নীলফামারী প্রতিনিধি: নীলফামারীতে এক রহস্যময়ী নারীর নানা হয়রানীতে অতিষ্ট হয়ে পড়েছে এলাকাবাসী। এ নিয়ে জনমনে বিরাজ করছে নানা অজানা আতংক। কখন কে বা কাহারা ফেসে যায় তার নানা জালে। এ রহস্যময়ী কখনও ডিবি পুলিশ কখনও পুলিশের ওসি। আবার কখনও ব্যবসায়ী। আসলে তিনি কে? প্রশ্ন জেলার ডোমার উপজেলার সাধারণ মানুষের। বাসা ভাড়ায় থাকেন। চলাফেরা সন্দেহজনক হওয়ায় এলাকাবাসীর চোখে পড়েছেন তিনি। এলাকাবাসী কেউ কেউ বলছে হয় তিনি পুলিশের কোন স্পাই অথবা কোন চোরাচালান কারবারী হবেন। এলাকাবাসী জানায়, রুমা নামের একটি মহিলা তার পরিচয় দিচ্ছেন কখনও ডিবি পুলিশ হিসেবে। আবার কখনও পরিচয় দিচ্ছেন ব্যবসায়ী হিসেবে। এই রহস্যময়ী নারীটি আসলে কে তা এলাকাবাসী জানতে চায়। জানা যায়, জেলার ডোমার উপজেলার কেতকীবাড়ী ইউনিয়নের বোতলগঞ্জের বাসিন্দা সেনাবাহিনীর সদস্য সজল-এর বাসায় ভাড়া থাকেন রুমা বেগম নামের এক মহিলা। তিনিই কখনও তার পরিচয় লোকজনের কাছে দিয়ে থাকেন পুলিশের গোয়েন্দা। আবার কখনও ব্যবসায়ী হিসেবে। রুমা বেগম (৩৮) পুলিশের গোয়েন্দা অথবা স্পাই হিসেবে পরিচয় দেয়ার সত্যতা স্বীকার করে জানান, এ কাজটি তিনি করেন নিজেকে বাঁচাতে। আমার স্বামী এখানে থাকেন না। আর এলাকার কিছু কুচক্রী মানুষের কুনজর পড়ায় তাদের কাছ থেকে নিজেকে বাঁচানোর জন্য আমি এই কথা বলে থাকি। তাছাড়া আমার প্রথম পক্ষের স্বামী ছিলেন সেনা সদস্য। তাই এসব পরিচয় দিতে তো অসুবিধা নেই। নিজের পেশা সম্পর্কে তিনি দাবী করেন, গার্মেন্টস ব্যবসায়ী ও একাধিক হাইওয়ে গাড়ীর কাউন্টার এজেন্ট হিসাবে। তিনি আরো দাবী করেন তার প্রাক্তন স্বামী প্রয়াত সেনা সদস্য বিদেশে গিয়ে মারা যাওয়ায় আমি তার পেনশন ভাতা পেয়ে থাকি। সরেজমিনে রুমা বেগমের বাবার বাড়ী পার্শ¦বর্তী পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলার বগদুলঝুলা এলাকার সরকারপাড়া গ্রামে খোজ নিয়ে পাওয়া গেছে নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এলাকাবাসী জানান, রুমা’র বাবার নাম আব্বাস আলী। তিনি বেচে নেই। তারা ২ ভাই ৩ বোন। সে বোনদের মধ্যে মেজ। ভাইয়েরা দিনমুজুরী করে। বোনদের বিয়ে হয়ে গেছে। তার কোন স্বামী নেই তার পুর্বে বিয়ে হয়েছে কিনা কেউ বলতে পারেনি। সে পুর্বে থেকে দেহ ব্যাবসা করে আসছে। সে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পরিচয়ে বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান কওে তার অনৈতিক কর্মকান্ড চালাচ্ছেন। তার এমন নানা অনৈতিক কর্মকান্ডের কারনে বেশ কিছুদিন পুর্বে স্থানীয় শালিসে এলাকাবাসী তাকে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বোতলগঞ্জ এলাকার একাধিক ব্যক্তি বলেন, রুমা বেগম এভাবে পুলিশের ডিবি বা সোর্স পরিচয় দিয়ে অনেক মানুষের কাছে হুমকি-ধমকি দিয়ে টাকা হাতিয়ে নেয়। এলাকাবাসী এই এলাকার যত বাচ্চা হারিয়েছে বা হারাচ্ছে তার দিকেই সন্দেহের মূখ তুলছে। অপর একটি সুত্র জানায়, রুমা বেগম মোবাইলের মাধ্যমে লোকের সাথে ভাব জমিয়ে ব্লাকমেইল করে টাকা হাতিয়ে নেওয়া ছাড়াও অনেক মানুষের সর্বনাশ করেছে। তাছাড়া সে দেহ ব্যবসাও করে থাকে। এলাকাবাসী এই নারী ও তার নানা পরিচয় নিয়ে ভীত-সন্ত্রস্থ। তাছাড়া এই এলাকায় বেশ কিছু দিন ধরে কয়েকটি শিশুও হারিয়ে গেছে। শিশুদেরকে এখন পর্যন্ত পাওয়া যায় নি। এ ব্যাপাওে ডোমার উপজেলার চিলাহাটি পুলিম তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই সিরাজ ওই নারীর বিষয়টি মুনেছেন বলে জানান। তবে তার জীবনধারা নিয়ে তিনিও প্রশ্ন তুলেছেন। এলাকাবাসীর প্রশ্ন, আসলে নানা পরিচয় দানকারী এই রহস্যজনক নারী কে? কোন পাচারকারী নয়তো? প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে তারা।