• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৬ অপরাহ্ন |

নীলফামারীতে গবাদিপশুর লাম্পি স্কিন রোগে মারা গেছে শতাধিক গরু

সিসি নিউজ।। নীলফামারী সদরে হঠাৎ করে বেড়েছে গবাদি পশুর লাম্পি স্কিন রোগ। শুধুমাত্র উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নে গত ১০ দিনে এ রোগে অর্ধ শতাধিক গরু মারা যাওয়ার সংবাদ মিলেছে। এতে করে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এ অঞ্চলের প্রান্তিক কৃষকরা। পল্লী পশু চিকিৎসক, কবিরাজ, হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের শরণাপন্ন হচ্ছে অনেকে। তাদের ভুল চিকিৎসা ও অর্থ অপচয়ের শিকার হলেও মিলছে না কোনো সমাধান। এদিকে ওই ইউনিয়নে লাম্পি স্কিন রোগে গরুর মৃত্যুর তথ্য নেই উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সদর উপজেলার সোনারায়, সংগলশী ও কুন্দুপুকুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে অধিকাংশ কৃষকের গরু ল্যাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত হয়েছে। ইতিমধ্যে গত ১০ দিনে এ রোগে উপজেলার ওই তিনটি ইউনিয়নে প্রায় শতাধিক গরু মারা গেছে। তবে ল্যাম্পি স্কিন মৃত্যুর চেয়ে আক্রান্তের সংখ্যা অনেকগুন বেশি। এ রোগের প্রতিষেধক না থাকায় অনেককে কবিরাজ, হোমিওপ্যাথিক ও পল্লী গরু চিকিৎসকের শরণাপন্ন হচ্ছেন। আক্রান্ত গরুর মালিকদের কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে চিকিৎসকরা হাতিয়ে নিচ্ছেন মোটা অঙ্কের টাকা। নিম্নমানের ওষুধ ও অনেক ক্ষেত্রে ভুল চিকিৎসার শিকারে গরুর মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সোনারায় ইউনিয়নের বানিয়াপাড়ার কৃষক রফিকুল ইসলাম জানান, শনিবার দিবাগত রাতে ল্যাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত হয়ে তার একটি গরু মারা গেছে। পল্লী পশু চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা নিয়েও গরুটি বাঁচাতে পারিনি। তিনি অভিযোগ করেন, প্রাণিসম্পদ অফিস থেকে কোনদিন কেউ খবর নেয়নি। কোন চিকিৎসক আসেনি বা পরামর্শ দেয়নি।

একই অভিযোগ করেন পাশের পরথর পাড়ার কৃষক ওয়াহেদ আলী, কুমোর উদ্দিন, আব্দুল মালেক। কৃষকরা জানান, তাদের কারো হালের গরু, কারো দুধেল গাভী এ রোগে মারা গেছে। স্থানীয় কবিরাজের চিকিৎসা করেছিল। উপজেলা সদর অনেক দূরবর্তী হওয়ায় সেখানে যাওয়া সম্ভব নয়। তাই এলাকার চিকিৎসকের হাতে বাঁধা পড়ে রয়েছে। তারাও সুযোগ পেয়ে ইচ্ছেমতো টাকা আদায় করে নিচ্ছে। তাদের হিসেবে গত ১০ দিনে এ ইউনিয়নে অর্ধ শতাধিক গরু মারা গেছে।

ফকিরগঞ্জ হাটের বিকাশ এজেন্ট ও কৃষক সফিকুল ইসলাম জানান, তাঁর নিজের দুটি গরু ল্যাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত হয়েছে। প্রথমে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের দ্বারা চিকিৎসা করেছি, তেমন উপকার না হয়ে এখন কবিরাজের চিকিৎসা চলছে।

উপজেলার সংগলশী ইউনিয়নের বাগিচা পাড়ার কৃষক আলিম উদ্দিন জানান, গত এক মাসে তাঁর তিনটি গরু মারা গেছে। স্থানীয় পশু চিকিৎসকের চিকিৎসায় প্রায় ১২ হাজার টাকা ওষুধ প্রয়োগ করেও কোন লাভ হয়নি। এলাকায় অনেক কৃষকের গরু ল্যাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত রয়েছে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রমতে, লাম্পি স্কিন গবাদি পশুর নতুন একটি রোগ। যার প্রতিষেধক বেসরকারিভাবে বিভিন্ন কোম্পানির কাছে পাওয়া গেলেও সরকারিভাবে এখনো আসেনি। আক্রান্ত পশুর প্রথমে সামনের পা ফুলে যায়। তাপমাত্রা বেড়ে গিয়ে শরীরে বড় বড় গুটি দেখা দেয়। এক সপ্তাহ পরে গুটিগুলো গলে ঘা হয়। ঘা থেকে অনবরত তরল পদার্থ বের হয়। অল্প দিনে গরু শুকিয়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রে মারা যায়। তবে আক্রান্তের তুলনায় মৃত্যুর সংখ্যা খুবই কম।

নীলফামারী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. সিরাজুল হক বলেন, ‘খামারিদের তুলনায় প্রান্তিক কৃষকদের গরু লাম্পি স্কিন রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। এ রোগ প্রতিরোধের কোনো টিকা নেই। গরুর সঠিক পরিচর্যা, আক্রান্ত পশুকে মশারির ভেতর রাখা ও বাসস্থান পরিষ্কারপরিছন্ন রাখার মাধ্যমে এ রোগ ছড়িয়ে পড়া রোধ করা সম্ভব। তিনি আরো বলেন, আমরা মাঠ পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পাড়ায় পাড়ায় উঠোন বৈঠক করছি। ওই বৈঠকে আক্রান্ত গরুর সুচিকিৎসার জন্য উপজেলা প্রাণি সম্পদ দপ্তরে দ্রুত যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

আর্কাইভ