হাসানুজ্জামান সিদ্দিকী, জলঢাকা: নীলফামারীর জলঢাকায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি কর্তৃক জীবিত ব্যক্তিকে মৃত দেখিয়ে বয়স্ক ভাতার কার্ড অর্থের বিনিময়ে অন্য দু’জনের নামে বরাদ্দ দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি জলঢাকা উপজেলার কৈমারী ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের খামাত পাড়া ও দোলাপাড়া এলাকায়। অভিযোগের ভিক্তিতে বুধবার সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, খামাত পাড়া ও দোলাপাড়া গ্রামের মৃত নীলচাদ বর্মনের স্ত্রী বানু বালা ও মৃত দুলাল চন্দ্রের স্ত্রী ভাকো রায়ের নামে ২০০৫-০৬ইং অর্থ বছরে উপজেলা সমাজ সেবা অধিদপ্তর হতে ২৯৪৮ ও ২৯১৭ নং দু’টি বয়স্ক ভাতার বহি ইস্যু করা হয়। সে অনুযায়ী জনতা ব্যাংক কৈমারী শাখায় প্রতি তিন মাস অন্তর ৪৩৯ ও ৪৩৪ হিসাব নম্বর থেকে ভাতা উত্তোলন করে আসছিল। গত ১৬ ফের্রুয়ারী/২০১৪ইং তারিখে ভাতা উত্তোলন করতে গেলে তারা জানাতে পারে তাদেরকে মৃত্যু দেখিয়ে বহি দু’টি অন্য দু’জনের নামে বরাদ্দ্ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভাকো বালা এ প্রতিনিধিকে বলেন,“মুই নাকি মরি গেছুন, ওই বেদে (জন্য) মোক ব্যাংক টাকা না দেয়” অপর দিকে আর এক ভোক্তভোগী বানু বালা বলেন,“এ্যইলা কেমন কথা বাহে, মোক বত্তা (জীবিত) মানুষটা কেমন ওমা ( চেয়ারম্যান-মেম্বার) মাড়ি ফ্যেলাইছে”। বিষয়টি এলাকায় জানা জানি হলে স্থানীয় জনগনে মাঝে চেয়ারম্যান ও মেম্বারের বিরুদ্ধে চরম ক্ষোভের সৃষ্টির হয়েছে। এ ঘটনায় বানু বালার ছেলে কৃষ্ণ চন্দ্র ঘটনার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেন। মৃত্যুর সনদ প্রদানকারী ইউ.পি চেয়ারম্যান কহিনুজ্জামান লিটন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন,“ ৭নং ওয়ার্ডের মেম্বার নীলকন্ঠ আমাকে ভূল তথ্যদিয়ে মৃত্যু সনদে স্বাক্ষর নিয়েছে। যাচাই বাছাই কেন করলেন না এমন প্রশ্নের জবাব তিনি এড়িয়ে যান।” এ ব্যাপারে উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা মনিমুন আখতার বলেন, “অভিযোগের প্রক্ষিতে ইতিমধ্যেই নতুন ইস্যুকৃত বহি দু’টি জব্দ করা হয়েছে এবং অতিসত্তর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোকন-উল-হাসানকে বিষয়টি অবগত করলে তিনি তৎক্ষনিক সমাজ সেবা কর্মকর্তাকে আগামী ২রা মার্চের মধ্যেই তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দেন। ওই ওয়ার্ডের মেম্বার নীলকন্ঠের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্ঠা করা হলে তাকে পাওয়া যায় নি।