বদরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি: প্রাথমিক বিদ্যালয় আন্তঃ ক্রীড়া প্রতিযোগীতায় ঝামেলা ও টাকা খরচের ভয়ে এক ছাত্রকে বাঁধা দেয়ার ঘটনায় রংপুরের বদরগঞ্জে প্রধান শিক্ষক হেলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল করেছে অভিভাবক ও এলাকাবাসী। শনিবার দুপুরে অভিভাবকরা বিক্ষোভ করে বিদ্যালয়ের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেয়। ঘটনাটি ঘঠেছে উপজেলার আমরুলবাড়ী ২ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।
জানা যায়, ওই বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র লিটন চন্দ্র রায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আন্তঃক্রীড়া চামুচে মার্বেল নিয়ে ভারসাম্য দৌঁড় প্রতিযোগীতায় অংশ গ্রহণ করে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হয়। এরপর লিটন গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বিভাগীয় পর্যায়ে খেলায় অংশ গ্রহণের জন্য মনোণিত হয় । কিন্তু প্রধান শিক্ষক হেলাল উদ্দিন সর্দার এতে ঝামেলা মনে করে তাকে নিরুৎসাহিত করেন। ওই খেলায় অংশ না নেওয়ার জন্য তাকে চাপ দিয়ে বলে, খেলায় জিতলে তোমার কী এমন হবে। অংশ যদিও নেও প্রথম হওয়ার চেষ্টা করিও না। শত বাঁধা সত্¦েও ওই ছাত্র খেলায় অংশ গ্রহণ করে। অন্যান্য প্রতিযোগিদের সঙ্গে মাঠে নামে লিটন। শুরু হয় চামুচে মার্বেল নিয়ে দৌড় প্রতিযোগিতা। এসময় মাঠের বাইরে থেকে প্রধান শিক্ষক চিৎকার করে লিটনকে ধিরগতিতে যাওয়ার জন্য বলেন। যাতে সে যেন প্রথম না হয়। শিক্ষকের এ নির্দেশে ভয়ে লিটন চন্দ্র রায় মাঠের ভেতর চামুচ-মার্বেল ফেলে দিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বাইরে চলে আসে। ওইদিন রাতে বাড়ীতে এসে ঘটনাটি তার বাবামাকে জানায়। এ ঘটনায় বাবা লক্ষণ চন্দ্র রায় বিষয়টি নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে আলোচনা করেন। এতে অন্যান্য অভিভাবরা প্রধান শিক্ষকের এহেন কর্মকান্ডে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় অভিভাবকরা তার কাছে কারণ জানতে চায়। প্রধান শিক্ষক বিষয়টি এড়িয়ে গেলে গতকাল শনিবার দুপুরে এলাকাবাসী তার শাস্তির দাবীতে ঝাড়– মিছিল নিয়ে তাকে ঘেরাও করে। বিষয়টি আগেই বুঝতে পেয়ে প্রধান শিক্ষক পালিয়ে যান। এসময় বিক্ষোভরীরা ক্ষুব্ধ হয়ে বিদ্যালয়ের শ্রেনী কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেয়।
ওই বিদ্যালয়ের সভাপতি বদরীনাথ রায় বলেন, প্রধান শিক্ষক হেলাল উদ্দিন সর্দার বিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকে বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতা করে আসছিল। তার দুর্নীতির বিরুদ্ধে একাধিকবার অভিযোগ করা হয়েছে। কোন কাজ হয়নি। অভিযোগ অস্বীকার প্রধান শিক্ষক হেলাল উদ্দিন সর্দার বলেন, অভিভাবকরা যে অভিযোগ করেছে তা সঠিক নয়। ওই ছাত্রই খেলায় প্রথম হতে পারেনি।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জিয়াছমিন আক্তার বলেন, এর আগেও প্রধান শিক্ষক হেলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ শুনেছি। লিখিতভাবে অভিযোগ না থাকায় এতদিন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খন্দকার ইসতিয়াক আহমেদ বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।