জয়পুরহাট প্রতিনিধি।। নির্বাচনী মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে প্রায় ঘটছে সংঘর্ষ, হাতাহাতি, মারামারি, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়াসহ নানা ধরনের অপ্রীতিকর ঘটন। এমন অবস্থায় জয়পুরহাট সদর উপজেলার দুই চরম প্রতিদ্বন্দ্বী চেয়ারম্যান প্রার্থী একই বেঞ্চে বসে হাস্যেজ্জল কুশল বিনিময় ও চা পান করে কিছুটা সময় কাটালেন একান্ত আলাপ চারিতায়। আজ দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে চায়ের দোকানে এই ঘটানা অবাক বিস্ময়ে উপভোগ করেন উপস্থিত শতশত এলাকাবাসী।
দুই প্রতিদ্বন্দী প্রার্থী হলেন, দুই প্রভাবশালী আওয়ামীলীগ নেতা মটর সাইকেল মার্কার প্রার্থী হাসানুজ্জামান মিঠু ও ঘোড়া মার্কার প্রার্থী আনোয়ার হোসেন। প্রখর রোধ আর তাপদাহের মধ্যে যে যার মতো নির্বাচনী প্রচার-প্রচারনার এক পর্যায়ে আসেন জেলা প্রশাসনে ও নির্বাচন কার্যালয়ে। এরই এক পর্যায়ে চা পানের জন্য কিছুটা আগে-পরে ওই দুই প্রার্থী চায়ের দোকানে। এরপর হাস্যোজ্জল কুশল বিনিময় শেষে একই বেঞ্চে একই সাথে চা পান করতে করতে আন্তরিক আলাপ চারিতায় হাসি-খুশি কিছুটা সময় কাটান তারা। এমন বিরল দৃশ্য উপভোপ করেন বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা শতশত মানুষ।
দাপ্তরিক কাজে আসা জয়পুরহাট শহরের রুপনগর এলাকার রুবেল হোসেন, জেলার কালাই উপজেলার কাদিরপুর গ্রামের আব্দুর রহমান, সদর উপজেলার বেল আমলা গ্রামের খোকন মিয়া, বিষ্ণুপুর গ্রামের মোহাতাব হোসেন, পাঁচবিবি উপজেলার কড়িয়া বাজার এলাকার আফজাল হোসেনসহ উপস্থিত অনেকে জানান, তারা এমন শিষ্টাচারের দৃষ্টান্তে মুগ্ধ হয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনেচ্ছুক এক পুলিশ সদস্য জানান, ‘ ভাই আনেক দিন পর এমন চমৎকার দৃশ্য সত্যিই উপভোগ করলাম। ভোটের সময় আসলে প্রতিদ্বন্দি প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে হিংসআত্মক কর্মকান্ড মোকবেলা করতে যে খানে হিমশিম খেতে হয়, সেখানে এমন মিষ্টি-মধুর আচরন সত্যি অনুস্মরনীয়।’
এ ব্যাপারে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী হাসানুজ্জামান মিঠু জানান, ‘ আমি প্রতিদ্বন্দিতাপূর্ন নির্বাচনের মাধ্যমে টানা ২ বারের ইউপি মেম্বার হওয়ার পর টানা আবারো ২ বার চেয়ারম্যান হয়েছি সাধারন মানুষের ভালোবাসায়। এবার উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছি, স্রষ্টার ইচ্ছায় জনগনের ভালোবাসায় আবারো নির্বাচিত হতে চাই। সম্মান দেওয়ার মালিক উপরওয়ালা। আমি আমার কর্মী-সমর্থকদের অনুরোধ করেছি, কারো সাথে বিবাদে না জড়াতে।’
আরেক আওয়ামীলীগ নেতা আনোয়ার হোসেনও অনুরুপ মন্তব্য করে বলেন, ‘ এই প্রথম স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধি হতে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করছি, আশা করি কারো সাথে কোন অন্যায় আচরন হবে না।’ আগামী ২১ মে, নির্বাচন শেষে আমরা আমরাই তো।’
এই দুই নেতার রাজনেতিক শিষ্টাচারর এমন দৃষ্টান্ত অনুস্মরন করা হলে শুধু নির্বাচনকালীন সময়েই নয়, সামজে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হবে বলে মন্তব্য করেন উপস্থিত সর্বসাধারন।