• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫৭ অপরাহ্ন |

নীলফামারীতে এমপি নূরের বাড়ি ভাঙচুর, অগ্নি সংযোগ: পুলিশসহ আহত অর্ধশতাধিক

সিসি নিউজ।। নীলফামারীতে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে স্থানীয় সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূরের বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এসময় বিভিন্ন স্থাপনা ও আওয়ামী লীগের কার্যালয়, পুলিশ বক্স ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। রবিবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর দুইটা পর্যন্ত এসব ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় অন্তত ২৫ জন পুলিশ সদস্যসহ আহত হয়েছে অর্ধশতাধিক। আহতদের মধ্যে নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে ১৩ জনকে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে একজনকে গুরুতর অবস্থায় রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ টিআরসেল, রাবার বুলেট ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এদিকে বেলা দুইটার পর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বেরিয়ে আসে শহরে। বিএনপি নেতা কর্মীদের অভিযোগ, এসময় তারা বিএনপি কার্যালয়, জেলা বিএনপির সভাপতি আ খ ম আলমগীর সরকার ও সহসভাপতি সেলিম ফারুকের বাড়ি ও বিএনপির সভাপতির ভাইয়ের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙ্গচুর চালায়। তারা শহরের উকিলপাড়ায় বিএনপি নেতা শামীম শাহ আলম তমুর গাড়ির গ্যারেজে অগ্নি সংযোগ করলে তিনটি মাইক্রোবাস, একটি কার ও একটি ইজিবাইক পুড়ে যায়। একই সময়ে জেলা জামায়াতের সহ-সেক্রেটারী আল ফারুক আব্দুল লতিফের বাড়িতে ভাঙচুর চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রবিবার সকাল থেকে আন্দোলনকারীরা লাঠিসোটা হাতে নিয়ে শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে বড়বাজার ট্রাফিক মোড়ে একত্রিত হয়। সেখান থেকে মিছিল নিয়ে চৌরঙ্গী মোড়ে অবস্থান নেয়। এসময় বিএিনপি জামায়াতের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা ওই মিছিলে যোগ দেয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা চৌরঙ্গী মোড়ে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান নেয়। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে আদালত চত্বর থেকে বিএনপি ও জামায়াত পন্থী আইনজীবীদের সঙ্গে বিএনপি-জামায়াতের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা চৌরঙ্গী মোড়ের আন্দোলন স্থলে যোগ দিলে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। এসময় সেখানে অবস্থিত আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের তালা ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালায়। তারা আসবাবপত্র ও বিভিন্ন কাগজপত্র সড়কে নিয়ে এসে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। সেখানে অবস্থিত পুলিশ বক্সটি ভাঙচুর করে আগুন দেওয়া হয়। দুপুর দুইটার দিকে স্থানীয় সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূরের বাসভবনের মূল ফটক টপকিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে বিভিন্ন কক্ষে দরজা ভেঙে আসবাবপত্র ভাঙচুরসহ কক্ষে থাকা অন্যান্য মালামাল তছনছ করে। বেরিয়ে আসার সময় একটি কক্ষে ও সেখানে থাকা ১০টি মোটরসাইকেলে আগুন দেয়। পুলিশ রাবার বুলেট, টিআরসেল ও সাউ- গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এসব ঘটনা প্রত্যক্ষদর্শীরা বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীরা অভিযোগ করে বলেন, আন্দোলনকারীরা সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয়ে অনেককে মারপিট করে। এ সময় নীলফামারী প্রেসক্লাবের অর্থ সম্পাদক আবুল হোসেন শাহের মোটরসাইকেল পুড়ে দেওয়া হয়। হামলায় আহত হন এনটিভির সাংবাদিক ইয়াসিন মোহাম্মদ সিথুন। সংসদ সদস্যের বাড়িতে হামলার বিষয়টি নিশ্চিৎ করে তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী তরিকুল ইসলাম জানান, শতাধিক হামলাকারীরা বিভিন্ন কক্ষে প্রবেশ করে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এসময় একটি কক্ষে এবং বাইরে থাকা ১০টি মোটরসাইলে আগুন দেওয়া হয়। পরে তারা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ধাওয়ায় পালিয়ে যায়। কক্ষের আগুন নেভানো সম্ভব হলেও মোটরসাইলে ১০টি পুড়ে যায়। বাড়িতে হামলার বিষয়ে সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূর বলেন, ‘যারাই হামলা করুকনা কেন, যদি ছাত্ররা করে থাকে তাহলে তাদেরকে কেউ মিসগাইড করেছে। আমি ছাত্রদের জন্য প্রতিমাসে ৭৫ হাজার টাকা বৃত্তি প্রদান করে থাকি। আমি ছাত্রদের ছাত্র হিসাবেই দেখি। তারা কোন দলের এ বিবেচনা করি না। ছাত্র আন্দোলনের নামে আমার বাড়ি ভাঙচুর হওয়ার কথা নয়। আমার বাড়ি ভাঙচুর হওয়াকে কেন্দ্র করে যাতে আর কোন প্রতিহিংসামূলক ঘটনা না ঘটে সেটাই আমি বলবো। আমি চাই নীলফামারীতে শান্তি বজায় থাকুক’। নীলফামারীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম বলেন, ’বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। ইটপাটকেলের ঢিলে অন্তত ২৫ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। রাবার বুলেট, কাঁদান গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়’। এদিকে বেলা ২টার দিকে সৈয়দপুর উপজেলায় আন্দোলনকারীদের সাথে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। এ সময় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি কার্যালয়ে ভাংচুরের এ ঘটনা ঘটে। ঘন্টা ব্যাপী ধাওয়া – পাল্টা ধাওয়ায় উভয় পক্ষের ১৭/১৮ জন আহত হয়। আহতের মধ্যে ১৩ জন সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়। এরমধ্যে একজনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। একইদিনে জেলায় জলঢাকায় একই কর্মসূচি পালন করে আন্দোলনকারীরা। তবে সেখানে কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

আর্কাইভ