• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১১ অপরাহ্ন |

এএসআই নিয়োগ পরীক্ষায় সৈয়দপুরের মূলহোতাসহ দালালচক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার

সিসি নিউজ ডেস্ক।। ক্যাডেট এএসআই (নিরস্ত্র) পদে সরাসরি শারীরিক পরীক্ষায় অংশ না নিয়েও ভুয়া প্রবেশপত্র নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে ঢুকেছিলেন এক তরুণ। তবে শেষ রক্ষা হয়নি, কেন্দ্রের ‘ফেস ডিটেকশন’ পয়েন্টেই ধরা পড়ে যান তিনি। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নীলফামারী, রংপুর ও ঢাকা থেকে উন্মোচিত হয় ১৭ লাখ টাকার চুক্তি করা এক বিশাল জালিয়াতি চক্রের সন্ধান।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) রংপুর পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এ চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। এ সময় তাদের কাছ থেকে জাল প্রবেশপত্র, টাকা লেনদেনের স্ক্রিনশট ও একাধিক ডিজিটাল ডিভাইস উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, মো. আশরাফুল ইসলাম (২১) মূল ভুয়া পরীক্ষার্থী (ঠাকুরগাঁও), মো. তাজমিলুর রহমান (১৯) আশরাফুলের হয়ে প্রক্সি দিতে আসা সহযোগী (দিনাজপুর), মো. বাদশা মাসউদ আলম (৪৮) রংপুর ফায়ার সার্ভিসের ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর, মো. নুরুল ইসলাম (৪৬) চক্রের অন্যতম মূলহোতা (নীলফামারী)।

জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হকের দিকনির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস)-এর তত্ত্বাবধানে ডিবি পুলিশ কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করছিল। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে জাল প্রবেশপত্র নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশের চেষ্টা চালান আশরাফুল। ফেস ডিটেকশন পয়েন্টে সন্দেহ হলে তাকে একাডেমিক ভবনে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, আশরাফুল শারীরিক পরীক্ষায় অংশ নেননি। ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা বাদশা মাসউদ আলম ও নুরুল ইসলামের সাথে পরিচয়ের সূত্রে আশরাফুলের বাবার সাথে ১৭ লাখ টাকার বিনিময়ে ক্যাডেট এএসআই পদে চাকরি দেওয়ার চুক্তি হয়। চুক্তির অংশ হিসেবে ব্যাংকের মাধ্যমে আড়াই লাখ টাকা লেনদেনও হয়। পরবর্তীতে হোয়াটসঅ্যাপে জাল প্রবেশপত্র বানিয়ে পাঠানো হয় এবং কেন্দ্রে প্রক্সি দেওয়ার জন্য তাজমিলুরকে সাথে আনা হয়।

আশরাফুলকে গ্রেপ্তারের পর গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রংপুর শহরের জাহাজ কোম্পানি মোড় থেকে ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা বাদশা মাসউদকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। তার মোবাইল পরীক্ষা করে জালিয়াতি ও বিপুল অঙ্কের লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া যায়। পরে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি থানার সহায়তায় ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় চক্রের অপর হোতা নুরুল ইসলামকে।

সাভারের জিরাবো মডার্ন ফায়ার স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. নুরুল ইসলামের গ্রামের বাড়ি জেলা সদরের চড়াইখোলা। ইতিমধ্যে সৈয়দপুর শহরের নয়াটোলা (পশু হাসপাতালের পাশে) বহুতল ভবন নির্মান করেছেন।

ডিবি পুলিশ জানায়, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে চাকরিপ্রার্থীদের ভুয়া প্রবেশপত্র তৈরি করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিল। এছাড়া প্রতারণার কৌশল হিসেবে তারা বিভিন্ন সময়ে পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ছদ্মবেশ ধারণ করে ফোনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করত।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানায় ‘পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্সেস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬’-এর ৩/১৩ ধারা এবং পেনাল কোডের বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। চক্রের সাথে জড়িত অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ বলেন, অপরাধ দমনে রংপুর মহানগর ও জেলা পুলিশ সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

আর্কাইভ