• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:১২ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

দেশের সমস্যাগুলো পর্যায়ক্রমিকভাবে সমাধান করতে হবে- তারেক রহমান

সিসি নিউজ।। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বাংলাদেশের মানুষ এখন স্বৈরাচার মুক্ত উল্লেখ করে বলেন, ‘এখন সামনে আমাদের আরেকটি বড় যুদ্ধ। কি সেই যুদ্ধ, যে সংগ্রাম, যে আন্দোলন বিগত ১৬ বছর যাবৎ এদেশের মানুষ, বিশেষ করে রাজনৈতিক দলগুলো, নেতাকর্মীরা করেছিল মানুষের সহযোগিতা নিয়ে যে অধিকারকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য, সেই অধিকারগুলোকে এখন পর্যায়ক্রমিকভাবে আমাদেরকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।

আজ সোমবার বিকেলে ৫টার দিকে নীলফামারী সদর উপজেলার লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়নের দুবাছুরি দ্বি-মুখি দাখিল মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত সভায় ভাচ্যুয়ালী প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আমরা বিএনপি পরিবারের আয়োজনে ২০১৪ সালের ১৮ জানুয়ারী ব্যাবের ক্রসফারে নিহত নীলফামারী সদর উপজেলার লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়ন বিএনপি নেতা গোলাম রব্বানীর পরিবারকে নতুন বাড়ি হস্তান্তর উপলক্ষে ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

তারেক রহমান বলেন,‘এই গোলাম রব্বানীরা যারা শহিদ হয়েছে যারা নিজের জীবন দিয়েছে, তাদের লক্ষ্য ছিল মানুষের রাজনৈতিক অধিকারকে প্রতিষ্ঠিত করা। মানুষের বাক স্বাধীনতাকে প্রতিষ্ঠিত করা। যে গোলাম রব্বানীকে হত্যা করা হয়েছে, গোলাম রব্বানী শুধু একজন নয়। গত ১৬ বছরের যে স্বৈরাচার বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে গিয়েছে আগস্ট মাসের পাঁচ তারিখে, সেই স্বৈারাচার গত ১৬ বছরে সারা বাংলাদেশে হাজারো গোলাম রব্বানীকে হত্যা করেছে, লক্ষ লক্ষ পরিবারকে নির্যাতিত করেছে। পালিয়ে যাবার কদিন আগেও, সেই স্বৈরাচার প্রায় দু’হাজারের মত মানুষকে হত্যা করেছে। ক্ষমতা ধরে রাখতে প্রায় ত্রিশ হাজারের কাছাকাছি মানুষকে বিভিন্নভাবে জখম করেছে, বিভিন্নভাবে নির্যাতন করেছে

দেশের বহু সমস্যা আছে উল্লেখ করে বলেন, ‘এই সমস্যাগুলোর পর্যায়ক্রমিকভাবে আমাদের সমাধান করতে হবে। এখন এই সমাধান করতে হলে নিশ্চয়ই কাউতো থাকতে হবে, যারা আপনাদের এই সমস্যার কথা তুলে ধরতে পারে। গোলার রব্বানীরা চেয়েছিল দেশে একটি সিস্টেম থাকুক, এমন একটি ব্যবস্থা দেশে ধীরে ধীরে গড়ে উঠুক, যাতে করে আপনাদের সমস্যাগুলো, এলাকার মানুষের সমস্যা, সমগ্র দেশে গ্রামে গঞ্জের লক্ষ কোটি মানুষের যে সমস্যা, সে সমস্যাগুলো নিয়ে যাতে কিছু মানুষ কথা বলতে পারে এবং সরকার যাতে বাধ্য থাকে দেশের মানুষের সমস্যাগুলো সমাধান করার। মানুষের কথা যাতে ঠিকভাবে যেখানে পৌঁছা উচিত সেখানে পৌঁছাতে পারে। এই ব্যবস্থাটাই গোলাম রব্বানীসহ আরো হাজারো মানুষ যাদেকে হত্যা করা হয়ে, এই ব্যবস্থাটাই নিশ্চিৎ করতে চেয়েছে। যাতে আমরা একটা সুন্দর দেশ গড়ে তুলতে পারি।

দেশ গড়ার জন্য তিনি সকলকে একত্রিত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন,‘আমরা যদি সকলে ঐক্যবদ্ধ থাকি। দেশে বহু মানুষ আছে। বিভিন্ন জনের বুদ্ধিজীবীসহ বিভিন্ন জ্ঞানী ব্যক্তিবর্গ আছেন। বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ আছেন। বিভিন্ন জন মানুষের বিভিন্ন মতামত আছে। আমরা সেই মতামতগুলো আলোচনা করব। সকলে সকলের মতামত উপস্থাপন করবে। কিন্তু দিন শেষে যেই মতামতের পক্ষে সবচাইতে বেশি সমর্থন থাকবে সেই মতামতের ভিত্তিতেই আমরা দেশকে গড়ে তুলব। দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাব। আমাদের বিভিন্ন দলের মধ্যেও বিভিন্ন মানুষের মধ্যেই হোক মতপার্থক্য থাকতে পারে। কিন্তু আমাদেরকে খেয়াল রাখতে হবে যাতে সেই মতপার্থক্য এমন কোন পর্যায়ে না পৌঁছায় যেখানে দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। দেশের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যেখানে দেশের সামনে এগিয়ে যাওয়া বাধাগ্রস্ত হবে। যেখানে দেশের মানুষের স্বাভাবিক যে চাওয়া সেই চাওয়াগুলো বাধাগ্রস্ত হবে। এমন কোনো পরিস্থিতির উদ্ভব যাতে না হয় এ ব্যাপারে আমাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে। আমাদেরকে সচেতন থাকতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী বলেন,‘আজকে মানুষের প্রত্যাশার একটি পরিবর্তন। সেই পরিবর্তনের অন্তর্বতীকালীন সরকার হয়েছে। এই সরকারকে বিএনপিও সমর্থন করেছে। কিন্তু এই সরকার যদি কোনো একটি দিকে হেলে যান, তাহলে এই সরকারকে জনগণ কখনোই মেনে নেবে না। তাকে যে নিরপেক্ষতার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, সেই নিরপেক্ষ দায়িত্ব তিনি পালন করবেন।

তিনি বলেন,‘সরকারের আইজি বলেন, আমাদের হাতে কোন ম্যাজিক নাই। আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি রাতারাতি আমরা ঠিক করতে পারব না। এখানে ছিনতাই হচ্ছে, ডাকাতি হচ্ছে, এমনকি ব্যাংক ডাকাতি হচ্ছে। ম্যাজিস্ট্রেটরা দায়িত্ব এবং উদ্যোগ নিবেন। যারা এই দায়িত্ব পালন করছেন কিন্তু হচ্ছে কেন?

এই পরিবর্তীত পরিস্থিতিতেও তারেক রহমানকে টার্গেট করা হচ্ছে উল্লেখ করে বরেন,‘যেন খুব সূক্ষ্মভাবে তাকেই টার্গেট করা হয়েছে। যেমন আমরা ষোল সতের বছরে শেখ হাসিনার টার্গেট দেখেছি জিয়া পরিবার, স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমান। এখনো দেখছি সূক্ষ্মভাবে যেন তাকেই টার্গেট করা হচ্ছে। তিনিই বাংলাদেশের অবিসংবাদিত নেতা। তিনিই প্রকৃত নেতা। তিনিই ন্যাচারাল নেতা। যারা পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় যেতে চায়। তারা তাকে সহ্য করছে না। এই কারণেই আমরা দেখি নানা ধরনের বক্তব্য বিবৃতি এখানে আসছে। তারেক রহমানের মালয়েশিয়ায় কারখানা আছে, ইন্ডাস্ট্রি আছে। উনি অবৈধভাবে ষোল বছর ক্ষমতায় থাকলেন কোথায় সেই কারখানা? কোথায় সেই ইন্ডাস্ট্রি? একটাও তো তার প্রমাণ দিতে পারলেন না।

আমরা বিএনপি পরিবার আয়োজিত অনুষ্ঠানে সংগঠনে আহবায়ক আতিকুর রহমান রুমনের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য দেন বিএনপির কোষাধ্যক্ষ রশিদুজ্জামান মিল্লাত, সাংগঠনিক সম্পাদক ( রংপুর বিভাগ) আসাদুল হাবিব দুলু, পল্লী উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক ফরহাদ হোসেন আজাদ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সহ সম্পাদক প্রকৌশলী আশরাফ উদ্দিন বকুল, নীলফামারী জেলা বিএনপির সভাপতি আ.খ.ম আলমগীর সরকার, সাধারণ সম্পাদক জহুরুল আলম, নিহত বিএনপি নেতা গোলাম রব্বীর মেয়ে রহমত জাহান রিক্তাসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। একই অনুষ্ঠানে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে নীলফামারী, পঞ্চগড় ও দিনাজপুর জেলার ১২ শহিদ পরিবারে অর্থসহযোগিতা প্রদান করা হয়। প্রতি পরিবারকে সহযোগিতা প্রদান করা হয়েছে ৫০ হাজার টাকা করে।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ১৫ জানুয়ারী ভোরে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার ঠনঠনিয়া গ্রাামের মামা আলি হোসেন ও মিয়া হোসেনের বাড়ি থেকে গোলাম রব্বানীকে তুলে নিয়ে যায় র‌্যাব। এরপর ওই বছরের ১৮ জানুয়ারী সকাল সাতটায় নীলফামারী সদর উপজেলার পলাশবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের অদূরে নীলফামারী-ডোমার সড়কে গোচামারী ব্রীজের পাশ থেকে তার গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার হয়। নিহত গোলাম রব্বানী নীলফামারী সদর উপজেলার লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

আর্কাইভ