ঢাকা: রাজধানীর হাজারীবাগ থেকে দেড় লক্ষাধিক জাল টাকাসহ সংঘবদ্ধ চক্রের ৩ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-২। তারা হচ্ছে চক্রের প্রধান সুমন (২৫), তার স্ত্রী কমলা (২০) ও তার সহযোগী মো. মামুন (২৪)। গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে জাল টাকা তৈরির বিপুল পরিমাণ সরঞ্জামাদিও উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে র্যাব-২ এর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। এ সময় র্যাবের অধিনায়ক লে. কর্ণেল কে এম আজাদ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার রাতে পশ্চিম হাজারিবাগের গোদারাঘাটের ১৬ নম্বরের চৌধুরী ভিলার ৫ম তলা থেকে ওই দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৯৫ হাজার জাল টাকা ও আংশিক মুদ্রিত ৬৪ হাজার জাল টাকা জব্দ করা হয়। এছাড়া জাল টাকা তৈরির স্ক্যানার মেশিন, প্রিন্টার, টোনার কার্টিজ, সিকিউরিটি রিবন, স্পেশাল কালি ও কাগজসহ বিভিন্ন ধরনের ডাইসও জব্দ করা হয়।
কর্ণেল কে এম আজাদ জানান, জাল মুদ্রা দু’ভাবে মুদ্রিত হয়। ভালো মানের কাগজে আঠা ও সিকিউরিটি থ্রেড বসিয়ে ভাঁজ করা হয়। এরপর স্ক্যানার ও প্রিন্টিং মেশিনের সাহায্যে সুক্ষভাবে যে কোনো মূল্যের জাল টাকা তৈরি করা হয়।
এছাড়াও ওয়াশ পদ্ধতিতেও জাল নোট তৈরি করা হয়। এ ক্ষেত্রে আসল টাকার নোট ওয়াশ করে শুকানো হয়। পরে ওই নোটের ওপর টাকার অংক বসিয়ে ছাপ দেয়া হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, তারা তিন ধাপে জাল টাকা বাজাওে ছেড়ে থাকে। প্রথম ধাপে পাইকারী হিসেবে ২৫-৩০ হাজার টাকায় এক লাখ টাকার একটি বান্ডিল বিক্রি হয়। দ্বিতীয় ধাপে পাইকারি কারবারিরা এসব টাকা খুচরা কারবারির কাছে ৪০-৪৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে। আর ৩য় ধাপে খুচরা কারবাবিররা এসব টাকা নিজস্ব বাহিনীর মাধ্যমে তা সরাসরি সুকৌশলে ঢাকার লালবাগের কেল্লা মোড়, বাবুবাজার, আজিমপুর বাসস্ট্যান্ড, আজিমপুর গোরস্থান, গুলিস্থান ও কামরাঙ্গীচরসহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে থাকে। আর এদের মূল টার্গেট থাকে অশিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত, বৃদ্ধ, দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষেরা।
এদিকে জাল টাকা চক্রের প্রধান সুমন জানায়, তিনি গত দুই বছর ধরে জাল টাকার ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত। এর আগেও তিনি পটুয়াখালীর গলাচিপা থানায় জালটাকা তৈরির দায়ে গ্রেপ্তার হয়। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।