সিসি নিউজ।। নীলফামারীতে হামের উপসর্গ নিয়ে ৬টি শিশু হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে অভিভাবকদের মধ্যে। জ্বর, কাশি ও শরীরে র্যাশ নিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়া শিশুদের নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন বিভাগে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুরে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. দেবাশীষ সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
হাসপাতালে ভর্তি শিশুদের মধ্যে রয়েছে, ডিমলা উপজেলার মিজান মিয়া (৫ মাস), সদর উপজেলার পঞ্চপুকুরের জিহাদ বাবু (২), সদর উপজেলার দেবীরডাঙ্গা কাঞ্চনপাড়ার রাইয়ান (১), আব্দুল জোবায়ের (২), মাইশা (২) এবং ডোমারের সম্রাট ইসলাম (৩)। এর মধ্যে ডিমলা ও ডোমার থেকে একজন করে এবং সদর উপজেলা থেকে চারজন শিশু ভর্তি হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত দুই দিনে এসব শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসে। সংক্রমণের আশঙ্কায় তাদের আলাদা করে আইসোলেশন বিভাগে রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট হাতে এলেই নিশ্চিত হওয়া যাবে তারা সত্যিই হামে আক্রান্ত কিনা।
শিশু জোবায়েরের মা বাবলি বেগমের কণ্ঠে ছিল আতঙ্ক আর উৎকণ্ঠা। তিনি বলেন, “প্রথমে জ্বর, পাতলা পায়খানা আর ঠান্ডা-কাশি ছিল। হাসপাতালে আনার পর বিকেলের দিকে হঠাৎ করে শরীরে র্যাশ ও ফুসকুড়ি দেখা দেয়। তখনই ডাক্তাররা হামের আশঙ্কার কথা জানান।”
এ ব্যাপারে ডা. দেবাশীষ সরকার বলেন,“বর্তমানে শিশুদের আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনীয় সব পরীক্ষা করা হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পরই নিশ্চিতভাবে বলা যাবে এটি হাম কিনা।”
এ ব্যাপারে নীলফামারী সিভিল সার্জন আব্দুর রাজ্জাক সাংবাদিকদের জানান, “হামের উপসর্গ নিয়ে ছয়টি শিশু হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছি। ইতোমধ্যে তাদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর নিশ্চিতভাবে বলা যাবে তারা হামে আক্রান্ত কিনা।
তিনি আরও বলেন, আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই, তবে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। অভিভাবকদের শিশুদের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী টিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, হামের মতো সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে টিকাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। পাশাপাশি শিশুদের জ্বর, কাশি বা শরীরে র্যাশ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।”