রফিকুল ইসলাম, রাজারহাট (কুড়িগ্রাম): কুড়িগ্রামের রাজারহাটে আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদের প্রার্থী ও সদর ইউপি’র বর্তমান চেয়ারম্যান মোঃ এনামুল হক (আনারস) প্রতীকের নির্বাচনী প্রচারনা চালাতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের দু’কর্মচারী অপহরন হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় শনিবার রাজারহাট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করা হয়েছে। তাদের দু’জনকে মুক্তিপণ বাবদ ৩ লাখ টাকার চাঁদা দাবী করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রাজারহাট সদর ইউপি’র দু’কর্মচারী মোঃ শাহজাহান (৩০) অফিস সহকারী ও শ্রী লিটন চন্দ্র রায় (২৬) তথ্য সেবা কেন্দ্রের উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করে আসছিল। গত শুক্রবার ওই ইউপি’র বর্তমান চেয়ারম্যান ও আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদের প্রার্থী মোঃ এনামুল হকের (আনারস) প্রতীকের নির্বাচনী প্রচারনা চালাতে ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউপি’র চায়না বাজার নামক স্থানে রাত ১০ ঘটিকার সময় থেকে তারা দু’জন নিখোঁজ হন। পরে শনিবার হঠাৎ করে কয়েকটি অজ্ঞাত মোবাইল নম্বর থেকে চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ এনামুল হকের মোবাইল নম্বর ০১৭১২৫১০৫৭৮ নম্বরে ফোন আসে এবং তাদের দু’জনকে অপহরণ করা হয়েছে মর্মে মুক্তিপণ বাবদ ৩ লাখ টাকার চাঁদা দাবী করে। সে মোতাবেক অপহরণকারীদের একটি বিকাশ নম্বরে ৫০ হাজার টাকা বিকাশের মাধ্যমে পাঠিয়ে দেন। পরবর্তীতে তাদের কোন আশ্বাস না পাওয়ায় নিরুপায় হয়ে শনিবার রাতে রাজারহাট থানায় একটি সাধারণ ডায়রী করা হয়েছে বলে থানা সূত্রে জানা যায়। এ বিষয়ে রাজারহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শামীম হাসান সরদার-এর সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, এই মহুর্তে তদন্তের স্বার্থে জিডি নম্বর ও মোবাইল ফোনের নম্বরগুলো দেয়া যাচ্ছে না। তবে শীঘ্রই অপহরণকারীদের সনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে তিনি গণমাধ্যম কর্মীদের জানান। সদর ইউপি’র বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদের প্রার্থী মোঃ এনামুল হক ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, খুবই টেনশনে আছি। তাদের সঙ্গে যোগাযোগের এক পর্যায়ে নগদ ৫০ হাজার টাকা একটি বিকাশ নম্বরের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে এবং এই মহুর্তে বিকাশ নম্বরটি গণমাধ্যম কর্মীদের দিতে তিনি অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
রাজারহাটে সপ্তাহে দু’দিন জুয়া ও মাদকের আসর
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলাধীন সরিষাবাড়ী হাটে সপ্তাহে দু’দিন হাটবারে লাখ লাখ টাকার জুয়া ও মাদকের জমজমাট আসর চলে আসছে। স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদেরকে ম্যানেজ করে এক শ্রেণীর অসাধু জুয়াড়িরা দিব্যি জুয়া ও মাদকের আসর চালিয়ে যাচ্ছে বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যক্তিরা এ প্রতিবেদককে জানিয়েছে। সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, প্রতি শুক্র ও সোমবার সরিষাবাড়ীহাটটি বসে। স্থানীয় যুবক হানিফ আলীর নেতৃত্বে যুবলীগ নেতা মিনহাজুল (৩২) ও স্থানীয় ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি শহিদুল ইসলাম (৩৫) সহ ১০-১২ জনের একদল কুখ্যাত জুয়াড়িরা বাঁধ রাস্তা সংলগ্ন জনৈক কালু’র বাড়ির উঠানে জুয়া ও মাদকের আসরটি ৬ মাস ধরে চালিয়ে যাচ্ছে। তিস্তা নদীর তীরবর্তী এ হাটটিতে পার্শ্ববর্তী রংপুর জেলাধীন কাউনিয়া, পীরগাছা, লালমনিরহাট সদরের তিস্তা, মোস্তফীরহাট সহ কুড়িগ্রাম জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত নামি-দামী জুয়াড়িরা রাত ৮টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ওই স্থানে লাখ লাখ টাকার জুয়া ও রাতভর মাদকের আসর জমে তোলে। স্থানীয়দের অভিযোগ দু’টি প্রধান রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা জড়িত থাকায় তাদের বিরুদ্ধে এলাকাবাসী মুখ খুলে প্রতিবাদ করতে সাহস পাননা। এ বিষয়ে রাজারহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শামীম হাসান সরদার বলেন, বিষয়টি তাঁর জানা নেই। জুয়ার বিষয়টি নিয়ে খোঁজ-খবর নেয়া হচ্ছে এবং আগামী হাটের দিন ওই স্থানে পুলিশি অভিযান পরিচালনা করা হবে।