বিশেষ প্রতিনিধি।। প্রতিদিন যে রিকশা গ্যারেজেই ঘুমান আব্দুর রহমান। সেই গ্যারেজের ভেতর খুন হন তিনি। বাইরে থেকে শাটার নামানো, তার সঙ্গে ঝুলছিল তালা। সকালে সেই তালা কেটে গ্যারেজে ঢুকে তাঁর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মাথার পেছনে অন্তত চারটি আঘাতের চিহ্ন। ভেতরে একটি লকারও ভাঙাচোরা।
তাহলে কি হত্যার পর লুটপাটের নাটক সাজানো হয়েছিল? নাকি লকার ভাঙার সঙ্গে হত্যার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে? বাইরে থেকে তালা লাগানোর উদ্দেশ্যই বা কী ছিল? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে রংপুর নগরের তাজহাট আনসারির মোড় এলাকার একটি রিকশার গ্যারেজ থেকে আব্দুর রহমানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি ওই গ্যারেজেই থাকতেন এবং রিকশাগুলোর দেখাশোনা করতেন। পুলিশ দুপুর সাড়ে ১২টার লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বুধবার রাতে গ্যারেজের শাটার নামানো ছিল। গভীর রাত পর্যন্ত বাইরে থেকে অস্বাভাবিক কিছু বোঝার উপায় ছিল না। সকালে গ্যারেজ বন্ধ দেখে স্থানীয় লোকজনের সন্দেহ হয়। তারা বাইরে থেকে ভেতরে রক্ত দেখতে পান। পরে তালা কেটে শাটার খোলা হলে ভেতরে মেঝেতে পড়ে থাকা আব্দুর রহমানের রক্তাক্ত মরদেহ দেখা যায়।
গ্যারেজসংলগ্ন বাসিন্দা হিরু মিয়া বলেন, ‘রাত ১২টার দিকে বাড়ি যখন বাড়ি ফিরি, তখন গ্যারেজের শাটার নামানো ছিল। রাতে কোনো অস্বাভাবিক শব্দও শুনতে পাইনি। সকালে চিৎকার শুনে বাইরে এসে লোকজনের ভিড় দেখতে পাই। পরে শাটারের ফাঁক দিয়ে ভেতরে রক্তাক্ত অবস্থায় রহমান মামার মরদেহ দেখতে পাই।’
রংপুর মেট্রোপলিটন তাজহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, সকাল সাড়ে আটটার দিকে গ্যারেজে একজনের লাশ পড়ে থাকার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও ক্রাইম সিনের সদস্যরাও সেখানে যান।
পুলিশের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে আব্দুর রহমানের মাথার পেছনে চারটি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। শক্ত লোহার মতো কোনো বস্তু দিয়ে আঘাত করে তাঁকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ। তবে কী এসব বিষয় ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষার পর আরও স্পষ্ট হবে।
এদিকে, আব্দুর রহমানের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও স্থানীয়দের কাছ থেকে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় দুই বছর আগে তাঁর এক স্ত্রী মারা যান। তাঁর পাঁচ স্ত্রী ছিলেন। প্রথম দুই স্ত্রীর ঘরে চার সন্তান রয়েছে। তারা আলাদা থাকেন। পরে তিনি আরও তিনটি বিয়ে করেন। তাদের মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়। এসব বিষয় নিয়ে তাঁর পারিবারিক বিরোধ ছিল।