• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১৩ অপরাহ্ন |

চিরিরবন্দরে স্কুলছাত্র মিরাজ হত্যাকান্ডের ঘটনায় দুই বন্ধু গ্রেফতার

মানিক হোসেন, চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) ।। এক বছর পূর্বে ৩ হাজার টাকা লেনদেনের জেরে দুই বন্ধু মিলে হত্যা করেছে মিরাজকে। এ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ আসিফ ইসলাম (১৬) ও লিটন ইসলাম (১৬) নামের ওই দুই বন্ধুকে আজ বুধবার গ্রেফতার করেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চিরিরবন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. বজলুর রশিদ।

গ্রেফতারকৃত আসিফ ইসলাম উপজেলার নশরতপুর ইউনিয়নের নদীরপাড় গ্রামের মোঃ হবিবর রহমানের ছেলে এবং লিটন ইসলাম একই ইউনিয়নের রাণীপুর গ্রামের মুন্সিপাড়ার নজরুল ইসলামের ছেলে।

এর আগে হত্যাকান্ডের এ ঘটনায় বুধবার নিহত মিরাজের বাবা মোঃ আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১ বছর পূর্বে নিহত মিরাজ আসামী আসিফ ইসলামের নিকট ৩ হাজার টাকা ধার নেওয়া নিয়ে মনোমালিন্য শুরু হয়। র্পূব পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গত ১৪ মার্চ অনুমান রাত ৯টার দিকে আসামী আসিফ তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন দিয়ে মিরাজকে কৌশলে ডেকে নিয়ে নিহত মিরাজের বাই সাইকেল যোগে তিনজন ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা করে।

এ সময় রাত সাড়ে ৯টার দিকে বা মধ্যবর্তী সময়ে ঘটনাস্থলে যায় এবং নির্জনতা নিশ্চিত করে আসিফ আলীর নির্দেশে লিটন পেছন থেকে মিরাজের গলায় ছোড়া দিয়ে আঘাত করে। সে সময় মিরাজ সাইকেল থেকে মাটিতে পড়ে গেলে মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য লিটন ইসলাম গলায় ছোড়া দিয়ে পূনরায়েআঘাত করে। এর পরে মৃত্যু নিশ্চিত হলে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ছোড়াটি পাশের ভূট্টা ক্ষেতে ছুড়ে মারে এবং ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। তাদের পরিহিত কাপড় চোপড় খুলে খালি গায়ে রাতের অন্ধকারে গ্রামের পথটুকু পার হয় এবং বাড়ির পাশে ময়লার স্তুপে ফেলে দেয়। নিহত মিরাজের মোবাইল ফোনটি বন্ধ করে আসিফ ইসলাম তার বাড়িতে রেখে দেয়।

স্থানীরা জানায়, রাত সাড়ে ১১টার দিকে মঙ্গলবার উদ্ধার করা হয় কিশোর মিরাজুলের মরদেহ। আলোকডিহি ইউনিয়নের গছাহার গ্রামের আইজুল মেম্বারপাড়া এলাকায় রাত ১০টার দিকে এক পথচারী তার গলাকাটা মরদেহ দেখে। খবর পেয়ে পুলিশ রাতে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বুধবার সকালে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল হাসপাতালে পাঠায়। পরে ময়না তদন্ত শেষে ওই দিন বিকেলে লাশ পরিবারের হন্তান্তর করলে পারিবারিক কবরস্থানে নিহত মিরাজের দাফন সম্পূন্ন করা হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

আর্কাইভ