সিসি নিউজ।। নীলফামারীর সৈয়দপুরে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে মজুদ করে রাখা ৪ হাজার ৫০৫ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করেছে উপজেলা প্রশাসন। শুক্রবার দিবাগত রাতে শহরের বাইপাস সড়কের মেসার্স রোকেয়া এলপিজি গ্যাস ফিলিং স্টেশন সংলগ্ন গোডাউনে অভিযান চালিয়ে ওই পরিমান তেল জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত থাকায় ৭জনকে আটক করে ভ্রাম্যমান আদালতে অর্থদন্ড প্রদান করা হয়।
ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, সৈয়দপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সাব্বির হোসেন রাত ২টার দিকে ঘটনাস্থলেই আটক ব্যাক্তিদের সামনে ওই রায় প্রদান করেন। পরে জব্দকৃত মালামাল ভোর ৪টার দিকে শহরের মেসার্স সুমনা ফিলিং স্টেশনে পরিমাপ শেষে সরকারী মূল্য হিসেবে ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৪০৭ টাকায় বিক্রয় করে সরকারী কোষাগারে জমা করা হয়।
ভ্রাম্যমান আদালত সূত্র মতে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাত ১০টার দিকে পুলিশসহ অভিযানে নামেন সৈয়দপুর উপজেলা প্রশাসন। শহরের বাইপাস সড়কের ধলাগাছ মোড়ের কাছে মেসার্স রোকেয়া এলপিজি গ্যাস ফিলিং স্টেশনের গোডাউনে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় অবৈধভাবে মজুত ও ড্রামে তেল পূর্ণ করে অন্যত্র সরানোর কাজে জড়িত ৭ জনকে আটক করে। জব্দ করা হয় ৩ হাজার ৯১৭ লিটার পেট্রোল, ৩৩৮ লিটার ডিজেল ও ২৫০ লিটার অকটেন।
আটক ব্যাক্তিরা হলেন মেসার্স রোকেয়া এলপিজি গ্যাস ফিলিং স্টেশনের মালিক সৈয়দপুর শহরের পুরাতন বাবুপাড়ার আব্দুর রহমানের ছেলে রফিকুল ইসলাম (৩০), সিরাজগঞ্জের শাহাজাদপুরের সাগর হোসেন (৩৫), জাহাঙ্গীর আলম (৩৪) ও আলমিদ শেখ (২৪), ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়ার মেরাজ আলী (৪০) এবং সৈয়দপর শহরের পুরাতন বাবুপাড়ার সিরাজ মিয়া (২৫) ও হাতিখানার মঈন উদ্দিন (৪৮)।
অভিযান শেষে রাত ২টায় ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ ধারায় রফিকুল ইসলামকে ২ লাখ টাকা অর্থদন্ড, অনাদায়ে ৬ মাসের কারাদন্ড এবং বাকী ৬ জনকে ১০ হাজার টাকা করে অর্থদন্ড, অনাদায়ে ৩ দিনের কারাদন্ড প্রদান করেন।
অভিযোগ রয়েছে, একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে কাভার্ড ভ্যান, তেলের লরি, বড় বড় ড্রাম এমনকি অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করে গোপনে তেল মজুদ করে আসছিল। পরে এসব তেল কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বেশি দামে বিক্রি করা হতো। সাধারণ মানুষ তেলের জন্য ফিলিং স্টেশনগুলোতে লাইনে দাঁড়িয়ে যখন চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছে, সে সময় আড়ালে চলছিল এই অবৈধ বাণিজ্য।
সৈয়দপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাব্বির হোসেন সিসি নিউজকে জানান, রোকেয়া এলপিজি গ্যাস ফিলিং স্টেশনের অস্থায়ী গুদাম তৈরি করে পরিকল্পিতভাবে তেল সংরক্ষণ ও সরবরাহের ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছিল। অভিযানের সময় আটক ব্যাক্তিরা প্লাস্টিকের ড্রামে তেল পরিপূর্ণ করছিল অন্যত্র পাচারের উদ্দেশ্যে। এমনকি কনটেইনারে ভেতরে মিনি পাম্পের সাহায্যে তেল বড় বড় ড্রামে ভর্তি করতে দেখা গেছে। মাইক্রোবাসের সিটের ওপর অনেক তেলের জারকিন মিলেছে। তিনি বলেন, জ্বালানি তেল মজুদ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা ও নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।