নিউজ ডেস্ক: ঢাক-ঢোল পিটিয়ে মনোনয়ন দেওয়া হলেও উপজেলা নির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রার্থীদের। এরশাদ তার ইমেজকে কাজে লাগিয়ে উপজেলা জয়লাভের আশায় প্রার্থী দিয়ে ছিলেন। কিন্তু জনপ্রিয়তা যে শূণ্যের কোঠায় তার প্রমাণ হলো এই নির্বাচনে।
দলটির ভঙ্গুর দশায় উপজেলা প্রার্থী না দেয়ার পক্ষে ছিলেন জাতীয় পার্টির অনেক সিনিয়র নেতা। সেই নেতাদের প্রাধান্য না দিয়ে মনোনয়ন বাণিজ্যের আশায় প্রার্থী দেওয়া দলটির সাংগঠনিকভাবে আরো দুর্বল হয়ে পড়লো। এই নির্বাচনের অংশ নেওয়া ভুল সিদ্ধান্ত ছিল বলে দলীয় সূত্র থেকে বলা হয়েছে।
দলীয় সূত্র জানায়, গত ৯ ফেব্রুয়ারি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ১১ প্রার্থীকে সমার্থন দিয়েছিলেন এরশাদ। আর আলাদাভাবে ভাইসচেয়ারম্যান পদে ৫ প্রার্থীকে মনোনয়ন দেন তিনি। এরমধ্যে একজনও পাস করেননি। হারিয়েছেন জামানত। তবে এরশাদের অসমর্থীত প্রার্থী গাইবান্ধার শাঘাটা জাপা নেতা গোলাম শহীদ রঞ্জু জিতেছেন।
এরশাদের মনোনীত প্রার্থীরা হলেন-উপজেলা চেয়ারম্যান পদে রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার মো. মেজবাহুল ইসলাম মিলন চৌধুরী, পীরগাছায় আবু নাসের শাহ মোহাম্মদ মাহবুবার রহমান, নীলফামারীর ডিমলায় আব্দুল লতিফ চৌধুরী, গাইবান্ধার পলাশবাড়িতে মো. আবু বক্কর সিদ্দিক পলাশ, কুড়িগ্রামের উলিপুরে ইঞ্জিনিয়ার আনিচুর রহমান রতন, নেত্রকোনার পূর্বধলায় মো. ওয়াহিদুজ্জামান তালুকদার (আজাদ), ঝিনাইদহ সদরে ড. হারুন অর রশীদ, নরসিংদীর বেলাবতে শাহ এহসানুল করিম মুকিত সোহেল, বরিশালের গৌরনদীতে মো. জাকির হোসেন।
এছাড়াও এরশাদ গৌরনদী উপজেলায় ভাইস চেয়ারম্যান পদে আবু হানিফ খলিফা এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে মোছা. কুলসুম বেগম এবং মিঠাপুকুর উপজেলায় ভাইস চেয়ারম্যান পদে আলহাজ্ব আবুল লতিফ খান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাপার এক প্রেসিডিয়াম সদস্য বলেন, এরশাদ(স্যার) দলের সিনিয়র নেতাদের মূল্যেয়ন না করার কারনে উপজেলা নির্বাচনে ভড়াডুবি হয়েছে। এরশাদ অর্থনৈতিক লাভের আশায় কারনে তার সমর্থিত প্রার্থীর এই করুণ পরিনতি।
জাপার একাংশের চেয়ারম্যান কাজী জাফর আহমেদ বলেন, এরশাদের জাতীয় পার্টির অস্তিত্ত্ব নেই। আর তাকে তো মানুষ বিশ্বাস করে না। তাহলে ভোট দিবে কি ভাবে। জাপার যে প্রার্থীও বিজয় হয়েছে সে আমার পক্ষে প্রার্থী।
জাপার মুখ্যপাত্র ববি হাজ্জাজ বলেন, সংকটের মধ্যে জাতীয় পার্টি চলছে। এই নির্বাচন তো জাতীয় নির্বাচন নয়। তাই সমর্থন দিয়েছি। প্রার্থী দেয়নি। এরা দলীয় মনোনিত প্রার্থী নয়। তিনি বলেন, খুবই কম সময়ের কারনে দলকে সংগঠিত করা হয়নি। এটাও পরাজয়ের কারন হতে পাওে বলে মনে করেন তিনি। দলকে সু সংগঠিত করে আগামী নির্বাচনে আমাদেরও বিজয় নিশ্চিত।
প্রথম পর্যায়ের উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি ৪০টা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে জয়লাভ করে। আওয়ামী লীগ বিজয়ী হয় ৩৫টিতে। জনসংহতি সমিতি ১টি ও ইউপিডিএফ ১টি এছাড়া জামায়াত ১২ , সতন্ত্র ৭টিতে বিজয়ী হয়। এরশাদের খাতা শূন্য। আর বাকী ১ উপজেলায় ফল অপ্রকাশিত রয়েছে।
প্রথম দফা নির্ববাচনে ১৯ ফেব্রুয়ারি দেশের ৯৭টি উপজেলার নির্ববাচন অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় দফায় ২৭ ফেব্রুয়ারি ১১৭টি এবং ১৫ মার্চ তৃতীয় দফায় ৮৩ টি, ২৩মার্চ চতুর্থ দফায় ৯২টি, ৩১মার্চ পঞ্চম দফায় ৭৭টি উপজেলার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আইপোর্ট স্পেশাল