সিসি নিউজ।। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ছাত্র-জনতার রক্ত ত্যাগের মধ্যে দিয়ে শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ থেকে পালিয়ে গেছেন। কিন্তু পালিয়ে গিয়েও খুনি হাসিনা এখন দিল্লিতে বসে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। আবার আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ১৫ আগস্ট মাঠে নেমে সহিংসতা করে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা করছে। আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে তারা যে পরিকল্পনা করছে রাজপথে থেকে সেটা প্রতিহত করা।
আজ বুধবার বেলা ১১ টার দিকে নীলফামারীর সৈয়দপুরে সাংগঠনিক জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত কর্মীসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদি ও স্বৈরাচারী আওয়ামীলীগ সরকার দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে এ দেশের মানুষের ওপর অত্যাচার নির্যাতন চালিয়েছে। মিথ্যা মামলায় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তার ছেলে তারেক জিয়াকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। আমাদের অসংখ্য নেতা-কর্মীকে হত্যা ও গুম করা হয়েছে।
নেতা কর্মীদের উদ্দেশ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, আপনারা দেখেছেন শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গতকাল দুজনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। খুনের সাথে যারা জড়িত সবাইকে গ্রেফতার করা হবে বলে আমি বিশ্বাস করি। আমাদের কাজ হলো দলকে সুসংগঠিত করে নিজেদের মধ্যে বিভেদ না রেখে ঐক্যের মধ্য দিয়ে চলা। জনগণকে সম্পৃক্ত করে ছাত্র জনতাকে সঙ্গে নিয়ে বর্তমান সরকারকে আমাদের সহায়তা করতে হবে। হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর হামলার অপপ্রচার চালিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার পায়তারা করছে। এজন্য আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। পরাজিত শক্তি যেন কোনভাবেই আমাদের বিজয়কে নস্যাৎ করতে না পারে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আমাদেরকে বজায় রাখতে হবে।
এ সময় কোটা সংস্কার আন্দোলনে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা ও যারা আহত হয়েছেন তাদের প্রতি সমবেদনা জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সৈয়দপুর জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর সরকারের সভাপতিত্বে এ কর্মীসভায় সাবেক সংসদ সদস্য বিলকিস ইসলাম, জেলা বিএনপির সহ- সভাপতি শফিকুল ইসলাম জনি ও সুমিত কুমার আগারওয়াল, সাধারণ সম্পাদক শাহিন আকতার, সহ সাধারণ সম্পাদক এরশাদ হোসেন পাপ্পু ও সামসুল আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন প্রামানিক, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক তারিক আজিজ, জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক রুপা বেগম, উপজেলা বিএনপি সভাপতি রেজাউল করিম লোকমান, সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান কার্জন, বিএনপি নেতা শওকত হায়াৎ শাহ, শওকত চৌধুরীসহ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।