• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০১ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

‘আগামী দিনের রাজনীতি হবে রাষ্ট্র গঠনের রাজনীতি’- নীলফামারীতে তারেক রহমান

সিসি নিউজ।। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন,‘আগামী দিনে রাজনীতি হবে দেশ পুণগঠনের রাজনীতি। আগামী দিনের রাজনীতি হবে রাষ্ট্র গঠনের রাজনীতি। আমরা মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃষ্টান সকলকে সাথে নিয়ে আমাদের দেশ গঠন করতে চাই। আমরা সকলকে সাথে নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে চাই। আগামী দিনে একটি মানুষকে আমরা বিবেচনা করবো তার মেধা তার যোগ্যতা দিয়ে। তার বর্ণ দিয়ে নয়, তার ধর্ম দিয়ে নয়’।

শনিবার দুপুরে নীলফামারী বড় মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি একথা বলেন। তিনি বলেন,‘বহুবছর ধরে আমরা আন্দোলন করেছি জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য। আজ সেই অধিকার ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠিত হতে চলেছে। এখন আমাদের মূল কাজ হলো দেশকে পুণগঠন করা। আমাদের লক্ষ কোটি তরুণ যারা আছে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। আমাদের কোটি কোটি শিশু যারা আছে তাদের শিক্ষার ব্যবস্থা করা। বাংলাদেশের সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ তাদের জন্য নূন্যতম চিকিৎসার ব্যবস্থা করা। বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষ তারা যাতে নিরাপদে রাস্তাঘাটে চলতে পারে, মা-বোনেরা যাতে নির্বিন্নে রাস্তায় চলাফেরা করতে পারে, যে কোন সাধারণ মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে, নিরাপদে ব্যবসা বানিজ্য করতে পারে সেই পরিবেশ আমাদেরকে তৈরী করতে হবে।

তিনি মানুষের ভোটাধিকারের আন্দোলন সংগ্রামের কথা তুলে ধরে উপস্থিত জনসাধারণের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনাদের ভোটের অধিকারকে ডাকাতি করে নিয়ে গিয়েছিল একটি দল। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করার জন্য বিএনপিসহ বহু দলের নেতাকর্মী, বহু সাধারণ মানুষ ওই স্বৈরাচারের সময় জীবন দিয়েছে। অত্যাচার নির্যাতনে স্বীকার হয়েছে, কেস কাচারীর শিকার হয়েছে, এই নীলফামারী হচ্ছে তার স্বাক্ষী। কিভাবে কতগুলো নিরীহ মানুষকে, যারা জনগণের জন্য, জনগণের ভোটের অধিকারের জন্য কথা বলেছিল সেই মানুষগুলোকে রাতের অন্ধকারে মেরে ফেলা হয়েছে এই এলাকার মানুষ স্বাক্ষী তার।

নির্বাচনকে দেশ গঠনের নির্বাচন হিসেবে চিন্তা করতে হবে উল্লেখ করে বলেন, ‘এই নির্বাচনে বাংলাদেশের মানুষ আবার ভোট দিবে, ভোট দিয়ে তাদের প্রতিনিধিকে নির্বাচিত করবে। কিন্তু শুধু ভোট দিলে চলবে না। আমাদেরকে এই নির্বাচনটাকে দেশ গঠনের নির্বাচন হিসাবে চিন্তা করতে হবে। দেশকে আমাদের গড়ে তুলতে হবে। কারণ এই দেশ যদি আমরা গড়ে তুলতে না পারি আমাদের কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। আমাদের প্রথম ঠিকানা বাংলাদেশ, শেষ ঠিকানা বাংলাদেশ’।

এলাকার উন্নয়নের কথায় বলেন ,‘এই এলাকার মানুষের কর্মসংস্থান দরকার। এই এলাকার ইপিজেডটাকে (উত্তরা ইপিজেড) আরও বড় করতে চাই। আরও কলকারখানা তৈরী করতে চাই। যাতে এই এলাকার মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়। শুধু তাই নয়, আমাদের ছেলে মেয়েদের ট্রেনিং এর জন্য এই এলাকায় বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র তৈরী করতে চাই। যেখানে এলাকার ছেলে মেয়েরা বিভিন্ন বিষয়ে ট্রেনিং গ্রহন করবে এবং দক্ষ শ্রমিকে তারা পরিণত হবে। যাতে করে তারা নিজেরা কিছু করতে পারে অথবা বিদেশে চাকুরীর ব্যবস্থা করতে পারে’।

নারীর স্বাবলম্বীর কথায় তিনি বলেন,‘১২ তারিখে ধানের শীষ জয়যুক্ত হলে আমরা এই দেশের মা-বোন এবং গৃহিনীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে চাই। আমরা প্রত্যেকটি নারীর কাছে যেই ধর্মের হোক সে যদি বাংলাদেশের একজন মা হয়ে থাকে , বাংলাদেশের একজন গৃহিনী হয়ে থাকে আমরা তার কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে চাই। এই ফ্যমিলি কার্ডের মাধ্যমে প্রত্যেকটি খেটেখাওয়া পরিবারের মা প্রতি মাসে সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা পাবে’। কৃষকদের জন্য পরিকল্পনার কথায় বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন,‘ এই এলাকা হচ্ছে কৃষি প্রধান একটি এলাকা। এলাকার বহু মানুষ কৃষিরসাথে জড়িত। এই কৃষকরা যদি ভালো থাকে, বাংলাদেশের মানুষ ভালো থাকবে। এবং কৃষকরা যাতে ভালো থাকে, তারা যাতে সহজে কৃষিজাত দ্রব্য, বীজ, সার প্রয়োজনমত পেতে পারে সেজন্য আমরা কৃষকক ভাইদেরকে কৃষি কার্ড পৌঁছে দিতে চাই। যার মাধ্যমে সহজে কৃষি ঋণ পেতে পারবে। যার মাধ্যমে সে সহজে কীটনাশক ওষুধ, বীজ, সার সহজে পাবে। শুধু তাই নয়, ১২ তারিখে বিএনপি সরকার গঠন করলে সারা বাংলাদেশে কৃষদের ১০ হাজার টাকা কৃষি ঋণ মওকুফ করবো’।

এসময় তিনি মসজিদের ঈমাম এবং অন্যান্য ধর্মের ধর্মগুরুদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সন্মানীর ব্যবস্থা করার আশ্বাস প্রদান করেন। এই এলাকাসহ রংপুর বিভাগের মানুষের প্রাণের দাবি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথায় তিনি বলেন,‘১২ তারিখের নির্বাচনে ইনশাল্লাহ বিএনপি সরকার গঠন করলে সরকারের অন্যতম কাজ হবে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা। যাতে করে এই এলাকা আবার সবুজ শষ্য শ্যামলা হয়ে উঠতে পারে। এই এলাকার খাল-বিল যাতে পানিতে ভরে যায়। মানুষের ব্যবহারের জন্য হোক, আর কৃষি কাজে ব্যবহারের জন্য হোক এই এলাকার মানুষের যেন পানির কষ্ট না হয়। সেজন্য বিএনপি সরকার গঠনের সাথে সাথে দ্রুততার সাথে আমরা তিস্তা মহা পরিকল্পনার কাজ শুরু করতে চাই’।

এসময় তিনি নীলফামারী মেডিক্যিাল কলেজের উন্নয়ন, সৈয়দপুর বিমানবন্দকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নয়ন, সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার উন্নয়নের পরিকল্পনার কথা জানান। নির্বাচনে একটি দল বিভ্রান্তি ছড়াছে উল্লেখ করে বলেন, ‘একটি দলকে আমরা খেয়াল করছি সমাজের বিভিন্ন মানুষকে তারা ভয় দেখাচ্ছে, বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে তারা। আমি তাদের উদ্দেশ্যে পরিস্কার ভাবে বলে দিতে চাই বাংলাদেশের কোন ভোটারকে যারা ভয় দেখাবে, যারা তাদেরকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করবে, কারো সাথে অন্যায় হলে আমরা সেই অন্যায়কারীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করবো’।

দেশের মালিক জনগণ উল্লেখ করে বলেন, দেশ গঠনের যে পরিকল্পনার কথা আপনাদের সামনে বললাম, সেগুলো তখনই বাস্তবায়ন সম্ভব যখন এই মাঠথরা লোক, এই শহরভরা লোক, এই সমগ্র জেলার মানুষ আমাদেরকে সমর্থন দিবে। আমি ধানের শীষের পক্ষে ভোট চাইতে এসেছি। আপনারা যদি ধানের শীষকে জয়যুক্ত করেন, আপনারা যদি ধানের শীষকে আগামী ১২ তারিখে সরকার ঘঠনের সুযোগ দেন তাহলে এই যে পরিকল্পনার কথা আমি আপনাদের সামনে তুলে ধরেছি সেই পরিকল্পনা আমরা ইনশাল্লাহ বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হবো। প্রতিপক্ষের কথায় বলেন,‘আজকে এখানে আপনাদের সামনে দাঁড়িয়ে রাজনৈতিক পতিপক্ষ সম্পর্কে অনেক কথাই বলতে পারতাম। কিন্তু ওইসব কথা বলে কি জনগণের উপকার হতো ? মানুষ জানতে চায় যে কোন রাজনৈতিক দল তাদের জন্য কি করবে। দেশ গঠনের কি কাজ করবে, মানুষের জীবনযাত্র পরিবর্তনের জন্য কি কাজ করবে। আজ বিএনপি একমাত্র দল যারা পরিস্কারভাবে দেশের মানুষের সামনে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে যে বিএনপি মা-বোনদের জন্য , নারীদের জন্য কি করবে। বিএনপি কৃষকদের জন্য কি করবে, বিএনপি তরুণ যুবকদের জন্য কি করবে, বিএনপি আগামী দিনের ভবিষ্যৎ শিশুদের জন্য শিক্ষার ব্যবস্থা কি করবে, বিএনপি এ দেশের মানুষের জন্য স্বাস্থ্য ব্যবস্থা সম্পর্কে কি করবে সকল পরিকল্পনা বিএনপি জাতির সামনে উপস্থাপন করেছে।

সব শেষে তিনি বলেন,‘ তিস্তা মহা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সময় আমি বিভিন্ন খাল খনেরর কাজ শুরু করতে চাই আপনাদেরকে সাথে নিয়ে। আমি সকলকে আমার পোশে চাই খাল খনেনর জন্য। আসুন আমরা আল্লাহর কাছে দোয়া করি যাতে আল্লাহ আমাদেরকে যে সকল পরিকল্পনা আমরা এলাকার জন্য দেশের জন্য মানুষের জন্য গ্রহন করেছি সে সকল পরিকল্পনা যাতে আমাদেরকে বাস্তবায়ন করার সুযোগ দেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মীর সেলিম ফারুক। জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ এইচ এম সাইফুল্লাহ রুবেলের সঞ্চালনায় বক্তৃতা করেন, বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল খালেক, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মো. মিজানুর রহমান, সাবেক সংসদ সদস্য বিলকিস ইসলাম, নীলফামারী- ২ সদর আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য প্রার্থী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী, নীলফামারী-৩ জলঢাকা আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য প্রার্থী সৈয়দ আলী, নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী আব্দুল গফুর সরকার, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মো. সোহেল পারভেজ, মোস্তফা হক প্রধান, রিয়াজুল ইসলাম, সদস্য আবু মোহাম্মদ সোয়েম, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আলমগীর সরকার প্রমুখ। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, সাবেক প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বোন সেলিমা ইসলাম, ভগ্নিপতি মো. রফিকুল ইসলাম।

তারেক রহমান দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের সময় হেলিকপ্টারে করে শহরের বড় মাঠ মিনি স্টেডিয়ামে নামেন। সেখান থেকে গাড়িতে করে তিনি সভাস্থলের পাশে পৌরসভা কার্যালয়ে অবস্থান করেন। দুপুর দুইটার দিকে তিনি জনসভাস্থলে আসেন। এ সময় সড়কের দুই পাশে বিএনপির নেতা-কর্মীরা তাঁকে স্বাগত জানান। দুপুর ২টা ৭ মিনিটে তারেক রহমান বক্তব্য দেওয়া শুরু করেন। ২১ মিনিট বক্তব্য দেওয়ার পর দুপুর ২টা ৪০ মিনিট তিনি হেলিকপ্টারে করে দিনাজপুর জেলার বিরামপুরের উদ্যেশ্যে রওয়ানা হয়ে যান।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

আর্কাইভ