• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১৭ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

নীলফামারীতে মেয়েরা আগানুর, ছেলেরা মজেছে শাহাজাদা পাঞ্জাবিতে

সিসি নিউজ।। নীলফামারীতে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বিভিন্ন মার্কেটে শুরু হয়েছে ঈদের কেনাকাটা। এবারেও কাপড়ের দোকানগুলোতে পুরুষের চাইতে নারী ক্রেতার সমাগম বেশি লক্ষ্য করা গেছে। ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে ব্যবসায়ীরা তাদের মার্কেট ও দোকানগুলো বর্ণিল সাজে সাজিয়েছে।

এদিকে ঈদের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে ক্রেতাদের ভিড়। জেলা সদরে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত এ ভিড় থাকলেও সৈয়দপুর শহরে রাত ২টা পর্যন্ত দোকানগুলোতে থাকছে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়।

গত দু’দিন সরেজমিনে ঘুরে দেখা হয়েছে নীলফামারী শহরের পৌর সুপার মার্কেট, বড় বাজার মার্কেট, মকবুল হোসেন সুপার মার্কেট এবং সৈয়দপুর শহরের সৈয়দপুর প্লাজা, শিল্প সাহিত্য সংসদ মার্কেট, পৌর সুপার মার্কেট, পৌর কাপড় বাজার ও নিউ মার্কেট। এসব মার্কেটে কাপড়, জুতা ও কসমেটিক্স দোকানে মধ্যরাত পর্যন্ত ক্রেতা সাধারণের ভিড় চোখে পড়ার মতো।

পাশাপাশি ফুটপাতের মৌসুমি ও ভ্রাম্যমাণ দোকানেও নিম্নবিত্ত মানুষদের আনাগোনা বেড়েছে। রেললাইনের ধারে ও শহরের প্রধান সড়কের ফুটপাতের ওসব দোকানে চলছে বেচাকেনা। নীলফামারী পৌর মার্কেটে পরিবার নিয়ে কাপড় কিনতে আসা স্কুল শিক্ষক নাজমা আকতার জানান, ঈদের ৪-৫ দিন আগে বাজারের অতিরিক্ত ভিড় থাকে। এ ঝামেলা এড়াতে তারা আগে ভাগেই সেরে নিচ্ছেন ঈদের কেনাকাটা। পছন্দের পণ্যটি নিয়ে খুশি মনে ফিরছেন তারা। তবে ওই শিক্ষিকার অভিযোগ, এবার পোশাকের দাম তুলনামূলক গতবছরের চেয়ে অনেক বেশি।

অপরদিকে রমজানের এ সময়েই ক্রেতাদের এমন সমাগম দেখে ঈদে ভালো বিক্রির আশা করছেন বিক্রেতারা। ঈদকে ঘিরে ছেলে-মেয়েদের পোশাকের মধ্যে পাকিস্তানি ও ভারতীয় ব্র্যান্ড দখলে নিয়েছে। মেয়েদের আগানুর, কোকো, রাজবাড়ি, তাওয়াক্কাল, মাশহু, ইয়াশনা, বিনহামিদ, মাশাল, আল জোয়াব, আলিয়া কাট, নায়রা, আলিফ-লায়লা এবং ছেলেদের পোশাকের মধ্যে শাহাজাদা, বোম্বে সিল্ক, সিকুয়েন্স, সুলতান ও সুলতান কিং পাঞ্জাবি এবার বেশি সাড়া ফেলেছে বলে জানান তারা।

সৈয়দপুর শহরর শহীদ ডা. জিকরুল হক সড়কের ওমেন্স ব্র্যান্ড হাউসের স্বত্তাধিকারী আশিক হোসেন জানান, এবছর ট্রেন্ডিংয়ে শীর্ষে থাকা মেয়েদের আগানুর কোকো, তাওয়াক্কাল, মাশহু, বিনহামিদ, আল জোয়াবের চাহিদা বেশি। তাঁর দোকানে বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৫ টাকা থেকে ৩ হাজার ৫’শ টাকায়। আর ট্রেন্ডিংয়ে শীর্ষে থাকা ছেলেদের শাহাজাদা ও সিকুয়েন্স পাঞ্জাবি ১ হাজার টাকা থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকায় বিক্রির কথা জানালেন ঢাকা ফ্যাশনের স্বত্তাধিকারী নাজমুল হোসাইন মিলন।

সৈয়দপুর সুপার মার্কেটের সাজু ক্লথ স্টোরের মালিক মোহাম্মদ সাজু বলেন, এবার ক্রেতাদের চাহিদা মাথায় রেখে ভিন্ন ভিন্ন ডিজাইনের পোশাক রেখেছি। রোজার শুরু থেকে ক্রেতাদের ভিড় রয়েছে। এসব ক্রেতাদের মধ্যে ৮০ শতাংশ নারী। আশা করছি এবার বিক্রি ভালো হবে। তিনি বলেন, তাঁর দোকানে ক্রেতারা রাত ৩টা পর্যন্ত কেনাকাটা করছে।

এদিকে পোশাক ও কসমেটিক্সের পাশাপাশি বেড়েছে জুতা-স্যান্ডেলের বিক্রি। ছোট-বড় সবাই আসছেন সাধ্যের মধ্যে পছন্দমতো জুতা-স্যান্ডেল কিনতে। বাটা, লোটো, এপেক্স, বে, আফজাল সহ দামী ব্রান্ডের দোকানের পাশাপাশি ফুটপাতের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় চোখে পড়ার মতো।

নীলফামারীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহসিন জানান, ঈদকে সামনে রেখে ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা যেন নির্বিঘ্নে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে সেজন্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনী দিবা-রাত্রী সর্বদা তৎপর রয়েছে। রেলওয়ে স্টেশন, বাস টার্মিনাল ও মার্কেটগুলোর সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। চুরি, ছিনতাইসহ যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সাদা পোষাকেও পুলিশ নজরদারি করছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

আর্কাইভ