• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৫ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
“ভালো থেকো আমার না হওয়া মহারানী” চলন্ত ট্রাকে আড়াই ঘন্টা ঝুলে ৩২ লাখ টাকার ইয়াবা জব্দ করলেন সিপাহি জয়পুরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দুই দিনব্যাপী কর্মশালা শুরু দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ ড্রাম ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহি বাসের ধাক্কা, নিহত ৩ সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার

স্কুলছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

বিশেষ প্রতিনিধি।। ঠাকুরগাঁওয়ে দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণের পর ধর্ষণের দায়ে মো. রুবেল ইসলাম রুবেল রানা (২৫) নামের এক যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

আজ সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ঠাকুরগাঁওয়ের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) আলী মনসুর এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি রুবেল ইসলাম আদালতে অনুপস্থিত (পলাতক) ছিলেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, আসামিকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় (ধর্ষণ) যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে আরও ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। একই আইনের ৭ ধারায় (অপহরণ) আসামিকে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। উভয় সাজা একই সঙ্গে কার্যকর হবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০১৯ সালের ৭ নভেম্বর বিকেলে রুহিয়া থানার ঢোলারহাট বালিকা বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির এক ছাত্রী তার মাসির বাড়িতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ঢোলারহাট বাজারের তিন রাস্তার মোড়ে অটো স্ট্যান্ডে আসে। আগে থেকে ওত পেতে থাকা আসামি রুবেল ইসলাম বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ও ভুল বুঝিয়ে তাকে একটি অজ্ঞাত অটো চার্জারে করে তুলে নিয়ে যান। সেখানে নিয়ে মেয়েটিকে আটকে রেখে বিয়ের প্রলোভনে ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করেন।
ঘটনাটি জানাজানি হলে এবং স্থানীয় লোকজনের চাপে পড়ে পরদিন ৮ নভেম্বর রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে আসামিপক্ষ মেয়েটিকে অটো চার্জারে করে তার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। পরে ভিকটিমের বাবা অখিল চন্দ্র বর্মন বাদী হয়ে রুহিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন।
আদালতের আদেশে উল্লেখ করা হয়, দণ্ডিত আসামির কাছ থেকে আদায়কৃত অর্থ ভিকটিমের ক্ষতিপূরণ হিসেবে গণ্য হবে। আসামির বিদ্যমান সম্পদ বা ভবিষ্যতে অর্জিত সম্পদ বিক্রি করে জেলা প্রশাসক (ঠাকুরগাঁও) এই অর্থ আদায় করে ট্রাইব্যুনালে জমা দেবেন। জরিমানা পরিশোধের পর সেই অর্থ ভিকটিমকে প্রদান করা হবে। এ ছাড়া ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫এ ধারা অনুযায়ী আসামির হাজতবাসের মেয়াদ মূল সাজা থেকে বাদ যাবে। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে বিচার পরিচালনা করেন স্পেশাল পিপি অ্যাডভোকেট মো. বদিউজ্জামান চৌধুরী বাদল বলেন,এই রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিতহয়েছে। এক নাবালিকা স্কুলছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের ক্ষেত্রে আদালত যে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিয়েছেন, তা সমাজে অপরাধীদের কাছে এক কঠোর বার্তা পাঠাবে।রায় ঘোষণার পর পলাতক আসামি রুবেল ইসলামের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। তিনি গ্রেপ্তার হওয়া বা আত্মসমর্পণের দিন থেকে তাঁর সাজা কার্যকর হবে।

আসামিপক্ষে অ্যাডভোকেট মো. আবু নাঈম বলেন, পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি হাতে পাওয়ার পর আসামির আত্মসমর্পণ সাপেক্ষে আমরা এই আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে (হাইকোর্টে) আপিল করব।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

আর্কাইভ