সিসি নিউজ।। আগুনে পুড়ে গেছে নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের বঙ্গবন্ধু চত্বরের ট্রাফিক পুলিশ বক্স। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের সাথে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘর্ষ বাঁধে। এক সময় আন্দোলনকারীরা পুলিশ বক্সটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। দুটি মোটরসাইকেলসহ নিমিষে পুড়ে যায় বক্সটি। এতে ক্ষতি পরিমান প্রায় ১০ লাখ টাকা বলে জানান সৈয়দপুর ট্রাফিক বিভাগের পরিদর্শক মাহফুজার রহমান। এ সময় আন্দোলনকারীদের ছোড়া পাথরের আঘাতে টিআই জাকির হোসেন আহত হয়েছেন বলে জানান তিনি।
পুলিশ সূত্রমতে, নীলফামারী ও সৈয়দপুরে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের সাথে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘর্ষের ঘটনায় চারটি মামলা হয়েছে। এরমধ্যে নীলফামারী সদরে একটি ও সৈয়দপুরে তিনটি মামলা দায়ের করা হয়। এই চারটি মামলার বাদী হয়েছে পুলিশ। এসব মামলার নামীয় আসামী ১১৬ জন এবং অজ্ঞাত আসামী করা হয়েছে দুই সহস্রাধিক। বৃহস্পতিবার থেকে বুধবার পর্যন্ত এসব মামলায় পুলিশ গ্রেফতার করেছে ৫৫ আসামীকে।
নীলফামারীতে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ডাকা গত বৃহস্পতিবার কমপ্লিট সাটডাউন কর্মসূচী চলাকালে সকাল ১০টার পর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পিটিআই মোড়ে সমবেত হয় আন্দোলনকারীরা। পরে সেখান থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শহীদ মিনার চ্ত্বরে এসে ছয়টি মোটরসাইকেল ভাঙ্গচুর করে চৌরঙ্গী মোড়ের দিকে অগ্রসর হয়। এক পর্যায়ে তারা শহরের চৌরঙ্গী মোড়ের স্মৃতি অম্লান স্তম্ভ পাদদেশে এসে পুলিশ বক্স ভাংচুর করে। এরপর আন্দোলনকারীরা জেলা আওয়ামীলীগের দলীয় কার্যালয় ভাংচুর করে। খবর পেয়ে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা সড়কে নামলে আন্দোলনকারীদের সাথে সংঘর্ষ বাঁধে। এ সময় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের প্রধান ফটক ও জেলা প্রশাসকের বাস ভবনের মূল ফটক ভাংচুর করে আন্দোলনকারীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কয়েক রাউন্ড সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ারসেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
নীলফামারী সদর থানার ওসি (তদন্ত) এম আর সাঈদ জানান, ওই সংঘর্ষে ১০ পুলিশ সদস্য ও গণমাধ্যমের তিন কর্মীসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়। ওই ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে এসআই বেলাল হোসেন নিজে বাদী হয়ে ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ২০০০ থেকে ২২০০ জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় বুধবার সকাল পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
একই দিনে সৈয়দপুরে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের সাথে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘর্ষের ঘটনায় সৈয়দপুর থানায় রেলওয়ে পুলিশের পক্ষ্যে দুইটি এবং সৈয়দপুর থানা পুলিশের পক্ষ্য থেকে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ওই তিন মামলায় ১০০ জনের নাম উল্লেখসহ অসংখ্য জনকে অজ্ঞাত আসামী করা হয়েছে। এ তিন মামলায় বুধবার পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়েছে ৪৩ আসামীকে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সৈয়দপুর থানার ওসি (তদন্ত) এস এম রাসেল পারভেজ।
সূত্রমতে, কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ডাকা কমপ্লিট সাটডাউন কর্মসূচী চলাকালে সকাল ১১টার পর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সৈয়দপুর শহরের পাঁচমাথা মোড়ে সমবেত হয় আন্দোলনকারীরা। পরে সেখানে রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা তিতুমীর এক্সপ্রেস ট্রেন আটকে দেয় বিক্ষোভকারীরা। এ সময় বাঁধা দিলে সংঘর্ষ বেঁধে যায় আন্দোলনকারীদের সাথে পুলিশের। আন্দোলনকারীরা এ সময় ট্রাফিক পুলিশ বক্সে আগুন ধরিয়ে দেয়। পুড়িয়ে দেয় পুলিশের দুইটি মোটরসাইকেল। এ সময় দুই পুলিশের কর্মকর্তাসহ ১৬ জন পুলিশ এবং অর্ধশতাধিক আন্দোলনকারী আহত হয়। একই সময় আন্দোলনকারীরা রেলওয়ে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে ভাংচুর চালায়। এ সময় রেলওয়ে পুলিশের দুইটি মোটরসাইকেল আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয় এবং অপর দুইটি মোটরসাইকেল ভাংচুর করে আন্দোলনকারীরা।