• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১৩ অপরাহ্ন |

নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

সিসি নিউজ ডেস্ক।। ‘তোমরা স্পোর্টসের মাধ্যমে সারা বাংলাদেশকে পৃথিবীর সামনে তুলে ধরবে। তোমরা প্রত্যেকে একজন বাংলাদেশের অ্যাম্বাসেডর হবে। পড়ালেখায় কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া যাবে না, তবে একই সঙ্গে খেলতেও হবে। যে খেলোয়াড় হতে চায়, তাকে খেলোয়াড় হতে হবে, যে গায়ক হতে চায়, তাকে গায়ক হতে হবে, রাষ্ট্র সেই পথ তৈরি করে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আজকের অনুষ্ঠানের চিফ গেস্ট কারা জানো…? তোমরা এই গ্যালারিতে যারা বসে আছো, তোমরাই আজকের প্রধান অতিথি, তোমরাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ।’

কথাগুলো প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। আজ বিকেলে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে শত শত শিশু-কিশোরের উপস্থিতিতে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আশির দশকের জনপ্রিয় সাংস্কৃতিক মেধা অন্বেষণ কর্মসূচি নতুন কুঁড়ির আদলে এবার ক্রীড়াঙ্গনে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের নিয়ে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় ফুটবল, ক্রিকেটসহ আটটি ইভেন্টে অংশ নিচ্ছে ১ লাখ ৬৭ হাজারের বেশি নিবন্ধিত প্রতিযোগী। এই শিশু-কিশোরদের মধ্যে ভবিষ্যতের নেতৃত্ব দেখেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, ‘তোমাদের মধ্য থেকে ইনশা আল্লাহ আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড়, ডাক্তার, আইনজীবী, প্রকৌশলী, স্থপতি তৈরি হবে। তোমাদের মধ্য থেকেই একদিন এমপি হবে, মন্ত্রী হবে, প্রধানমন্ত্রী হবে, প্রেসিডেন্ট হবে।’

নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের আয়োজন সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রায় সাড়ে চার বছর আগে লন্ডনে এক বৈঠকে এই উদ্যোগের পরিকল্পনা করা হয়। তখন আমিনুল হকের (বর্তমান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী) সঙ্গে লন্ডনের একটি রেস্টুরেন্টে বসে আমরা নতুন কুঁড়ি পুনরায় শুরু করার সিদ্ধান্ত নিই। সারা দেশের শিশু-কিশোরদের সম্পৃক্ত করে একটি নতুন ক্রীড়া কার্যক্রম চালু করার পরিকল্পনা করা হয়। আজ এটি বাস্তবায়ন করা হলো।’

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘এই দেশের ছাত্র-জনতা দেশকে আবার স্বাধীনতার পথ দেখিয়েছে। এখন সেই পথে সামনে এগিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব এই প্রজন্মের।’

অনুষ্ঠানে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক স্বাগত বক্তব্য দেন। এ সময় তিনি জানান, ‘ক্রিকেট, ফুটবল, কাবাডি, অ্যাথলেটিকস, দাবা, ব্যাডমিন্টন, সাঁতার ও মার্শাল আর্ট এই আটটি ইভেন্টে সারা দেশে প্রতিযোগিতা হবে। এটি একটি যুগান্তরকারী কর্মসূচি, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের দক্ষ খেলোয়াড় গড়ে তোলার শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম।’

এই কর্মসূচির আওতায় ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু-কিশোরেরা অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে। পুরো প্রতিযোগিতাকে প্রশাসনিকভাবে ১০টি—ঢাকা, ফরিদপুর, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, রংপুর, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে। একজন প্রতিযোগী সর্বোচ্চ দুটি ইভেন্টে অংশ নিতে পারবে।

ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি ও ব্যাডমিন্টন হবে নকআউট পদ্ধতিতে। দাবা প্রতিযোগিতা হবে সুইস লিগ পদ্ধতিতে। অন্যদিকে অ্যাথলেটিকস, সাঁতার ও মার্শাল আর্টে প্রাথমিক বাছাইয়ের পর ফাইনাল রাউন্ড অনুষ্ঠিত হবে। ১৩ থেকে ২২ মের মধ্যে আঞ্চলিক পর্যায়ের সব কার্যক্রম শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। উপজেলা পর্যায় থেকে শুরু হয়ে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় পেরিয়ে চূড়ান্ত পর্বে জাতীয় পর্যায়ের সেরা খেলোয়াড়দের নির্বাচন করা হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির. প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, সিটি প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম এ মালিক, সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য শাম্মী আখতারসহ সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ নেতা এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

আর্কাইভ