• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৩২ অপরাহ্ন |

নীলফামারীতে যুবলীগ নেতা হত্যাকান্ডের বিচার দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশে

সিসি নিউজ ।। নীলফামারীতে ৪৭ বছর পর তৎকালীন মহকুমা যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ইয়াকুব আলী হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে ।
জেলা যুবলীগের আয়োজনে বুধবার বেলা ১২টার দিকে শহরের চৌরঙ্গী মোড়ে বৃষ্টিতে ভিজে দুই ঘন্টার ওই মানবন্ধন সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতা দেন নীলফামারী-২ আসনের সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূর।
এসময় তিনি বলেন,‘বাংলাদেশ বহুদিন উল্টো পথে হেঁটেছে। আমরা যে ভাবধারা পরিত্যাগ করেছিলাম, যে পাকিস্থানের সঙ্গে যুদ্ধ করে তাদেরকে পরাজিত করে যে স্বাধীনতা অর্জণ করেছিলাম, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে সে পাকিস্থানী ভাবধারাকে তারা আবার ফিরিয়ে আনার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছিল।’
তিনি বলেন, ‘আগস্ট মাসটা আমাদের জন্য, বাঙ্গালী জাতির জন্য একটি বেদনার মাস। কষ্টের মাস, হারানোর মাস। এই মাসে বাঙ্গলী জাতির যে ক্ষতি হয়েছিল, সেই ক্ষতি কোনদিনই পূরণ হবার কথা না। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারী দেশে ফিরে এসে একটি ধ্বংসস্তুপের বাংলাদেশটাকে গড়ে তোলার বিপুল কর্মযজ্ঞে নিজেকে নিয়োজিত করেছিলেন। যে কারণে স্বাধীনতার শত্রুরা তাঁকে হত্যা করতে উঠেপড়ে লেগেছিল এবং তারা সক্ষম হয়েছিল। সেই আগস্ট মাসের ২১ তারিখে বঙ্গবন্ধুর কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা করবার জন্য গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়েছিল। সেখানে আমাদের প্রাক্তন মাননীয় রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী নারী নেত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন নেতাকর্মী নিহত হন। ওই আগস্ট মাসেই আমরা নীলফামারীতেও অত্যন্ত একজন সাহসী এবং সংগ্রামী নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ইয়াকুব আলীকেও হারিয়েছি।’
বীর মুক্তিযোদ্ধা ইয়াকুব আলীর হত্যার বিচার দাবি করে তিনি বলেন,‘১৯৭৫ সালে যে হত্যা মামলাটি করা হয়েছিল, সেই মামলাটি যেন আবার শুরু করা হয়। আমার জানামতে, এই ধরণের মামলা কখনোই তামাদি হয়না। ১৯৪৬ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যারা অপরাধ করেছিল তাদের খুঁজে খুঁজে বের করে এখনও শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। যারা মানুষ হত্যার সাথে জড়িত, যারা ধর্ষণের সাথে জড়িত, সেইসব খুনিদের পৃথিবীর কোথাও কোন দিন মাফ করা হয় না। এমন কি মৃত্যুর পরেও বিচার করে শাস্তি প্রদান করা হয়েছে। সমাজকে দেশকে জানানোর জন্য যে, অপরাধ করলে তার শাস্তি একদিন না একদিন পেতেই হবে। ইয়াকুবকে হত্যা করে যারা অপরাধ করেছে, তারা স্বাধীনতার পিক্ষে কাজ করেছে। সে ব্যক্তি স্বাধীনতার পক্ষের লোক হতে পারে না। সে কোন দলের ছাপ নিয়ে আছে আমি জানি না। সে যে দলের ছাপ নিয়ে থাকুক তার বিচার অবশ্যই হতে হবে।’
সমাবেশে জেলা যুবলীগের সহসভাপতি সুধীর চন্দ্র রায়ের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা দেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দেওয়ান কামাল আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক মমতাজুল হক, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুজার রহমান, জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহিদ মাহমুদ, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মসফিকুল ইসলাম রিন্টু, সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসেন মুন, জেলা যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাফর সাদেক তুহীন, সদর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি প্রনবানন্দ রায় রাখাল, জেলা যুব মহিলালীগের সভাপতি শান্তনা চক্রবর্তী, সাধারণ সম্পাদক ইসরাত জাহান পল্লবী, বীর মুক্তিযোদ্ধা ইয়াকুব আলীর সন্তান জেলা সেচ্ছাসেব লীগের সভাতি মো. কামরুজ্জামান কামরুল প্রমুখ।
জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহিদ মাহমুদ জানান, ১৯৭৫ সালের ৩১ আগস্ট সে সময়ের মহকুমা শহরে অবস্থিত নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আততায়ীর গুলিতে নিহত হন মহকুমা যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ইয়াকুব আলী। সে সময়ে মামলা হলেও বিচারবিহীন ভাবে কেটে যায় ৪৭ বছর।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ