• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪৪ অপরাহ্ন |

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ব্যর্থতা, প্রশ্নফাঁস চলছেই…

।। মোঃ শমসের উদ্দিন মিস্টার ।। “এই পাইসিস রে, হ্যা পাইসি। তাই, কোন সেট? জলদি সবাইকে সেন্ট করে দে।” এ সমস্ত আলাপচারিতায় ব্যস্ত হয়ে উঠে একটি নির্দিষ্ট পরিবেশ এবং উল্লাশে ভেসে উঠে শিক্ষার্থীদের চেহারা। পরক্ষণই নিস্তব্ধতা। কিন্তু দুঃখের বিষয় এই কোমলমতি পরীক্ষার্থীরা তাদের অন্ধকার ভবিষ্যত সম্পর্কে অজানা। তারা ফুল তুলতে কাঁটা কুড়াচ্ছে। একজন শিক্ষার্থীর জীবনে সবচেয়ে উদ্বিগ্নতা, বিষন্নতা ও ভীতস্থতার দিন হচ্ছে পরীক্ষার দিন। এইদিনকে পেরুতেই যেকোন মূল্য দিতে তারা প্রস্তুত। পরীক্ষার পূর্বে প্রশ্ন পাওয়া যে একটি মহাব্যাধি। ইহা স্বীকার করলেও তারাতো স্বপ্ন দেখছে জিপিএ-৫ পাওয়ার। যেকোন মতেই এ স্বপ্ন বাস্তবায়নে তারা মরিয়া। অভিভাবকগণও তাদের সাথে তাল মিলাতে বাধ্য। নীতি বাধা দিচ্ছে, কিন্তু হৃদয় নিয়ন্ত্রণহীন। কারণ তার হৃদয়ের টুকরাও একজন পরীক্ষার্থী। তার উজ্জ্বল ভবিষ্যত বলে কথা।
গত ৪/৫ বছর ধরে প্রশ্নফাঁস ঘটনাটি যেন একটি সাধারণ ব্যাপার হয়ে উঠেছে। প্রশ্নফাঁস হওয়াটাই স্বাভাবিক। কারণ পরীক্ষা চলছে, ব্যাপারটা যেন এমনই। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরণের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলেও কোনভাবেই প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে পারছেনা প্রশাসন। প্রশাসনের কেন এ ব্যর্থতা? এর কোন জবাব নেই। চলতি এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসকারীদের ধরিয়ে দিতে পাঁচ লক্ষ টাকার ঘোষণা দিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী। হয়ত তিনি জানতেন না, বাংলার মানুষ তার নীতিতে অঢল। তারাও অসত্যতার কাজ সত্যতার সাথেই করে থাকে। উচ্চপদের অধিকারীদের নিয়ে ১১ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করার প্রথমদিনই পরীক্ষা শুরুর ২৫ মিনিট পূর্বেই বাংলা ১ম পত্রের প্রশ্নটি সামাজিক যোগাযোগে ভাইরাল হয়ে উঠে। এবং পরপর প্রতিটি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র এভাবেই পরীক্ষার্থীদের হাতে হাতে দেখা মিলেছে। কাদের মাধ্যমে পরীক্ষার্থীরা অবিকল প্রশ্ন পাচ্ছে? কোথায় থেকে ফাঁস হচ্ছে কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিনীতে রাখা এই গুরুত্বপুর্ণ দলিল? এইসব প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী ভূমিকা মূর্তির ন্যায়। হতাশা ও ব্যর্থতার চাদর তার গাঁয়ে মোড়ানো। তাঁর কাছেও কোন উত্তর নেই।
প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে যখন কোন পদক্ষেপ কাজে আসছে না তখন বিষয়টি উচ্চ আদালতে দ্বারগোড়ায় পৌছালো। গঠিত বিচারিক তদন্ত কমিটি আনুসংগিক বিষয় পর্যালোচনা করে তার সুষ্ঠ সমাধান দিতে ভূমিকা রাখবেন বলে আদালত আশাবাদী। অন্যদিকে, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র হাতে পেয়ে আংশিক প্রস্তুতি নিয়ে একজন পরীক্ষার্থী হাসিমুখে পরীক্ষার কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে আগাম জিপিএ-৫ এর ঘোষণা দিচ্ছে। পক্ষান্তরে, কঠোর পরিশ্রম করা আরেক পরীক্ষার্থী বৈষম্যের শিকার হয়ে নিজের কপাল থেকে ঘাম মুচছে।
ছোটবেলায় একটি হিন্দি মুভির ডায়ালক শুনতাম, বাচ্চা সময়মত না ঘুমালে মা বলতেন, “ সো জাও, ন্যাহি তো গাব্বার আ যায়ে গা” অর্থ্যাৎ ঘুমিয়ে পড়ো, না হলে গাব্বার (ভয়ংকর ব্যক্তি) চলে আসবে। আর বাচ্চাটি ভয়ে ঘুমিয়ে যেত। এখন মনে হয় তার উল্টো বলা হয়। গভীর রাতে বাচ্চাকে পড়ার টেবিলে দেখে অভিভাবক বলেন, “ঘুমিয়ে পড়ো! সকালে প্রশ্নপত্র চলেই আসবে।” এরকম আশ্বস্ততা কল্পনাতীত হলেও বাস্তবে রূপ নিতে সময় লাগবে না। দোষ তাদের নয়, দোষ পরিবেশের, দোষ উচ্চবিলাসীতায় ভরা স্বপ্নের। যাইহোক, পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় যারাই জড়িত আছে তাদের খুঁজে বের করে কঠোর শাস্তির আওতায় নিয়ে আশা এখন সময়ের একান্ত দাবি। কারণ বর্তমান প্রজন্মই আগামীর ভবিষ্যৎ। তাদের প্রকৃত স্বপ্নই, আগামীর বাস্তবায়নে আমাদের পথচলা।

লেখকঃ সাংস্কৃতিক সম্পাদক, অনলাইন প্রেসক্লাব, নীলফামারী।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ