• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২১ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে ভাগ্নেকে গলাকেটে হত্যা, মামাসহ গ্রেপ্তার ৬

সিসি নিউজ ডেস্ক।। প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও হত্যা মামলা থেকে বাঁচতে ভাগ্নেকে গলাকেটে হত্যার পরিকল্পনা করেন শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার যোগানিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা হাবিবুর রহমান হবি। তার পরিকল্পনাতেই ছেলে ও দুই ভাতিজা মিলে বৃহস্পতিবার রাতে গলা কেটে হত্যা করে শাহ কামাল ওরফে কদি মিয়াকে (৩৫)। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ওই চেয়ারম্যান, তার ছেলে, স্ত্রী, ভাই এবং দুই ভাতিজাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার বিকেল ৪টার দিকে থানায় সংবাদ সম্মেলন করে বিষয়টি জানান সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার নালিতাবাড়ী সার্কেল দিদারুল ইসলাম।

সংবাদ সম্মেলন ও সরেজমিনে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, ২০১৯ সালের ২৫ এপ্রিল জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলা-সংঘর্ষ চলাকালে তৎকালীন যোগানিয়া ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হবির অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের গুলিতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন প্রতিপক্ষের কৃষক ইদ্রিস আলী (৩০)। ‘চাঞ্চল্যকর মামলা’ হিসেবে আমলে নিয়ে তৎকালীন থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল খায়ের আগ্নেয়াস্ত্র ও হত্যা এ দুই মামলায় পৃথক চার্জশীট দাখিল করেন। দীর্ঘদিন হাজতবাসের পর আসামিরা জামিনে বেরিয়ে আসে।

এদিকে হবি চেয়ারম্যানের গুলিতে নিহত ইদ্রিস আলীর বাবা ফজল মিয়ার সঙ্গে চেয়ারম্যানের ভাগ্নে দিনমজুর শাহ কামালের ২০১৮ সালে বন্ধকি নেওয়া ১১ কাঠা জমি নিয়ে বিরোধ ও বিচার-শালিস চলছিল। এ বিরোধকে মোক্ষম সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাতে ভাগ্নেকে হত্যা করে প্রতিপক্ষ ফজলকে ফাঁসাতে পরিকল্পনা করেন ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হবি। তার সাথে এ পরিকল্পনায় অংশ নেন তারই সহোদর ভাই হারেজ আলী ও স্ত্রী আমেলা খাতুন ঝর্ণা।

বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে গড়াকুড়া বাজারের উদ্দেশ্যে বের হন দিনমজুর শাহ কামাল। গড়াকুড়া বাজার থেকে মস্তুফা শাহ কামালকে ডেকে হাবিবুর রহমান হবির পরিত্যক্ত বাড়ির একটি ঘরে পাঠায়। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করা সারোয়ার জাহান শান্ত ও রাহুল শাহ কামালকে চেপে ধরে। মস্তুফা ছুড়ি দিয়ে গলাকেটে হত্যা করে। পরে ফ্লোরে জমাট বাঁধা রক্ত ধুয়েমুছে বস্তা ও কম্বল দিয়ে পেঁচিয়ে মরদেহটি মাঝ রাতে খালের ধারে ফেলে রাখা হয়। এসময় বস্তা ও কম্বল পুড়িয়ে বাড়ির পাশের বাঁশ ঝাড়ে ফেলে দেয় হত্যাকারীরা।

এদিকে গভীর রাত পর্যন্ত বাড়ি না ফেরায় স্ত্রী শেফালী স্বজনদের বাড়ি ফোন করে খোঁজ নিয়ে স্বামীর সন্ধান পেতে ব্যর্থ হন। শুক্রবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে কুত্তামারা হরে খাল পাড়ের বাসিন্দা রনি মিয়া প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বের হয়। এসময় বিলের ধারে ঝোপের নিচে মরদেহ দেখে তা শাহ কামালের গলাকাটা মরদেহ বলে শনাক্ত করে। পরে জরুরি সেবা ৯৯৯ এ ফোন করলে বেলা ১১টার দিকে নালিতাবাড়ী থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ওই মরদেহ উদ্ধার করে।

অন্যদিকে হত্যাকাণ্ডের তদন্তকালে চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হবির বসতঘর তল্লাশি করে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা ছুড়ি, জামা-কাপড় ও জুতা জব্দ করে পুলিশ। এসময় পরিকল্পনাকারী হাবিবুর রহমান হবি (৫৫), তার ছেলে সারোয়ার জাহান শান্ত (২৬), তৃতীয় স্ত্রী আমেলা খাতুন ঝর্ণা (৪২), সহোদর ভাই হারেজ আলী (৫৮), ভাতিজা মস্তুফা (৩০) ও রাহুলকে (২২) গ্রেপ্তার করা হয়। ওইদিন রাতেই হত্যাকাণ্ডের শিকার শাহ কামালের মা অছিরন বেগম বাদী হয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

শনিবার তাদের আদালতে সোপর্দ করা হলে হত্যায় সরাসরি জড়িত তিনজনই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

সংবাদ সম্মেলনে থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুল আলম ভুইয়া, পুলিশ পরদর্শক (তদন্ত) আব্দুল লতিফ মিয়া উপস্থিত ছিলেন।

উৎস: সমকাল


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

আর্কাইভ