• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০২ অপরাহ্ন |

সোমবার থেকে রাত ৮টার পর দোকান-মার্কেট বন্ধ

সিসি নিউজ ডেস্ক।। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা মেনে সোমবার (২০ জুন) রাত ৮টার পর থেকে সারা দেশে দোকান, বিপণি-বিতান, মার্কেট ও মুদি দোকান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তবে কাঁচাবাজার রাত ৮টার পরও খোলা থাকবে।

আজ রোববার শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রনালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা আক্তারুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বৈঠকে সোমবার থেকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে রাত ৮টার পর সারা দেশে দোকান, বিপণি-বিতান, মার্কেট ও মুদি দোকান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তখন কাঁচাবাজার রাত ৮টার পরও খোলা থাকবে।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, এমপ্লয়িজ ফেডারেশন, এফবিসিসিআই, এমসিসিআই, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি, ঢাকা চেম্বারসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী মালিক সংগঠন, শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বাণিজ্য, বিদ্যুৎ, শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা।

বৈঠক শেষে প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী রাত ৮টার পর দোকানপাট বন্ধের নির্দেশনা ইতিমধ্যে দিয়েছেন। সেটা আগামীকাল সোমবার থেকে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত ১৬ জুন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসন) মো. আহসান কিবরিয়া সিদ্দিকি স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বলা হয়, ‘বিশ্বব্যাপী জ্বালানির অব্যাহত মূল্যবৃদ্ধিজনিত বিদ্যমান পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের নিমিত্তে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সানুগ্রহ নির্দেশনা প্রদান করেছেন। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ এর ১১৪ ধারার বিধান কঠোরভাবে প্রতিপালনপূর্বক সারা দেশে রাত ৮টার পর দোকান, শপিংমল, মার্কেট, বিপণি বিতান, কাঁচা বাজার ইত্যাদি খোলা না রাখার বিষয়টি যথাযথভাবে নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।’

গত ১৬ মে এক অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস রাজধানীতে সার্বিক শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং সড়কে যানজট নিরসনে জরুরি পরিষেবা ছাড়া রাত ৮টার পর সব দোকানপাট, শপিং মল বন্ধের কথা বলেছিলেন।

এরপর ১০ জুন এক অনুষ্ঠানে মেয়র তাপস বলেন, আগামী ১ জুলাই থেকে ঢাকা শহর রাত ৮টার পর বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে রেস্তোরাঁ ও অত্যাবশ্যকীয় যে বিষয়গুলো রয়েছে সেগুলো নির্দিষ্ট সময়ের জন্য খোলা থাকবে বলেও জানান মেয়র।

রাত ৮টার পর যেসব প্রতিষ্ঠান খোলা রাখা যাবে:

  • ডক, জেটি, স্টেশন, বিমানবন্দর এবং পরিবহন সার্ভিস টার্মিনাল অফিস।
  • তরিতরকারি, মাছ, মাংস, দুগ্ধজাতীয় সামগ্রী, রুটি, পেস্ট্রি, মিষ্টি এবং ফুল বিক্রির দোকান।
  • ওষুধ, অপারেশন সরঞ্জাম, ব্যান্ডেজ অথবা চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সামগ্রীর দোকান।
  • দাফন ও অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পাদনের জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিক্রির দোকান।
  • তামাক, সিগারেট, পান-বিড়ি, বরফ, খবরের কাগজ, সাময়িকী বিক্রির দোকান এবং দোকানে বসে খাওয়ার (হালকা) নাশতা বিক্রির খুচরা দোকান।
  • খুচরা, পেট্রল বিক্রির জন্য পেট্রলপাম্প এবং মেরামত কারখানা নয় এমন মোটরগাড়ির সার্ভিস স্টেশন।
  • নরসুন্দর এবং কেশ প্রসাধনীর দোকান।
  • যেকোনো ময়লা নিষ্কাশনকারী প্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র।
  • যেকোনো শিল্প, ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠান যা জনগণকে শক্তি আলো অথবা পানি সরবরাহ করে এমন প্রতিষ্ঠান।
  • ক্লাব, হোটেল, রেস্তোরাঁ, খাবার দোকান, সিনেমা অথবা থিয়েটার।

তবে শর্ত থাকে যে, একই দোকানে অথবা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে যদি একাধিক ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালিত হয় এবং অধিকাংশ তাদের প্রকৃতির কারণে এই ধারার অধীন অব্যাহতি পাওয়ার যোগ্য হয়, তাহলে সমগ্র দোকান বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানটির ক্ষেত্রে উক্ত রূপ অব্যাহতি প্রযোজ্য হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ