ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি।। দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে বাড়ির পাশের পুকুরে পানি যাওয়া নিয়ে দ্বন্দ্বে প্রতিবেশী মর্জিনা আক্তার বেনু (৩০) নামে এক নারীর ধাক্কায় সোলেমান প্রধান (৫৫) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (৩১ মার্চ) দুপুরে উপজেলার বুলাকীপুর ইউনিয়নের দামোদরপুর-শৌলা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহত সোলেমান ওই গ্রামের মৃত বরিজ উদ্দীনের ছেলে।
এদিকে সোলেমান মারা যাওয়ার খবরে তার পরিবার এবং স্থানীয় কয়েকজন বেনু বেগমের উপর আক্রমণাত্মক হয়ে পড়ে এবং মারপিট করে। এতে বেনু বেগম গুরুতর আহত হয়। পরে তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে তার পরিবারের লোকজন।
এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে নিহতের স্ত্রী সাকিনা বেগম বাদী হয়ে থানায় ২ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করে এবং শনিবার সকালে মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য দিনাজপুর এম.আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু হাসান কবির।
মামলা দায়েরের পরপরেই অভিযুক্ত মর্জিনা আক্তার বেনু (৩০) কে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। পলাতক রয়েছে মামলার এক নাম্বার আসামী বেনু বেগমের স্বামী রুহুল আমিন (৩৫)। গ্রেপ্তার বেনু পুলিশ হেফাজতে চিকিৎসাধীন আছে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নিহত সোলামানের বাড়ির সাথেই তাদের একটি পুকুর আছে। পুকুরটির সাথেই স্থানীয় রুহুল আমিন নামে একজনের বাড়ি। রুহুলের বাড়ির টিউবওয়েলের পানি পুকুরে যাওয়াকে কেন্দ্র করে শুক্রবার জুম্মার নামাজ শেষে সোলেমানের সাথে কথা কাটাকাটি শুরু হয় রুহুল আমিনের স্ত্রী বেনু বেগমের। এক পর্যায়ে গৃহবধূ বেনু বেগম ধাক্কা দিলে সোলেমান মাটিতে পড়ে যায়। এরপর সে আর মাটি থেকে উঠেনি। সেখানেই তিনি মারা যান।
স্থানীয় কুদ্দুস মোল্লা নামে এক ব্যক্তি বলেন, অভিযুক্ত বেনু আগে থেকেই অনেক ঝগড়েটে। মাঝে মাঝেই সে বিভিন্ন মানুষের সাথে ঝগড়ায় জড়িয়ে পরে। নিহত সোলেমান হ্নদরোগের আক্রান্ত। সে এর আগেই একবার হার্টঅ্যাটাক করেছিলো। হতে পাওে বেনু বেগমের ধাক্কায় সে হ্নদযন্ত্রেও ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেছে। তবে এই মৃত্যুর দায় বেনু বেগমের।
ঘোড়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ মনিরুজ্জামান মুরাদ বলেন, চিকিৎসাধীন বেনু বেগমের দুটি পা ভেঙ্গে গিয়েছে। তার বাম পায়ে ৩টি এবং ডান পায়ে ২টি ভাঙ্গার ক্ষত আছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য শনিবার দুপুরে তাকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অর্থোপেডিক্স সার্জারি বিভাগে রেফার্ড করা হয়েছে।
ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু হাসান কবির বলেন, মামলা রজু করার পরপরেই মামলার আসামী বেনু বেগমকে চিকিৎসাধীন থাকা আমরা আমাদের হেফাজতে নেই। শনিবার দুপুরে আসামীকে পুলিশ হেফাজতে দিনাজপুর মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। অপর এক আসামীকে গ্রেপ্তার করতে আমরা কাজ করছি। মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট আসলে বোঝা যাবে আসলে কিভাবে মৃত্যু হয়েছে।