খেলাধুলা ডেস্ক: বাঘের গর্জনে অসহায়ভাবে কুপোকাত পাকিস্তানিরা। পাক বোলারদের রীতিমতো নাকানিচুবানি দিয়ে ওয়ানডে ক্রিকেটে দলীয় সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়েছে টাইগাররা।
নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৩২৬ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। যার মধ্যে একটি সেঞ্চুরি, দুইটি হাফ-সেঞ্চুরি আর সদ্য দলে ফেরা সাকিব আল হাসানের ঝড়ো রানের সুবাদে রানের পাহাড়ে উঠে যায় বাংলার টাইগাররা।
পাকিস্তানের জিততে হলে দরকার ৩২৭ রান। টানা কয়েকটি ম্যাচ বাজেভাবে হারের পর দুর্দান্তভাবে নিজেদের খেলায় ফিরে এসেছে বাংলাদেশ।
টসে জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন দলীয় কাপ্তান মুশফিকুর রহিম। তার এই সিদ্ধান্ত কতটুকু সময়োপযোগি ছিল তা খেলা শেষে স্কোরকার্ড দেখলেই বোঝা যাচ্ছে। মারকুটে ব্যাটিং, নান্দনিক শর্টের মধ্য দিয়ে শুরু হয় বাংলাদেশের ব্যাটিং ইনিংস।
ইনিংসের ৪৪.২ ওভারে ৪৭ বলে ৬ বাউন্ডারিতে ৫১ রানে একটি অর্ধশতক পূর্ণ করে মোহাম্মদ হাফিজের তালুবন্দী হন মুমিনুল। বাংলাদেশের দলীয় সংগ্রহ তখন ছিল ৩ উইকেট হারিয়ে ২৪৯ রান।
ওয়ানডে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় শতক পূর্ণ করার পরই সাজঘরে ফিরে যান উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান আনামুল হক বিজয়। সাঈদ আজমলের করা ৪০তম ওভারের প্রথম বলেই তিনি ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে আহমেদ শেহজাদের তালুবন্দী হন ব্যক্তিগত ১০০ রানেই। এ সময় টাইগারদের দলীয় সংগ্রহ ছিল ৩৯.১ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ২০৪ রান। ১৩২ বলে ৬ চার ও ৪ ছক্কায় দলকে ১০০ রানের অসামান্য ইনিংস উপহার দেন আনামুল। ৭৫ বলে ৫ চার ও ২ ছক্কায় হাফ-সেঞ্চুরী করেন ইমরুল কায়েস। দলীয় ১৫০ রানে তালহার বলে আউট হন তিনি। তার সংগ্রহ ৫৯ রান।
অধিনায়ক মুশফিকের সঙ্গী হন সাকিব আল হাসান। শেষ পর্যন্ত মুশফিক ৫১ (৩৩) ও সাকিব ৪০ (১৬) অপরাজিত থাকেন। তারা দুজন ৫.৪ ওভারে ৭৭ রানের জুটি গড়েন।
ওয়ানডেতে এটি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান। আগের সর্বোচ্চ ছিল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৮ উইকেটে ৩২০ রান। ২০০৯ সালের অগাস্টে বুলাওয়ায়োয় এই রান করেছিল বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ: ইমরুল কায়েস, আনামুল হক বিজয়, মুমিনুল হক, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, নাসির হোসেন, জিয়াউর রহমান, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, আবদুর রাজ্জাক, শফিউল ইসলাম ও আল আমিন হোসেন।
পাকিস্তান: আহমেদ শেহজাদ, মোহাম্মদ হাফিজ, মিসবাহ উল হক, উমর আকমল, শোয়েব মাকসুদ, শহিদ আফ্রিদি, উমর গুল, সাঈদ আজমল, উমর গুল, মোহাম্মদ তালহা ও ফাওয়াদ আলম।