• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২১ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

স্কুল যেতে চায় বাদাম বিক্রেতা বেলাল

খুরশিদ জামান কাকন : সকালের মিষ্টি আলো ফুটতে শুরু করেছে। শিক্ষার্থীরা স্কুল-কলেজ যেতে শুরু করেছে। সবার কাধে ব্যাগ। ব্যাগে ভর্তি বই। জ্ঞানের ভাণ্ডার সমৃদ্ধ ও লুকায়িত প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে বেশ অনুরাগ দেখা গেলো তাদের। তবে ব্যতিক্রম পাওয়া গেলো একটি শিশুকে। বয়স দশ-এগারো হবে।
মুখে হাসি নেই। চোখে স্বপ্ন নেই। চেহারায় কেমন জানি একটা বিষণ্ণতার ছাপ। ব্যাগের পরিবর্তে তার গলায় বাদামের ঝুলি। ‘বাদাম লাগবে…বাদাম’ এই স্বরে অনবরত ডেকে চলছে। ক্রেতার খোঁজে পথে পথে ঘুরছে। উদ্দেশ্য বাদাম বিক্রি করা। বাবা-মায়ের হাতে কিছু টাকা তুলে দেওয়া।
নীলফামারীর সৈয়দপুরের রাস্তাঘাটে এভাবেই নিত্যদিন বাদাম বিক্রি করতে দেখা যায় শিশু বেলাল হোসেনকে। সৈয়দপুর উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের মাছুয়া পাড়ার বাসিন্দা জবর আলীর সন্তান বেলাল। বাবা পেশায় একজন মাছ ব্যবসায়ী এবং মা একটি ইট ভাটার কর্মী। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে সে তৃতীয়। অভাবের সংসার। তাই বেশিদিন স্কুল যাওয়া হয়নি।
অনিচ্ছা সত্বেও স্কুল ছাড়তে হয়। বেছে নিতে হয় কর্মের জীবন। স্বপ্ন গুলোকে দিতে হয় মাটিচাপা। নির্মম বাস্তবতায় বলি হয় শৈশবের চঞ্চলতা।
বেলাল প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা বাদাম বিক্রি করে। বড়োজোর আয় হয় ২০০ থেকে ২২০ টাকা। যার পুরোটায় সে তুলে দেয় তার বাবার হাতে।
বেলাল স্বপ্ন দেখতো। সে পড়াশোনা করে একদিন বড় কোন অফিসার হবে। দেশসেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখবে। কিন্তু নিষ্ঠুর বাস্তবতায় তার সে স্বপ্নে ধরেছে আজ মরীচিকা।
বাদাম বিক্রেতা বেলাল হোসেন জানায়, ‘খুব ইচ্ছে ছিলো স্কুল যাওয়ার। বন্ধুদের সাথে খেলাধুলা করার। কিন্তু  অভাব অনটনের সংসারে ছোট্ট বেলালের কাধে যে অনেক বড় দায়িত্ব। তাই তার আর স্কুল যাওয়া হয়নি।’
বেলালের বয়সী অন্যান্য শিশুরা যখন ব্যাগ কাধে স্কুল যায়। তখন তাদের দিকে বেলাল অনেকটা আফসোসের দৃষ্টিতে তাকায়। হয়তো মুখে কিছু বলেনা। কিন্তু বুঝাই যায়। বেলালেরও স্কুল যেতে ইচ্ছে হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ