ঢাকা: ঢাকার দক্ষিণ খানের ব্র্যাক ক্লিনিকের চিকিৎসক সাজিয়া আফরিন ইভাকে ধর্ষণের চেষ্টার পর হত্যার দায়ে ওই ক্লিনিকের তত্ত্বাবধায়ক মো. ফয়সালকে মৃত্যদণ্ড দিয়েছে আদালত। বুধবার ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক এ বি এম নিজামুল হক এ রায় দেন।
২৭ বছর বয়সী আসামি ফয়সালের উপস্থিতিতেই বিচারক রায় পড়ে শোনান। ফাঁসিতে ঝুলিয়ে আসামির দণ্ড কার্যকর করতে বলেন তিনি। রায়ে বলা হয়, আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণে ১৫ জন সাক্ষীকে আদালতে উপস্থিত করা হয়েছে। সাক্ষ্য প্রমাণে হত্যার অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলো। রায়ের পর ইভার বাবা মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, “এ রায়ে আমি সন্তুষ্ট। তবে রায় দ্রুত কার্যকর করা হলে খুশি হব।”
উল্লখ্য, ২০১২ সালের ২৯ নভেম্বর রাতে ক্লিনিকে দায়িত্ব পালন করছিলেন সাজিয়া। এ সময় ফয়সাল তাঁকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। সাজিয়া বাধা দিলে তাঁকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার পরদিন সাজিয়ার বাবা মনিরুল ইসলাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ও দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় মামলা করেন। এর একদিন পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে ফয়সালের গ্রামের বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
বুধবার রায় ঘোষণার আগে ফয়সালকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তাঁর উপস্থিতিতে রায় ঘোষণার পর সাজা পরোয়ানা জারি করে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
ইভাদের বাড়ি চাঁদপুরের ফরিদ গঞ্জেরর কালিথুবা গ্রামে। ২০০৮ সালে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করার পর ২০১২ সালে তিনি ব্র্যাক ক্লিনিকে খণ্ডকালীন চিকিৎসক হিসাবে যোগ দেন।