• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩৮ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

সৈয়দপুরে ২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়ক সংস্কারে ধীর গতি

সিসি নিউজ।। দীর্ঘদিনের দাবি ও আন্দোলনের পর নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের বেহাল দুটি প্রধান সড়ক সংস্কার ও প্রশস্তকরণের কাজ শুরু হয়েছে। এতে প্রায় ২৬ কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে। তবে কাজ চলছে অত্যন্ত ধীরগতিতে। ​কাজের মান নিয়েও বিভিন্ন প্রশ্ন উঠেছে। গত ১০ মাসে সড়কটির সংস্কার কাজ শেষ হয়েছে মাত্র ৩০ শতাংশ। এতে ওই সড়কে চলাচলকারী যাত্রী ও চালকদের ভোগান্তি প্রতিনিয়ত বাড়ছে। কোনো বিকল্প সড়ক না থাকায় ভাঙাচোরা রাস্তা দিয়েই যানবাহন চলাচল করছে। ফলে মাত্র ৭ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে সময় লাগছে ২ থেকে ৩ ঘণ্টা। স্থানীয়রা এই পরিস্থিতির জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতিকে দায়ী করছেন। তাদের অভিযোগ, কাজের গতি না বাড়ালে আগামী তিন বছরেও এই সংস্কার কাজ শেষ হবে না।
​সৈয়দপুর পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, তামান্না মোড় থেকে ওয়াপদা মোড় পর্যন্ত সাড়ে তিন কিলোমিটার শেরে বাংলা সড়ক এবং তুলশিরাম সড়ক (বিচালী হাটি মোড়) থেকে বসুনিয়া মোড় পর্যন্ত সাড়ে তিন কিলোমিটার শহীদ জহুরুল হক সড়ক। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে সংস্কার না করায় বেহাল হয়ে পড়ে সড়ক দুটি। চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় ওই দুই সড়ক সংস্কারের দাবিতে স্থানীয়রা দীর্ঘদিন আন্দোলন করেন। অবশেষে পৌর কর্তৃপক্ষ এগুলো সংস্কারের উদ্যোগ নেয়। ​বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ‘রিজিলিয়েন্ট আরবান অ্যান্ড টেরিটরিয়াল প্রজেক্ট’ (আরইউডিপি)-এর আওতায় কাজ শুরু হয়। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৫ কোটি ৭৪ লাখ ৯৯ হাজার ৪১৭ টাকা। এই ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কের মধ্যে প্রথম ৬০০ মিটার হবে আরসিসি ঢালাই এবং বাকি ২ হাজার ৯০০ মিটার অংশে করা হবে কার্পেটিং। পাশাপাশি বর্ষায় যেন পানি না জমে এবং পথচারীরা নিরাপদে যাতায়াত করতে পারেন, সেজন্য ড্রেনেজ ব্যবস্থা, ফুটপাত ও সড়কবাতি নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পের কাজ ২০২৭ সালের জানুয়ারির মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়।​ দরপত্রের মাধ্যমে কাজটির দায়িত্ব পায় ‘এমএ- কেই-এসবি- জেভি’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কাজটি বাস্তবে রূপ দিচ্ছে তাদের মনোনীত রংপুররের‘মেসার্স শাম্মি বিল্ডার্স’। তারা কাজ শুরু করে ২০২৫ সালের ১৯ অক্টোবর। কিন্তু এখন পর্যন্ত ৩০ শতাংশ কাজও শেষ করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি।​ সড়ক সংস্কার না হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
ইসলামবাগ বড় মসজিদ এলাকার বাসিন্দা ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ইয়াসমিন পারভীন জানান, প্রতিদিন এই শেরে বাংলা সড়ক দিয়েই তাকে স্কুলে যেতে হয়। কাজ শুরু হওয়ায় তিনি আশা করেছিলেন দ্রুত ভোগান্তি কমবে। কিন্তু মেয়াদের অনেকটা সময় পার হয়ে গেলেও কাজ শেষ হওয়া নিয়ে শঙ্কা কাটছে না।​অন্যদিকে গোলহাট এলাকার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, তাদের এলাকায় পুরোনো ইট দিয়ে সংস্কার কাজ চালানো হচ্ছে। এছাড়া আরসিসি ঢালাইয়ের পর নিয়ম অনুযায়ী পানি দিয়ে ভেজানো (কিউরিং) হচ্ছে না। এতে এত টাকার কাজ কতদিন স্থায়ী হবে তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।​অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে ঠিকাদার শামীম সাইদকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি। এ নিয়ে কথা হয় সৈয়দপুর পৌরসভার প্রকৌশলী আইয়ুব আলীর সাথে। তিনি জানান, সংস্কার কাজ নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। তারা ঠিকাদারকে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করার তাগাদা দিয়েছেন। ঠিকাদারও সময়মতো কাজ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

আর্কাইভ