রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, সৈয়দপুর থেকে ঢাকা রুটে নীলসাগর ও চিলাহাটি এক্সপ্রেস নামে দুইটি আন্ত:নগর, খুলনা রুটে রুপসা ও সীমন্ত নামে দুটি আন্ত:নগর এবং একটি মেইল, রাজশাহী রুটে বরেন্দ্র ও তিতুমীর নামে দুটি আন্ত:নগর ট্রেন রয়েছে। এসব ট্রেনের মধ্যে সৈয়দপুরের জন্য আসন বরাদ্দ রয়েছে ঢাকাগামী নীলসাগর আন্তনগর এক্সপ্রেস ট্রেনে শোভন চেয়ার কোচ ৫৮, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত চেয়ার কোচ ১০ ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাথ (শয়ন কক্ষে) ২টি। চিলাহাটি এক্সপ্রেস ট্রেনে শোভন চেয়ার ৩৬টি, এসি চেয়ারের ৩০টি ও স্লিপারের ৮টি টিকিট বরাদ্দ রয়েছে। খুলনাগামী আন্তনগর সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেনে শোভন চেয়ার কোচ ৭৫টি, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাথ ৪টি ও রূপসা এক্সপ্রেস ট্রেনে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কোচ ৪টি এবং শোভন চেয়ার কোচে ১৫টি। আর রাজশাহীগামী আন্তনগর তিতুমীর ও বরেন্দ্র এক্সপ্রেস ট্রেনে শোভন ৫০, শোভন চেয়ার ১৫ ও প্রথম শ্রেণির কোচে ৬টি আসন বরাদ্দ রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে সৈয়দপুরে ট্রেনের টিকিটের চাহিদা সারাবছর ধরেই থাকে। তবে ঈদে ঘরে ফেরা মানুষের আবার কর্মস্থলে ফেরার তাগিদে এ চাহিদা বেড়ে যায়। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এখান কালোবাজারিরা সক্রিয়। অনলাইন ও কাউন্টারে না মিললেও কালোবাজারে কয়েক গুণ বেশি টাকায় মিলছে টিকিট। স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম ও আশপাশের দোকানে প্রকাশ্যে কালোবাজারে টিকিট বিক্রি হচ্ছে। কালোবাজারি চক্রটি ৪৫০ টাকার টিকিট ২ হাজার টাকায়ও বিক্রি করেছে।
সরেজমিন সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে কর্মস্থলে ফিরতে ট্রেনের টিকেটের জন্য ভিড় করে আছে যাত্রীরা। জাভেদ হোসেন নামের যাত্রী বলেন, আমি ঢাকায় একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করি। আপনপজনদের সাথে ঈদ করতে বাড়িতে এসেছিলাম। ছুটি শেষ কর্মস্থলে ফিরতে হবে। ট্রেনের টিকিটের জন্য নতুন নিয়মে আমি রেজিস্ট্রেশন করেছি। কিন্তু অনলাইন এবং কাউন্টারে টিকিট শেষ। বাধ্য হয়ে ব্ল্যাকারের কাছ থেকে ৪৫০ টাকার টিকেট তিন হাজার টাকায় নিয়েছি। এর সাথে একটি স্ট্যান্ডিং টিকিট কাটতে হয়েছে। মোবাইল কোর্টে ধরলে স্ট্যান্ডিং টিকিট দেখাতে বলেছে। আসনসহ টিকিট যেন না দেখাই, তাও বলে দিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক টিকিট কালোবাজারি জানান, নিয়ম করে টিকিট কালোবাজারি বন্ধ করা যাবে না। কারণ, যাত্রীদের মধ্যে সবাই লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কাটতে চান না। দিন শেষে কেউ না কেউ টিকিটের জন্য তাঁদের ওপরই ভরসা করেন। তিনি আরও বলেন, নতুন পদ্ধতিতে সরাসরি আমরা টিকিট নিতে পারি না। আলাদা আলাদা পরিচয়পত্র দিয়ে টিকিট কাটতে হয়। এ জন্য রিকশাচালক, হোটেল শ্রমিকসহ আশেপাশের অভাবী মানুষের এনআইডি দিয়ে টিকিট কাটা হয়। যার আইডি কার্ড দিয়ে টিকেট কাটা হয় তাকে প্রতি টিকিটে ১০০ টাকা করে দিতে হয়।
এ নিয়ে কথা হয় সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার ওবাইদুল ইসলাম রতনের সাথে। তিনি বলেন, নতুন নিয়মে কালোবাজারিরা টিকিট কিনতে পারেন না। এখন কোনো কালোবাজারি নেই স্টেশনে। যদি হয়েও থাকে তবে বাহিরে থেকে অনলাইনে টিকিট কিনে এনে বিক্রি করেন হয়ত কেউ কেউ। স্টেশনের সাথে তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।