
সিসি নিউজ।। নীলফামারীর সৈয়দপুরে নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণের ৯ দিন পর নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও এলাকা থেকে উদ্ধার করেছে র্যাব। একই সাথে ঘটনায় প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
আজ শনিবার র্যাব-১৩ রংপুরের সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া সুমন আলী (২০) সৈয়দপুর উপজেলার পশ্চিম বেলপুকুর ডাঙ্গাপাড়া এলাকার সফর উদ্দিন ওরফে শাহ আলীর ছেলে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উদ্ধার হওয়া ছাত্রী সৈয়দপুর থানাধীন শিপাইগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসার পথে সুমন আলী দীর্ঘদিন ধরে তাকে প্রেম ও বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে উত্ত্যক্ত করতেন। প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় বিভিন্ন সময় অপহরণের হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানালে ছাত্রীর বাবা অভিযুক্তকে সতর্ক করেন। তবে সতর্ক করার পরও সে তার কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে থাকে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ৭ মে দুপুরে বাড়ি ফেরার পথে পূর্বপরিকল্পিতভাবে সুমন আলী ও তার সহযোগীরা ওই স্কুলছাত্রীকে জোরপূর্বক একটি মাইক্রোবাসে তুলে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। পরে বিভিন্ন সূত্রে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, মেয়েটি অভিযুক্তের বাড়িতে রয়েছে। তাকে উদ্ধারের জন্য সেখানে গেলে অভিযুক্ত ও তার সহযোগীরা ভয়ভীতি দেখিয়ে পরিবারের সদস্যদের বাড়ি থেকে বের করে দেয়।
এ ঘটনায় গত ১১ মে ছাত্রীর বাবা এনামুল হক বাদী হয়ে সৈয়দপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তরা আত্মগোপনে চলে যায়। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১৩ সিপিএসসি রংপুর এবং র্যাব-১১ সিপিএসসি নারায়ণগঞ্জের একটি দল যৌথভাবে গত ১৪ মে রাতে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও থানার মদনপুর এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে প্রধান অভিযুক্ত সুমন আলীকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং অপহৃত স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়।
র্যাব-১৩ রংপুরের সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী জানান, পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রমের জন্য উদ্ধার হওয়া ছাত্রী ও গ্রেপ্তার আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, অপহরণ, হত্যা, ধর্ষণসহ সব ধরনের অপরাধ দমনে র্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে।