তমানে সে সিস্টেম লস কমে ঠেকেছে আট থেকে ১০ শতাংশে। গত দুই বছরে বকেয়ার পরিমান ২০ কোটি থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ১২ কোটিতে। এ সময়ে প্রায় ২৫০ কিলোমিটার নতুন লাইন নির্মান ও সংস্কার হয়েছে। সমাধান হয়েছে লো ভোল্টেজের সমস্যা। ওভার বিলিংয়ের অভিযোগ প্রায় শূন্যের কোঠায় এসেছে। এতে করে গত দুই বছরে ১৫ কোটি টাকা বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘সবই সম্ভব হয়েছে দালাল মুক্তের মাধ্যমে। আমার কার্যালয় দালালমুক্ত হওয়ায় সাধারণ গ্রাহক সরাসরি কথা বলতে পেরেছেন। আমি তাঁদের সমস্যা দ্রুত নিষ্পত্তি করেছি। এতে করে ক্ষিপ্ত হয়ে ওই চক্রটি আমার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উত্থাপন করছেন। এসব অভিযোগের সঙ্গে কার্যালয়ের দূর্নীতির দায়ে বহিস্কৃত কয়েকজন মিটার রিডার জড়িত রয়েছে। যে অভিযোগ আনা হয়েছে সেটি আমার যোগদানের আগের।’
একটি অভিযোগের প্রেক্ষিতে নেসকোর ডোমার নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামকে সাময়িক প্রত্যাহার করার করার কথা স্বীকার করেন নেসকোর রংপুর জোনের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. হাসনাত জামান। তিনি বলেন, ‘আমাকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে। কাজ শেষে দ্রুত প্রতিবেদন প্রদান করা হবে।’


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

আর্কাইভ