রইজ উদ্দিন, সৈয়দপুর: নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর উপজেলা কৃষকরা চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছে। কৃষকরা ধান চাষে আগ্রহী হন সারা বছর তাদের ঘরে তিন বেলা খাবার জন্য গোলায় থাকবে চাল এই আশায়। লাভ লোকসানের কথা খুব একটা ভাবেনা চাষিরা। আমন ধান ঘরে তোলার পর শীতকালীন সবজি ও সরিষা আবাদ শেষে এবার তারা ইরি-বোরো ধান চাষে মাঠে নেমেছেন। উপজেলার ইরি-বোরো চাষিরা বীজতলা থেকে চারা সংগ্রহ করে জমিতে রোপন শুরু করেছেন। সেচ দিয়ে জমি তৈরীর পর উপজেলার ৫ টি ইউনিয়নে চাষিরা বোরো চাষে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। সরে জমিনে দেখা গেছে, উপজেলার বির্স্তীণ অঞ্চল জুড়ে চলছে বোরো আবাদর মহোৎসব। বর্তমানে উৎসব মুখর পরিবেশে কৃষকরা বোরো ধানের চারা রোপনে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কিছুদিন পরেই কাঁদামাটির বির্স্তীণ ভূমি ভরে যাবে সবুজের সমারোহে। বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের মাঝাপাড়া গ্রামের কৃষক ধিরেন চন্দ্র রায় জানান, এখন পর্যন্ত সেচ কাজে তেমন কোনো সমস্যা হয়নি। তবে জমিতে একটু পরিশ্রম ও মৌসুমী আবহওয়া অনুকুলে থাকলে এ মৌসুমে ইরি-বোরো ফসলের বাম্পার ফলনের সম্ভবনাও রয়েছে। সৈয়দপুর উপজেলা কৃষি অফিসার হুমায়ারা মন্ডল জানান, সাধারণত বছরের মধ্য জানুয়ারি থেকে মধ্য ফেব্র“য়ারি হলো বোরো রোপনের উপযুক্ত সময়। তবে যে সব জমিতে সরিষা বা আলু রয়েছে, সে সব জমিতে ফেব্র“য়ারি জুড়েই বোরো চারা রোপন করা হয়েছে। উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে ইরি-বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৬৮৫০ হেক্টর কিন্তু লক্ষ্যমাত্রার অধিক ৭১৪০ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো আবাদ হয়েছে। এ ছাড়া বোরো মৌসুমে সৈয়দপুর উপজেলায় রয়েছে সেচ যন্ত্র অগভীর নলকুপ ডিজেল চালিত ২৪০৫টি, বিদ্যুৎ চালিত ১১৫০ টি, এল এল পি ডিজেল চালিত ৭টি, বিদ্যুৎ চালিত ৫টি ও গভীর নলকুপ ৪৬টি। কৃষি অফিসার আরো জানান, বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে যে পরিমান সার প্রয়োজন তা পুরোপুরি মজুদ রয়েছে। তা ছাড়া কেউ যাতে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশী মূল্যে সার বিক্রি করতে না পারে, সে জন্য সব সময় বাজার মনিটরিং চলছে।