সিসি নিউজ ।। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে ও জেলা শিল্পকলা একাডেমির ব্যবস্থাপনায় নীলফামারীর সৈয়দপুর গোলাহট বধ্যভূমিতে নাটক “বধ্যভূমির শহর” মঞ্চায়ন হয়েছে। রোববার সন্ধায় বধ্যভূমির স্থান শহরের গোলাহাটে নাটকটি মঞ্চায়ন হয়। মুজিবশতবর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় নাটকটি রচনা ও নির্দেশনা প্রদান করেন দেবাশীষ ঘোষ। এতে স্থানীয় ৩০০ শিল্পী অভিনয় করেন।
১৯৭১ সালে এ শহরের গোলাহাট বধ্যভূমিতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী দ্বারা সংঘটিত নারকীয় হত্যা কান্ডের সত্য অবলম্বনে নাটকটি মঞ্চস্থ হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাংসদ আসাদুজ্জামান নূর। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মোখলেছুর রহমান, নীলফামারী সদর পৌরমেয়র দেওয়ান কামাল আহমেদ, সৈয়দপুর উপজেলা চেয়ারম্যান মোখছেদুল মোমিন, সৈয়দপুর পৌরমেয়র রাফিকা আক্তার জাহান বেবী প্রমূখ।
সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ও জেলা শিল্পকলা একাডেমির সভাপতি মো: হাফিজুর রহমান চৌধুরী। এ সময় স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। জানা যায়,বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে সৈয়দপুর জনপদের প্রেক্ষাপট একেবারেই ভিন্ন। অবাঙালি-অধ্যুষিত নীলফামারীর সৈয়দপুরে যুদ্ধের নয় মাসে রচিত হয়েছে গণহত্যার অমানবিক-পৈশাচিক এবং নির্লজ্জ মিথ্যাচারের এক করুণ কাব্য গাঁথা। অবাঙালি এবং পাকিস্তানী সেনাদের যৌথ অত্যাচার আর হত্যার হোলিখেলার ইতিহাসের চিহ্ন আজও এ শহরে বিদ্যমান। স্বাধীনতা যুদ্ধের শুরুর দুইদিন পূর্বেই এখানে যেমন যুদ্ধ শুরু হয় ঠিক তেমনি বিজয়ের দুইদিন পর সৈয়দপুর স্বাধীন হয়। ২৩ মার্চ সম্মুখ যুদ্ধে প্রথম শহীদ হন মাহতাব বেগ । অবাঙালিরা তাঁর মাথা ছিন্ন করে শহর প্রদক্ষিণ করে। পাকিস্তানি হানাদাররা ডাঃ জিকরুল হক, শামসুল হক, জহুরুল হক, আমিনুল হক সহ রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিদেরকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে গিয়ে হত্যা করে। “বধ্যভূমির শহর” নাটকে এই নয় মাসের পৈশাচিক হত্যার খন্ড খন্ড ঘটনা উঠে এসেছে। প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, নাটকটি দেখে নতুন প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধে ঘটে যাওয়া ঘটনা সম্পর্কে ধারনা পাবে।