সিসি নিউজ।। নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বাল্যবিয়ের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক স্কুল ছাত্রী। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাকে মেয়ের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে না দেওয়ার অঙ্গীকার করে একটি লিখিত মুচলেকা দেন তাঁর পরিবার।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সৈয়দপুর শহরের উপকন্ঠে ঢেলাপীর উত্তরা আবাসনের বাসিন্দা মৃত. হাসমত আলী ও রশিদা বেগম মুন্নি দম্পতির মেয়ে মীম আক্তার। মীম বেসরকারি সংস্থা পরিচালিত ওব্যাট ব্যাক টু স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী। স্কুল পড়ুয়া ওই ছাত্রীর বিয়ের বয়স না হলেও মেয়েটির বিয়ে ঠিক করেন তাঁর পরিবার। বর একই এলাকার মিলন ইসতেখার আলম ও নাহিদ পারভীন দম্পতির ছেলে ইমরান আলম মিলন। মীমের বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক করা হয় আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি।
এ উপলক্ষ্যে সৈয়দপুর শহরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে বেলা দেড়টায় প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়। স্কুলছাত্রী মীমের বিয়েতে পরিবারের পক্ষ থেকে আত্মীয়-স্বজন, পাড়া প্রতিবেশিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। তাদের মধ্যে বিলিও করা হয় আমন্ত্রণপত্র। আর স্কুল ছাত্রীর এ বাল্যবিয়ের খবরটি জানতে পারেন ওব্যাট ব্যাক টু স্কুলের প্রধান শিক্ষক তাবাসসুম আক্তার। তিনি তৎক্ষণাৎ বাল্যবিয়ের আয়োজনের বিষয়টি অবগত করেন সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে। খবর পেয়ে ইউএনও মুহাম্মদ ইসমাঈল ওই ছাত্রীর বাল্যবিয়ে বন্ধে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলেন।
সে লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় সৈয়দপুর উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নুরন্নাহার শাহ্জাদী ওব্যাট ব্যাক টু স্কুলের প্রধান শিক্ষক্ষকে নিয়ে উত্তরা আবাসনে বাসিন্দা মিম আক্তারের বাড়িতে হাজির হন। পরবর্তীতে সেখানে পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতিতে বাল্যবিয়ের কুফল সম্পর্কে তার পরিবারকে অবগত করা হয়। সেই সঙ্গে বাল্যবিয়ে যে আইনত দন্ডনীয় অপরাধ সেটিও তাদের সামনে তুলে ধরা হয়। এরপর স্কুল ছাত্রীর পরিবার তাদের মেয়েকে আর বাল্যবিয়ে অর্থাৎ তার বয়স ১৮ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে দিবেন না মর্মে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কাছে একটি লিখিত মুচলেকা প্রদান করেন।
সৈয়দপুর উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নুরুন্নহার শাহজাদী বলেন, নবম শ্রেণি পড়ুয়া ছাত্রীর বাল্যবিয়ের আয়োজনের বিষয়টি জানার পর তাদের বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারকে বাল্যবিয়ের বিষয়ে কুফল ও আইনগত বিষয়টি নিয়ে কথা বলি। পরবর্তীতে তাঁর পরিবার মেয়ের বয়স ১৮ বছর না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে দেবেন না বলে অঙ্গীকার করে আমাকে একটি লিখিত মুচলেখা প্রদান করেছেন।