নিউজ ডেস্ক: বার্তা নিয়ে দেশ-বিদেশে বিশেষ করে সামাজিক নেটওয়ার্কগুলোতে তোলপাড় চলছে। যদিও পশ্চিমা দুনিয়ার কোনও সংবাদমাধ্যমে এ খবর প্রচারিত হয়নি। সাধারণত আল কায়দা প্রধান বা তার কোন মুখপাত্র কোন ফতোয়া দিলে সংবাদ মাধ্যমগুলো তা লুফে নেয় তাৎক্ষণিকভাবে। এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ঘটায় ঢাকার নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা এ ভিডিও বার্তার নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। নিরাপত্তা বিশ্লেষক সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন মনে করেন আল কায়দাপ্রধান এমন একটি ফতোয়া দিয়েছেন তা নিয়ে দুনিয়ার বড় বড় মিডিয়াগুলোর নীরবতা সন্দেহের সৃষ্টি করেছে। অপর এক নিরাপত্তা বিশ্লেষক অধ্যাপক আবদুর রব খান এ ভিডিও বার্তাকে বিস্ময়কর বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বিবিসিকে বলেন, প্রথমবারের মতো আল কায়দা বাংলাদেশ নিয়ে কথা বললো। আল কায়দা একটি হাই লেভেল সংগঠন। বিভিন্ন মেজর ইস্যু নিয়ে কথা বলে থাকে। জামায়াত ও হেফাজতের মধ্যে যে পার্থক্য তাদের বক্তব্য থেকে তা পরিষ্কার নয় বলেই মনে হয়েছে। ওদিকে হেফাজতে ইসলাম এক বিবৃতিতে আল কায়দাপ্রধানের ভিডিও বার্তাকে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে এক নতুন ষড়যন্ত্র বলে মন্তব্য করেছে। সংগঠনটির আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফী এবং মহাসচিব হাফেজ মুহাম্মদ জুনায়েদ বাবুনগরী এক বিবৃতিতে বলেন, আল কায়দার বার্তার সঙ্গে হেফাজতে ইসলাম ও আলেম সমাজের কোন সম্পর্ক নেই। সংখ্যাগরিষ্ঠ তৌহিদি জনতার ধর্মীয় বিশ্বাস, মাদরাসা শিক্ষা ও আলেম সমাজের বিরুদ্ধে পরিচালিত নানা ষড়যন্ত্রের সঙ্গে প্রতিবেশী বৃহৎ একটি দেশের গোয়েন্দা সংস্থা এর সঙ্গে জড়িত বলে বিবৃতিতে তারা উল্লেখ করেছেন। উল্লেখ্য, ওই ভিডিও বার্তায় বলা হয়েছে- ইসলামের বিরুদ্ধে যারা ক্রুসেড ঘোষণা করেছে তাদের প্রতিরোধ করতে হবে। উপমহাদেশ ও পশ্চিমের শীর্ষ অপরাধীরা ইসলামের বিরুদ্ধে, ইসলামের নবী (স.)-র বিরুদ্ধে এ ষড়যন্ত্র করছে, মুসলিম উম্মাহর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে- যাতে এ অঞ্চলের মুসলমানরা তাদের দাসে পরিণত হবে।
বার্তায় জাওয়াহিরির পরিচয় দেয়া এক ব্যক্তিকে আরবিতে বলতে শোনা যায়, পাশাপাশি ইংরেজি সাবটাইটেলও দেখা যায় তার তরজমা। ২৮ মিনিট ৫৮ সেকেন্ডের এ ভিডিও বার্তায় আল কায়দা প্রধান বাংলাদেশকে একটি বিরাট জেলখানা হিসেবে উল্লেখ করেন। জাওয়াহিরির নামে প্রচারিত ওই বার্তায় বলা হয় বাংলাদেশ আজ এমন এক ষড়যন্ত্রের শিকার, যাতে ভারতীয় দালাল, পাকিস্তানের দুর্নীতিগ্রস্ত সেনা নেতৃত্ব এবং বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের ক্ষমতালোভী বিশ্বাসঘাতক রাজনীতিবিদরাও জড়িত। ভিডিও বার্তায় জাওয়াহিরি বলেছেন, মুসলিমদের প্রতি আজ এক হত্যাযজ্ঞ চালানো হচ্ছে এবং মুসলিমবিশ্ব নীরব দর্শক হয়ে রয়েছে। পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমগুলো খুনিদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে এই নিরেট সত্যকে চাপা দিচ্ছে। ওদিকে স্বরাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, ভিডিও বার্তাটি তার কাছে পৌঁছায়নি, দেখার পরে তিনি এ ব্যাপারে মন্তব্য করবেন। উৎসঃ মানবজমিন