রইজ উদ্দিন রকি: রক্ত স্নাত ভাষা আন্দোলনের স্মারক মহান শহীদ দিবস। বাঙালির ভাষা আন্দোলনসহ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের প্রেক্ষাপটেও দিনটি অনন্য গৌরবের। পৃথিবীর ইতিহাসে মাতৃভাষার জন্য রাজপথে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দেওয়ার প্রথম নজির, এটি কালক্রমে সেই শোকের দিন ২১ ফেব্র“য়ারি উত্তীর্ণ হয়েছে বাঙালির জাগরণের শক্তির প্রতিক হিসেবে। ভাষা আন্দোলনের মধ্যে বাঙালি জাতিসত্তার বিকাশের যে সংগ্রামের সূচনা ঘটেছিল, মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় পথ বেয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের মধ্য দিয়ে তা চুরান্ত পরিণতি লাভ করে। কেবল মুক্তিযুদ্ধ নয়, পরবর্তীকালের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামেও এই চেতনা আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে, প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের শিখা জ্বালিয়েছে। ভাষার জন্য বাঙালির বিরল এই আত্মত্যাগ আজ কেবল এই ভূখন্ডের সীমানায় আবদ্ধ নয়। বিশ্বের সব জাতিগোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষার সংগ্রামেও এ এক অভুতপর্ব প্রেরণা। ২১ফেব্র“য়ারি কালের পরিক্রমায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মর্যাদায়ও মহীয়ান হয়েছে। জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক সংস্থা (ইউনেস্কো) ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর তাদের ৩০তম সম্মেলনে ২৮টি দেশের সমর্থনে দিনটিকে ’আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়, যা দুই হাজার সাল থেকে বিশ্বের ১৮৮টি দেশে একযোগে পাললিত হচ্ছে। বাঙালির সুমহান আত্মত্যাগের এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বাঙালি জাতির জন্য এক অনন্যসাধারণ অর্জন। এই গৌরব কেবল বাঙালি জাতি ও বাংলাদেশেরই নয়, বাংলাভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতিরও। কিন্তু আমরা আমরা অত্যন্ত অনুতাপের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, আমাদের আত্মমর্যাদায় সমুন্নত এক মহান জাতি হিসেবে বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড় করিয়েছে বুকের তাজা রক্ত দিয়ে, সেই সব শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে যে শহীদ মিনারে প্রভাতফেরী করে রাত ১২টা ১মিনিট থেকে আমরা পুষ্প মাল্য অর্পন করি, তা সকালের প্রভাতফেরি শেষ হতে না হতেই শহীদ মিনার থেকে ফুলগুলি যে যার মত নিয়ে চলে যায়- যা কল্পনিয় নয়। এমনি একটি দৃশ্য চোখে পরলো ২১ ফেব্র“য়ারি ভাষা দিবসের দিন দুপুর ১২টায় সৈয়দপুর মহাবিদ্যালয় শহীদ মিনারে। সেখানে দুপুরে শহীদ মিনারে কোন ফুল ছিলনা। সব ফুল কে বা কাহারা নিয়ে গেছে। বাঙ্গালিপুর থেকে আসা শহিদুল ইসলাম দুপুরে তার ছেলে ও মেয়েকে শহীদ মিনার দেখাতে এনে তিনি তার ছেলেও মেয়েকে ফুলসহ শহীদ মিনার দেখাতে পারলেন না। শিশু সন্তানদের মিনারে ফুল দেখাতে না পেয়ে লজ্জায় পরে যান তিনি- যা দুঃখ জনক। অন্তত একদিন শহীদ মিনার প্রশাসনিক ভাবে রক্ষানাবেক্ষ করলেই ফুল গুলি শহীদ মিনারে যতেœর সাথে রাখা সম্ভব। অন্যদিকে সৈয়দপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ৭ম শ্রেনীর ছাত্রী তৈয়্যবা বিনতে কুদ্দুস আরশিকে তার বাড়ি থেকে প্রভাত ফেরীতে যেতে না দেয়ায় সে নিজের বাড়িতেই পাটখড়ি দিয়ে শহীদ মিনার তৈরী করে সেখানেই শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায় টিফিনের টাকায় ফুল কিনে।