সিসি ডেস্ক: পড়ত ক্লাস সিক্সে। কতই-বা তার বয়স? তিন সঙ্গী নিয়ে তাকেই ধর্ষণের চেষ্টা চালিয়েছিল প্রতিবেশী যুবক। সেই অপমান আর গ্লানি ছোট্টো মেয়েটি সইতে পারেনি। গায়ে আগুন দিয়ে নিজেকে পুড়িয়ে মেরেছে সে।
অবশ্য মারা যাওয়ার আগে অভিযুক্ত যুবকের নাম আর তার অত্যাচারের বিবরণ জানিয়ে দিয়েছে সে৷ তারই ভিত্তিতে অমর মাঝি নামে ওই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে৷
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ঘটনা এটি। পুলিশ ও এলাকাবাসীর বরাত দিয়ে গণমাধ্যম জানায়, কেতুগ্রামের চাকটার বাসিন্দা ওই কিশোরীর বাবা বাস-কর্মী৷ অভিযোগ, স্কুলে যাতায়াতের পথে অমর প্রায়ই উত্ত্যক্ত করত তাকে৷ বারণ করেও লাভ হয়নি৷ বৃহস্পতিবার তার মা ও দিদি মামার বাড়ি গিয়েছিলেন৷ বাবাও বাইরে ছিলেন৷ বাড়িতে একাই ছিল ক্লাস সিক্সের ছাত্রী৷
কিশোরীর জবানবন্দিতে প্রকাশ, ‘বাড়ি ফাঁকা দেখে অমর আরও তিনজনকে নিয়ে বাড়িতে ঢোকে৷ আমার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে অমর৷ যতটা পারি বাধা দিয়েছিলাম৷ বাবা ফিরলেও ভয়ে ঘটনার কথা বলতে পারিনি বাবাকে৷ অমর ফোন করে হুমকি দিতে থাকে৷’
শুক্রবার সকালে সেই ভয়ে আর অপমানেই গায়ে আগুন দেয় ওই কিশোরী৷ প্রতিবেশীরা তাকে উদ্ধার করে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করেন৷ বিকেল তিনটে নাগাদ সেখানেই তার মৃত্যু হয়৷
নির্যাতিতার বাবা বলেন, ‘অমর মেয়েটাকে জ্বালাতন করত জানি৷ মেয়েকে সকালে ফোন করেছিল৷ কিন্ত্ত ও ফোনটা আমার হাতে দেওয়ামাত্র অমর কেটে দেয়৷ তাই বুঝতেই পারিনি ব্যাপারটা কতখানি গুরুতর৷ ও যে আমার এতবড় সর্বনাশ করেছে টেরই পাইনি৷’
বাবা অবশ্য বলছেন, তাঁর মেয়েকে ধর্ষণ করা হয়েছিল৷ কিন্ত্ত মেয়ের বয়ানের ভিত্তিতে শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের চেষ্টার মামলাই রুজু করা হয়েছে৷ বর্ধমানের পুলিশ সুপার সৈয়দ হোসেন মির্জা বলেন, ‘কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের চিকিত্সক ওই কিশোরীর মৃত্যুকালীন জবানবন্দি রেকর্ড করেছেন৷ তার ভিত্তিতেই অভিযুক্ত অমর মাঝিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে৷ কিশোরীর দেহ ময়না-তদন্তে পাঠানো হয়েছে৷’