সিসি নিউজ: সেই সকাল থেকে নামের জপ আর কীর্তন শুরু হয়েছে মৃতের আত্মার শান্তি কামনায়। তিন হাজারেরও বেশি গ্রামবাসী একযোগে খাওয়া সারলেন। ভাত ও ছোলার ডাল, শুক্ত, দুই রকমের তরকারি আর পায়েস। বুঝতেই পারছেন, এখানে শ্রাদ্ধ চলছে। কার শ্রাদ্ধ জানেন? এক হনুমানের।
হনুমানের শ্রাদ্ধে মানুষের এই ব্যাপক আয়োজন রীতিমতো চমকে দেওয়ার মতো। গত বৃহস্পতিবার স্বরূপনগরের চারঘাট এলাকায় একটি স্কুলের পাশে হাই-টেনশন তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় হনুমানটির। শোকে ডুবে যায় গোটা গ্রাম। গ্রামবাসীরাই হনুমানকে নিয়ম মেনে কবরস্থ করে। সবাই মিলে ঠিক করে, মৃত হনুমানের স্মৃতিতে কবরের ওপর একটি সমাধি মন্দির গড়া হবে। তার পরই চাঁদা তোলা শুরু হয়। ইতিমধ্যেই সমাধি মন্দিরের জন্য ৫০ হাজার টাকার বেশি চাঁদা উঠেছে। সেদিন ছিলো হনুমানের পারলৌকিক ক্রিয়া। সকাল থেকেই ব্যস্ততা। হনুমানের ছবিতে মালা পরিয়ে ধুপ জ্বালিয়ে সমাধি মন্দিরের পাশেই শুরু হয়েছে শ্রাদ্ধ। পুরোহিত এসে যাবতীয় কাজ সারলেন।
শুধু চারঘাটের মানুষই নয়, হনুমানের শ্রাদ্ধে জড়ো হয়েছেন আশপাশের গ্রামের মানুষও। লবণগোলা, মোল্লাডাঙা, টিপি, ঘোলা, শ্রীরামপুর। প্রায় চোদ্দ-পনেরোটি গ্রাম একাকার হয়ে গিয়েছে রামভক্তের বিদেহী আত্মার শান্তিকামনায়।
গ্রামবাসীরা জানালেন, সবাই যে চাঁদা দিচ্ছেন তা নয়। অনেকেই পারলৌকিক ক্রিয়ার জন্য চাল, ডাল, সবজি দিয়েছেন। ওই দানের সামগ্রী দিয়েই চলছে রান্না, পংক্তিভোজ।
জানা গেল, শ্রাদ্ধের পরই শুরু হবে সমাধি মন্দির নির্মাণের কাজ। একটা হনুমানের মৃত্যুতে মানুষের এমন উন্মাদনা, ভালোবাসা সত্যিই নজিরবিহীন।