সিসি নিউজ।। খাদ্যগুদামে পড়ে থাকা দুস্থ অসহায় মানুষের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ঈদ উপহার ভিজিএফের চাল বিতরন করা হয়েছে। সাড়ে ৮ মেট্রিক টন চাল খাদ্যগুদামে বিতরণ না করে তা বিক্রির উদ্দেশ্য তা সরকারি খাদ্যগুদামে মজুদ করে রাখেন ইউপি চেয়ারম্যান। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রকৃত সুস্থদের মাঝে বিতরণ করা হয়। ঘটনাটি ঘটেছে আজ বুধবার নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নে।
সৈয়দপুর খাদ্যগুদাম সূত্রে জানা যায়, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বোতলাগাড়ি ইউনিয়নে ভিজিএফের ৫ হাজার ২১৩টি কার্ডের বিপরীতে ৫২ হাজার ১৩০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয় উপজেলা প্রসাশন। এর মধ্যে গত সোম ও মঙ্গলবার বিতরণের উদ্দেশ্যে সাড়ে ৮ মেট্রিক টন চাল খাদ্যগুদামে রেখে বাকি চাল তুলে নেন ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান জুন। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও গুদামে রাখা অবশিষ্ট চাল না তোলায় খাদ্যগুদাম কর্তৃপক্ষ ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান জুনকে তাগাদা দেন। এরই মধ্য গত মঙ্গলবার বিকেলে জনৈক ব্যবসায়ী চাল উত্তোলের খাদ্যগুদামে যান। তিনি জানান, ওই চাল তার কাছে বিক্রি করা হয়েছে। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে সেখানে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোখছেদুল মোমিন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফয়সাল রায়হানসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত হলে জনৈক ব্যবসায়ী কৌশলে কেটে পড়েন। এরপর ওই চাল খাদ্যগুদাম থেকে তুলে প্রশাসন উপজেলা পরিষদের চেয়াম্যানের সহযোগিতায় প্রকৃত ৮১০ জন দুস্থের মাঝে বিতরণ করা হয়। বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা রাশেদুজ্জামান। এছাড়া ট্যাগ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান, উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক নাজমুন নাহার চৌধুরী, বোতলাগাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক গোলাম রব্বানী ও বোতলাগাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল মালেক। ট্যাগ কর্মকর্তারা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অপরাগতা প্রকাশ করেন।
চাল নিতে আসা ওই ইউনিয়নের বাসিন্দা শহানাজ পারভীন, জোবেদা বেগম, আনোয়ার হোসেনলসহ অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, আমরা সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যানের কাছে বার বার ধর্ণা দিয়েও স্লিপ পাইনি। অথচ পরে শুনি এতগুলো চাল বিতরণ না করেই আত্মসাতের উদ্দেশে গুদামে রাখা হয়েছিল। তবে দেরিতে হলেও চাল পেয়ে আমরা খুশি।
সৈয়দপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোখছেদুল মোমিন বলেন, চাল বিতরণের প্রথম দিনে ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান জুন প্রকৃত দুস্থদের না দিয়ে দুই শতাধিক ভিজিএফের চাল বিতরণের স্লিপ বিক্রি করে। সেই স্লিপগুলোর বিপিরীতে শিশুদের দিয়ে চাল তুলে অবৈধভাবে মজুদ করা হচ্ছিল একটি টেলিকম দোকান। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দোকানটি সীলগালা করেছে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি)। এছাড়া গত মঙ্গলবার বিকেলে মাটি খুড়ে ওই ইউনিয়নে বিতরণের জন্য ভিজিএফের চাল উদ্ধার করা হয়।
মোখছেদুল মোমিন আরও বলেন, ওই ইউপি চেয়ারম্যান দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন ধরণের অনিয়ম করে যাচ্ছে। গত বছর একই ইউনিয়নের ভিজিএফের এক ট্রাক চাল উদ্ধার করা হয় নীলফামারী সদর থেকে।
এব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান সরকার জুন বলেন, আমরা সঠিকভাবেই চাল বিতরণ করেছি। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই আমার বিরুদ্ধে নানা ধরণের ষড়যন্ত্র শুরু করে একটি পক্ষ। এটিও তাঁদের ষড়যন্ত্রেরই একটি অংশ।
সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্রতা ফয়সাল রায়হান বলেন, খাদ্যগুদামে রাখা চালের বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। এর সাথে খাদ্যগুদামের কর্মকর্তাও জড়িত কিনা সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তে যদি কেউ দোষী প্রমানিত হন তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।