সিসি নিউজ।। নীলফামারীর উত্তরা ইপিজেডের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শ্রমিক নিহতের ঘটনায় দুইদিন বন্ধ থাকার পর বৃহস্পতিবার কার্যক্রম শুরু হয় সকলে। কারখানা চালু হওয়ায় এদিন দলবেধে কাজে যোগদেন শ্রমিকরা। শ্রমিকদের ২৩ দফা দাবি মেনে নেওয়ায় পুরনো চেহারায় ফিরেছে উত্তরা ইপিজেড। তবে সেখানে সেনাবাহিনী ও পুলিশ মোতায়েন আছে। তারা শ্রমিকদের পরিচয়পত্র যাছাবাছাই এবং সন্দেহ হলে তল্লাশি করছে।
শ্রমিকেরা কাজে যোগ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে উত্তরা ইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল জব্বার জানান, শ্রমিকদের দাবিগুলো নিয়ে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং সমস্যার সমাধান হয়েছে।
শ্রমিক ছাটাইয়ের জেরে অন্তোষ দেখা দিলে গত মঙ্গলবার ইপিজেডের এভারগ্রিন নামের একটি কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এতে বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠে শ্রমিকরা। মঙ্গলবার সকালে শ্রমিকরা কারখানায় ঢুকতে না পেরে সামনের সড়ক অবরোধ করে। এসময় তাদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘর্ষ বাধে। ওই সংঘর্ষ থামাতে যৌথবাহিনীর গুলিতে নিহত হন হাবিব ইসলাম (২১) নামের এক শ্রমিক। এসময় শ্রমিক, পুলিশ, সেনাসদস্যসহ অন্তত ২৪ জন আহত হন। ওই ঘটনার পর ইপিজেডের সকল কারখানা বন্ধ হলে বুধবার পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকে। সমস্যা নিরসনে বুধবার বেলা তিনটা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা পর্যন্ত শ্রমিক, কারখানা মালিক, বেপজা, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের নিয়ে বৈঠক হয়। বৈঠকে শ্রমিকদের ২৩ দফা দাবির বিষয়ে আলোচনা হয়। শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবিগুলো কারখানা মালিক পক্ষ মেনে নিলে বৃহস্পতিবার থেকে ইপিজেডের সকল কারখানা খোলার সিদ্ধান্ত হয়। ওই সিদ্ধান্ত মোতাবেক বৃহস্পতিবার সকালে শ্রমিকরা কাজে যোগ দেয়।
সূত্র জানায়, সৃষ্ট এ ঘটনায় শ্রমিকরা ইপিজেডের নির্বাহী পরিচালকের পদত্যাগ দাবি করেন। এছাড়া ২৩ দফার মধ্যে উল্লেখযোগ্য দাবিগুলো হলো পুরাতন শ্রমিক ছাটাই বন্ধ, নামাজের বিরতি, কোনো শ্রমিক নিজ ইচ্ছায় পদত্যাগ করলে তাকে লে অফের সুবিধা দেওয়া, কাজের লক্ষমাত্রা কমিয়ে স্বাভাবিক লক্ষমাত্রা নির্ধারণ, এক শুক্রবার ওভারটাইম করলে তাকে পরের শুক্রবার ওভারটাইমে বাধ্য না করা।
এ বিষয়ে উত্তরা ইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল জব্বার বলেন, ‘এভারগ্রিন নামে যে কারখানাটি থেকে শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনা ঘটে, সেটি ছাড়া বাকি ২৬টি কারখানা বৃহস্পতিবার সকালে খুলেছে। শ্রমিকেরা স্বতস্ফূর্তভাবে কাজে যোগ দিয়েছেন। এভারগ্রিনের কারাখানা আগামী শনিবার খুলবে। মঙ্গলবারের ঘটনায় বেপজার নির্বাহী পরিচালক (নিরাপত্তা) ঢাকাকে প্রধান করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে’। তিনি জানান, ওই ইপিজেডে ২৭টি কারখানায় প্রায় ৩৫ হাজার শ্রমিক কর্মরত আছে। আরও ছয়টি কারখানা উৎপাদনে যাওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
জেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রধান সমন্বয়কারী আব্দুল মজিদ, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির খায়রুল আনাম, সংগলশী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জিয়াউর রহমান জিয়া বলেন, ‘আমরা সকাল থেকে এখানে এসেছি। এখানে যাতে আর কোনো বিশৃঙ্খলা না হয় এ জন্য আছি। পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ স্বাভাবিক।
নীলফামারী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এম আর সাঈদ বলেন, ‘পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। কারখানার শ্রমিকেরা বৃহস্পতিবার সকালে কাজে যোগ দিয়েছেন। সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। শ্রমিক নিহতের ঘটনায় মামলা হয়নি। বিষয়টি উদ্ধর্তন কতৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সিদ্ধান্ত পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে’। অপরদিকে নিহতের পরিবারের পক্ষ্য থেকে কোন মামলা দায়ের করেনি।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জান বলেন, ‘জেলা প্রশাসন, কারখানা মালিক, বেপজা কর্তৃপক্ষ, বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের নিয়ে বুধবার রাতে সভা হয়। শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবিগুলোর বেশিরভাগ কারখানা মালিকরা মেনে নেওয়ায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ইপিজেডের কারখানাগুলো খুলেছে। শ্রমিকরা কাজে যোগ দিয়েছেন। এভারগ্রিন শনিবার খুলবে। ইপিজেডের পরিবেশ এখন সম্পূর্ণ স্বাভাবিক আছে’।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি এভারগ্রিনের ৫১ শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়। এতে শ্রমিক অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। ওই পরিস্থিতর মধ্যে গত আগস্ট মাসের বেতন-ভাতা পরিশোধ না করে মঙ্গলবার কারখানা বন্ধ করে মালিক পক্ষ। এতে করে বিক্ষুদ্ধ শ্রমিকরা ইপিজেডের সামনে নীলফামারী-সৈয়দপুর সড়ক অবরোধ করে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সেখান থেকে শ্রমিকদের সরাতে গেলে সঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যৌথবাহিনী গুলি চালালে হাবিব ইসলাম নামের এক শ্রমিক নিহত হন। সে থেকে উপ্তত্ত পরিস্থিতি বিরাজ করে সেখানে। নিহত হাবিব ইকু ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি নিটিং কারখানার রাত্রীকালীন শ্রমিক। জেলা সদরের সংগলশী ইউনিয়নের কাজীরহাট মাছিরচাক গ্রামের দুলাল হোসেনের ছেলে।