• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫২ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

চট্টগ্রামে শিক্ষামন্ত্রী ও মেয়রের বাসভবনে হামলা–ভাঙচুর

সিসি নিউজ ডেস্ক।। চট্টগ্রামে কোটা সংস্কার আন্দোলন শুরুর পর থেকে সবচেয়ে বড় জমায়েত করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীরা। নগরের প্রাণকেন্দ্র নিউমার্কেট মোড় দখল করে অন্তত ১০ হাজার লোকের এই জমায়েতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অংশ নেয় বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষ। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল নগরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণকালে শিক্ষামন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়রের বাসভবন, ট্রাফিক পুলিশ বক্স, যানবাহনসহ বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙচুর হামলা ও ভাঙচুর এবং এক সংসদ সদস্যের নির্বাচনী কার্যালয়ে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে।

আজ শনিবার সন্ধ্যার আগে এই ভাঙচুর চালানো হয়। এর আগে বিকেল ৩টার দিকে নগরের নিউ মার্কেট মোড়ে ধীরে ধীরে জমায়েত হতে শুরু করে আন্দোলনকারীরা। একপর্যায়ে জনসমুদ্রে পরিণত হয় নিউমার্কেট মোড়সহ এর আশপাশ।

এ সময় আন্দোলনকারীদের স্লোগানে এলাকা উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়। আন্দোলনকারীরা তাদের সহপাঠী হত্যার বিচারের দাবিতে স্লোগান দেন।

তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন অভিভাবকরাও। এ সময় রিকশাওয়ালা থেকে শুরু করে নানা শ্রেণি-পেশার লোকজনকে আন্দোলনে আসা শিক্ষার্থীদের তালি দিয়ে সংহতি জানাতে দেখা গেছে।

পরে ৫টা ১০ মিনিটে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা দুটি ভাগে বিভক্ত হয়ে পৃথক দুটি বিক্ষোভ মিছিল নগরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

নিউমার্কেট থেকে টাইগার হয়ে যে বিক্ষোভ মিছিল চলে গেছে ওই মিছিল থেকে টাইগারপাসমোড়ে ট্রাফিক পুলিশ বক্স, ওয়াসা মোড়ে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মহিউদ্দিন বাচ্চুর নির্বাচনী কার্যালয়ে আগুন দেওয়া, সড়কে রাখা বিভিন্ন যানবাহন ভাঙচুর চালানো হয়।

এ ছাড়া বিক্ষোভ মিছিলটি নগরের ষোলোশহর দুই নম্বর গেইট মোড়ে পৌঁছালে সেখানে মূল সড়ক থেকে প্রায় আধ কিমি. দূরে থাকা চশমা হিল এলাকায় শিক্ষামন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের বাসভবনে ভাঙচুর চালানো হয়। দুষ্কৃতকারীরা সেই বাসভবনে ইটপাটকেল নিক্ষেপের পাশাপাশি ভেতরে থাকা কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর চালায়।

চট্টগ্রামের প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা ও মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরীর স্মৃতি বিজড়িত রয়েছে এ বাড়ি।

পরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বহদ্দারহাট মোড়ের দিকে চলে যায়। সেখানে মোড় থেকে ৩০০ গজ দূরে মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরীর বাসভবন লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও ভাঙচুর করা হয়।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত উপ-কমিশনার কাজী মো. তারেক আজিজ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘শিক্ষামন্ত্রীর বাসায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এরপর মেয়রের বাসভবনেও ভাঙচুর করা হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

এর আগে নগরের টাইগারপাস পুলিশ বক্সসহ বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙচুর করা হয় বলে জানান তিনি।

দুপুরে কর্মসূচি শুরু থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অবস্থান নমনীয় ছিল। নিউমার্কেটে কর্মসূচি চলাকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি দেখা যায়নি।

আন্দোলনে আসা সাইফ উদ্দিন নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে লেলিয়ে দিয়ে নিরপরাধ সহপাঠীদের হত্যা করেছে। গণমাধ্যমে এসেছে, তারা প্রাণঘাতী বুলেটেই মারা গেছেন। এত প্রাণহানির পর আমাদের দাবি মেনে নিলে কী হবে? আমরা আমাদের সহপাঠীদের ফেরত চাই।

এদিকে ছাত্র আন্দোলনকারীদের এই কর্মসূচির প্রতিবাদে সকালে নগরের বহদ্দারহাট মোড়, ওয়াসামোড়, ষোলোশহর, আগ্রাবাদসহ বিভিন্ন জায়গায় প্রতিবাস সমাবেশ করে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা কর্মীরা। তাঁরা সেখানে অবস্থানও নেন। তবে কোটা আন্দোলনকারীদের বিক্ষোভ মিছিল বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করলে তাঁদের মাঠে দেখা যায়নি।

উৎস: আজকের পত্রিকা


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

আর্কাইভ