টাঙ্গাইল: টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে পুলিশের বিরুদ্ধে অর্থ ছিনতাইয়ের অভিযোগ করেছে আরেক অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ পরিদর্শকের স্ত্রী মিসেস মালেকা রহিম। দেলদুয়ার থানার এএসআই হুমায়ন ও কনস্টেবল জসিম এর নামে নগদ অর্থ ছিনতাইয়ের অভিযোগে টাঙ্গাইল পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ দায়ের করে উক্ত পুলিশ পরিদর্শকের স্ত্রী।
১৯ ফেব্রুয়ারী অভিযোগটি দেয়া হয়। অভিযোগে জানা যায়, দেলদুয়ার উপজেলার জাঙ্গালিয়া গ্রামের অবসর প্রাপ্ত পুলিশ পরিদর্শক মীর আব্দুর রহিম এর প্রবাসী পূত্র মীর মনিরুজ্জামান (ইলিয়াছ)কে ১৭ ফেব্রুয়ারী সোমবার সন্ধ্যা ৬ টার দিকে রাস্তায় একা পেয়ে বিভিন্ন ভাবে প্রশ্ন করে হয়রানি করার চেষ্টা করেন উক্ত এএসআই। মামলার ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে কাবু করার চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে তল্লাশি চালিয়ে ইলিয়াছের পকেটে হাত দিয়ে ম্যানিব্যাগ বের করে জোড় পূর্বক তার কাছ থেকে ১২,৪০০/= (বার হাজার চারশত) নগদ টাকা ছিনিয়ে নেন।
প্রত্যক্ষ স্বাক্ষী খুটি মিস্ত্রি কাওছার , সুমন মিয়া ও আজিজুল সহ স্থানীয়রা। নগদ টাকা উদ্ধার ও ন্যায় বিচারের মাধ্যমে উক্ত এএসআই হুমায়ন ও কনস্টেবল জসিম এর বিরুদ্ধে শাস্তি মূলক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ইলিয়াছের মা মিসেস মালেকা রহিম উক্ত অপিযোগ দায়ের করেন টাঙ্গাইল পুলিশ সুপারের কাছে।
এব্যাপারের এএসআই হুমায়ন এর সাথে মুঠোফোনের মাধ্যমে জানতে চাওয়া হলে তিনি অপরাধের কথা স্বীকার করে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করতে নিষেধ করেন। তিনি বলেন, ইলিয়াছ আমাদের ইন্সপেক্টরের সাথে একটু খারাপ ব্যবহার করেছিল। তাই এরকম পদক্ষেপ নেয়া হয়েছিল। তবে স্থানীয় লোকদের নিয়ে বিষয়টি মিমাংশার চেষ্টা চলছে। এব্যাপারে জানতে চাইলে দেলদুয়ার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা (ওসি) চান মিয়া এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে বলেন, বিষয়টি আমার নলেজে আসেনি।
উল্লেখ্য, দেলদুয়ার থানা একটা নিরিবিলি এলাকা হওয়ায় এর পূর্বেও পুলিশের কাছে বিভিন্ন লোককে বিভিন্নভাবে হয়রানির অভিযোগ রয়েছে। শিল্প এলাকা পাথরাইল বাজারের মায়ের বাধন শাড়ির দোকানে রাতের অন্ধকারে ২৩ লক্ষ ২৪ হাজার ৮শ’ টাকার তাঁতের শাড়ী ডাকাতি হওয়ার পরও পুলিশ কোন ব্যবস্থা নিতে পারেনি। এব্যাপারে ১৪ মে ২০১২ ইং তারিখে দেলদুয়ার থানায় একটি ডাকাতি মামলাও করেছিল দোকানের স্বত্বাধিকারী মীর কবির।
তিনি অভিযোগ করেন, তৎকালিন ওসি রবিউল ইসলাম ও মামলার দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসআই রফিকের সামনে আটককৃত কয়েকজন ডাকাত থানায় ডাকাতি কর্মকান্ডে স্বীকারক্তি দিলেও পুলিশের দেয়া চার্জসিটে তাদের নাম ওঠেনি। বরং থানার আরেক এসআই ওসমান গণি পাথরাইল থেকে নিরপরাধ যুবকদের আটক করা শুরু করেন । এক রাতে দেওজান ও চিনা খোলা থেকে ৩ জন কে আটক করা হয়। কুরবানীর টাকা ও চড়া সুদে মোট ১ লক্ষ ২৪ হাজার টাকা দিয়ে তাদেরকে ছাড়িয়ে আনা হয়।