সিসি নিউজ: ভারত সীমান্তের তারকাঁটায় জড়িয়ে ছিল শার্ট। ঠিক তার নিচে মাটিতে মুখ থুবড়েপড়ে ছিল এক হতভাগ্য যুবকের লাশ। বুধবার বিকেলে এ দৃশ্য দেখা যায়যশোরের বেনাপোল সীমান্তে। দৃশ্যটি মনে করিয়ে দেয় ফেলানীর কথা। ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার উত্তর অনন্তপুর সীমান্তে ৯৪৭নং আন্তর্জাতিক পিলারের ৩নং সাব-পিলারের পাশে যাকে গুলি করে হত্যা করেছিল বিএসএফ।
পরে অজ্ঞাত ওই যুবককের লাশ নিয়ে যায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। বুধবার রাত ৯ টার দিকে বিএসএফ ওই লাশ নিয়ে গেছে বলে নিশ্চিত করেছেন ২৬ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কমান্ডিং অফিসার জাহাঙ্গীর হোসেন।
বিজিবি ও স্থানীয়রা জানায়, বুধবার বিকাল ৫টার দিকে বেনাপোল সীমান্তের জিরো ল্ইানে ১৮-এ ৩ এস পিলারের পাশেই পেট্টাপোল বন্দর নতুন টার্মিনাল (তার কাটা বেষ্টিত) দেয়ালের পাশেই একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন মাঠে ছাগলের ঘাস কাটতে যাওয়া এক বাংলাদেশী নারী। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পায় পুলিশ ও বিজিবি। মরদেহটি দেখতে মাঠে ভিড় করেন আশপাশের এলাকার লোকজনও।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ব্যাপক নিরাপত্তা বেষ্টনিতে রয়েছে ভারতের পেট্টাপোল টার্মিনাল। তিনশতাধিক বিএসএফ দায়িত্বে রয়েছে সেখানে। টার্মিনালের প্রাচীরের উপরে তারকাঁটা দিয়ে করা হয়েছে বেড়া। বিএসএফ বা অন্য কেউ টার্মিনালের ভিতরে থাকা কোন ড্রাইভার বা হেলপারকে মেরে তারকাঁটায় ঝুলিয়ে দিতে পারে। এক পর্যায়ে তারকাঁটা থেকে পড়ে যায় মরদেহটি। ঝুঁলে থাকে নিহতের পরনের শার্ট।
বেনাপোল বিজিবি ক্যাম্প কমান্ডার নায়েক সুবেদার গিয়াস উদ্দিন বলেন, এই মুহূর্তে নিহতের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে তিনি উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন। উর্ধ্বতন কর্তকর্তারা ভারতের বিএসএফ কর্তাদের সাথে যোগাযোগ করছেন।
২৬ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কমান্ডিং অফিসার জাহাঙ্গীর হোসেন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, মৃতদেহটি পড়ে থাকার খবরে তারা বিএসএফকে খবর দেন। পরে বিএসএফ মরদেহটি নিয়ে যায়। তবে নিহত যুবকের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।