রফিকুল ইসলাম, রাজারহাট (কুড়িগ্রাম): কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের ক্লাষ্টারের দায়িত্বে থাকা সহকারী শিক্ষা অফিসারদের সঙ্গে যোগসাজসে প্রতিষ্ঠানগুলোর সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ‘দপ্তরী কাম নৈশ প্রহরী’ পদে নিয়োগ পরীক্ষায় ব্যাপক অনিয়ম-দূর্নীতি ও প্রায় অর্ধকোটি টাকার ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার উপজেলায় দ্বিতীয় পর্যায়ে ১৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ‘দপ্তরী কাম নৈশ প্রহরী’ পদে নিয়োগ পরীক্ষার জন্য ভ্যানু নির্ধারিত ছিল-উপজেলা অফিসার্স ক্লাব ও উপজেলা রিসোর্স সেন্টার থাকলেও হঠাৎ করে তা রাতা-রাতি পরিবর্তন করে স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে গোপন আঁতাতের মাধ্যমে তাদের পছন্দের ৬টি ভ্যানুতে ১৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ পরীক্ষার স্থান নির্ধারণ করা হয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় জনতা উত্তেজিত হয়ে ওঠে। পরে ওইসব ভ্যানুতে উত্তেজিতদের ম্যানেজ করে ৩টি ভ্যানুতে ৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলেও বাকী ৯টি প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা স্থগিত করতে বাধ্য হয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ওইসব শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব প্রাপ্ত সভাপতি-প্রধান শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ক্লাষ্টারগণ পছন্দের প্রার্থীকে নিয়োগের পাঁয়তারা চালালে উত্তেজিত জনতা নিয়োগ পরীক্ষা কেন্দ্রে আক্রমণ চালায়। এতে ৯টি শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা বন্ধ হয়। এদিকে উৎকোচের বিনিময়ে রফা-দফার মাধ্যমে চাঁন্দামারী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, সুখদেব সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সোনালুরকুটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংশ্লিষ্ট ক্লাষ্টার ও উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার আবু সালেক বুলবুল ৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা সম্পন্ন করে। অপরদিকে বোতলার পাড় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভ্যানু ছিল। সোমবার সকাল থেকে ওই ভ্যানুতে রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীসহ স্থানীয় জনতা উত্তেজিত হলে তাদেরকে দফায়-দফায় বৈঠকের মাধ্যমে ম্যানেজ করে সকাল ১০টার পরীক্ষা বিকাল ৩টায় শুরু করে এবং ৩টি প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ পরীক্ষা সম্পন্ন করে। ওই ভ্যানুতে দায়িত্ব প্রাপ্ত ক্লাষ্টার ও উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার মোঃ আফজাল হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকগণ তাদের পছন্দের প্রার্থীকে নির্বাচন করেন। বনি-বনা না হওয়ায় ওই ভ্যানু’র কৈলাশকুটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরীক্ষা স্থগিত রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক প্রার্থী এ প্রতিনিধিকে জানান, নামমাত্র পরীক্ষা দিলাম এবং কমিটির পছন্দের প্রার্থীদের কাছ থেকে জন প্রতি ৪ লাখ থেকে সাড়ে ৪ লাখ টাকা নেয়া হয়েছে। আমাদের এতো টাকা দেয়ার সামর্থ নেই, তাই আমাদের চাকুরিও নেই বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরীক্ষার পর বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ এনে রাজারহাট উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবরে নিয়োগ বঞ্চিত প্রার্থীরা লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। এ বিষয়ে রাজারহাট উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আকতারী পারভীনের সঙ্গে তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, উত্তেজিত জনতার আক্রমণের কারণে বেশ কয়েকটি বিদ্যালয়ের নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ক্লাষ্টার ও উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার আবু সালেক বুলবুল এবং মোঃ আফজাল হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি। কুড়িগ্রাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আব্দুল কাদের’র মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, সোমবার রাজারহাট উপজেলায় ‘দপ্তরী কাম নৈশ প্রহরী’ পদে নিয়োগ পরীক্ষা থাকলেও তা আমাকে অবগত করা হয়নি। সংশ্লিষ্টদের মোবাইল ফোন বন্ধ রাখার বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখবো এবং তিনি কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক বরাবরে নিয়োগ বঞ্চিত প্রার্থীদের অভিযোগ করার পরামর্শ দেন। এ বিষয়ে রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা শিক্ষা কমিটির সহ-সভাপতি এস.এম মাজহারুল ইসলামের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এলাকাবাসী নিয়োগ প্রক্রিয়াটি বাতিলসহ পুনঃ নিয়োগের জন্য ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।