• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২১ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

ফলোআপ।। সৈয়দপুর থানায় জব্দ মোটরসাইকেল বাইরে বিক্রির চেষ্টা: পুলিশের দাবি চুরি

সিসি নিউজ।। নীলফামারীর সৈয়দপুর থানায় জব্দ মোটরসাইকেল বাইরে বিক্রির চেষ্টার ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। এতে ওই মোটরসাইকেলটি এক সপ্তাহ আগে থানায় ‘বড়খানার রাতে’ চুরির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। থানার সম্পত্তি রেজিস্টারের দায়িত্বে থাকা পুলিশ উপ-পরিদর্শক (এসআই) হৃষিকেশ চন্দ্র বর্মন নিজে বাদী হয়ে বুধবার রাতে উদ্ধারের পর মামলাটি রুজু করেন।

এদিকে মামলায় মোটরসাইকেল উদ্ধারের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। অথচ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে আসামীর বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা রুজু করতঃ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনে করতে আবেদন করেছেন বাদী। কিন্তু ঘটনার ৪৮ ঘন্টা অতিবাহিত হলেও চোর চক্রের কোন সদস্যকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়নি পুলিশ। সম্পত্তি রেজিস্টারের দায়িত্বে থাকা পুলিশের উপ-পরিদর্শকের দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ করছে সুশীল সমাজ।

সূত্র মতে, গত ২৯ মে রাতে সৈয়দপুর শহরের কয়ানিজপাড়ার ফারুক হোসেন ও মুক্তা বানু দম্পতির বাড়িতে যৌথবাহিনী অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে মাদকদ্রব্যসহ দুটি মোবাইল ফোন, নগদ অর্থ ও একটি মোটরসাইকেল জব্দ করে পুলিশ। গ্রেফতার করা হয় মাদক ব্যবসায়ী দম্পতিকে। ঘটনার প্রায় ৫ মাস পর বুধবার (২২ অক্টোবর) রাতে জব্দ করা সেই মোটরসাইকেলটি থানার বাইরে বিক্রির চেষ্টা করে একটি চক্র। পরে মোটরসাইকেলের প্রকৃত মালিকের স্বজনদের সহায়তায় রাত ৮টার দিকে উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের ধলাগাছ এলাকার পশ্চিমপাড়া থেকে সেটি উদ্ধার করে ফের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

মাদক মামলায় আটক মুক্তা বানুর ভাই আতিক হাসান বলেন, আমার বোন ও তার স্বামী ফারুক হোসেনকে যৌথবাহিনী মাদকসহ আটক করে। তখন তাদের মোটরসাইকেলটি জব্দ করে থানায় নেওয়া হয়। বুধবার রাতে একজন ফোনে জানায়, মোটরসাইকেলটি থানার প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরে মতির মোড়ে বিক্রি করার চেষ্টা হচ্ছে। আমি গিয়ে কাগজপত্র মিলিয়ে দেখি সেটি আমার বোন–জামাইয়ের। কৌশলে নিজেই কেনার কথা বলে চক্রের সদস্য শাহিন হোসেনকে (২৬) বাড়িতে ডেকে আনি। বিষয়টি সে আঁচ করতে পেয়ে মোটরসাইকেল রেখে সে পালিয়ে যায়। এরপর পুলিশকে খবর দিলে তারা এসে মোটরসাইকেলটি থানায় নিয়ে যায়। শাহিন উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের বাগডোকরা গ্রামের রবি মিয়ার ছেলে।

সৈয়দপুর শহরের বাসিন্দা এহতেশামুল হক সানি বলেন, থানার মালখানায় মোটরসাইকেলটি থাকার কথা। সেটি থানার বাইরে এনে বিক্রির চেষ্টার সময় পাওয়া গেল, এটা প্রশাসনের দুর্বলতা এবং দায়িত্বে থাকা পুলিশের উপ-পরিদর্শকের কর্তব্যে অবহেলা। তিনি বলেন, যদি এটি চুরি হয়ে থাকে তাহলে থানার সিসি ক্যামেরা কিংবা থানার সামনের সড়কের সিসি ক্যামেরা পর্যবেক্ষণ করে চোরকে সনাক্ত করার চেষ্টা আদৌ কি করা হয়েছে? মালখানা থেকে একটি আস্ত মোটরসাইকেল যদি চুরি হয়, তাহলে অন্যান্য সামগ্রী থানা হেফাজতে সঠিক ভাবে রয়েছে কিনা তা তদন্তের দাবি করছি।

থানার সম্পত্তি রেজিস্টারের দায়িত্বে থাকা পুলিশ উপ-পরিদর্শক (এসআই) হৃষিকেশ চন্দ্র বর্মন জানান, গত ১৫ অক্টোবর রাতে থানায় বড়খানার আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে থানা-ফাঁড়ির পুলিশ অফিসার-সদস্যরা খাওয়া-দাওয়া করেন। সে সময় ডেকারেটর ও থানায় আগত বাইরে লোকজনের আনাগোনা ছিল। পরদিন ভোরে থানায় জব্দকৃত মালামাল পরিদর্শন করতে গিয়ে রেজিস্টারের পিআরএসএল নং ৯৬/২৫, মামলা নং ১৮ (তারিখ ৩০/০৫/২০২৫) এর আলামতকৃত রেজিস্ট্রেশন বিহীন নেভি ব্লু রংয়ের ১৩৫ সিসি মোটরসাইকেলটি পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, রাতের মধ্যে অজ্ঞাত চোরেরা তা চুরি করে নিয়ে যায়। বিষয়টি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে জিডি নোট করে খোয়া যাওয়া মোটরসাইকেলটি উদ্ধারে চেষ্টা করি।

এ বিষয়ে সৈয়দপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, চুরির সাত দিন পর মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়। ডেকারেটরের লোকজন এ ঘটনার সাথে জড়িত রয়েছে বলে তিনি ধারনা করছেন। তিনি বলেন, ওইদিন রাতে থানার সিসি ক্যামেরাগুলো যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। তবে মোটরসাইকেল চুরির সাথে জড়িতদের সনাক্ত করা গেছে। কিন্তু আসামীরা আত্মগোপনে থাকার কারণে গ্রেফতারে বিলম্ব হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

আর্কাইভ