ঢাকা: বাংলাদেশে ভারতীয় টিভি চ্যানেলের প্রদর্শন নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নিচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এ লক্ষ্যে বিদেশি চ্যানেল প্রদর্শনের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপ করতে কাজ করছে বোর্ড। বেসরকারি টিভি চ্যানেল মালিকদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব টিভি চ্যানেল ওনার্সের (অ্যাটকো) অনুরোধে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এনবিআরকে এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। সূত্র মতে, গত মাসের শেষ সপ্তাহে অর্থমন্ত্রী এনবিআরকে একটি চিঠি দেন। এতে ভারতে বাংলাদেশের চ্যানেল কীভাবে প্রদর্শন করা যায়, প্রদর্শন না করা গেলে ভারতীয় চ্যানেল প্রদর্শন নিয়ন্ত্রণে করারোপ করার কী কী উপায় আছে তা খতিয়ে দেখে প্রস্তাবনা দিতে এনবিআরকে নির্দেশ দেন। পাশাপাশি বেসরকারি টিভি চ্যানেল মালিকদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব টিভি চ্যানেল ওনার্সসহ (অ্যাটকো) সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করে করণীয় ঠিক করার নির্দেশ দেন অর্থমন্ত্রী।
অর্থমন্ত্রীর নির্দেশ পেয়ে ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে এনবিআর। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে জানা গেছে, ভারতীয় চ্যানেল নিয়ন্ত্রণের করারোপে কী কী বিধান রয়েছে তা খতিয়ে দেখছে এনবিআর। এ ব্যাপারে শীঘ্র অ্যাটকো ও সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সঙ্গে বৈঠকে বসবে সংস্থাটি। বর্তমানে দেশে ভারতীয় চ্যানেল প্রদর্শনের ওপর ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (মূসক) আরোপ রয়েছে। আর ভারতের প্রায় সব চ্যানেল বাংলাদেশে প্রদর্শিত হলেও ভারতে বাংলাদেশের কোনো চ্যানেল প্রদর্শিত হচ্ছে না।
সূত্র জানায়, এনবিআর থেকে করারোপের প্রস্তাব যাওয়ার পর তথ্য মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, এনবিআর, বিটিআরসিকে নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে বসবেন অর্থমন্ত্রী। বৈঠকে করারোপের সিদ্ধান্ত আসতে পারে। এ ছাড়া বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে ভারতের চ্যানেলকে বাংলাদেশে প্রদর্শনের যে শর্তে সুযোগ দেয়া হচ্ছে একই শর্তে ভারতে বাংলাদেশি চ্যানেল প্রদর্শনের প্রস্তাব দেয়ার সিদ্ধান্ত হতে পারে। আর ভারত এতে রাজি না হলে করারোপের সিদ্ধান্ত নেবে বাংলাদেশ।
অ্যাটকোর সাধারণ সম্পাদক প্রধান শাইখ সিরাজ বলেন, ভারতে বাংলাদেশি চ্যানেল প্রদর্শন করতে হলে কিছু শর্ত রয়েছে। বাংলাদেশি চ্যানেল মালিকদের সে দেশে যে কোনো খাতে বিনিয়োগ করতে হবে। শুধু তাই নয় ভারতের তথ্য মন্ত্রণালয়ে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ ফি জমা দিয়ে সে দেশের সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশি চ্যানেল প্রদর্শনের চুক্তি করতে হবে। চুক্তির পর আবার ভারতের কেবল অপারেটরদের কাছে থেকে অনুমতি নিতে হয়। কিন্তু এখানে আরেক বিপত্তি। অপারেটররা এ ক্ষেত্রে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে।
অথচ ভারতীয় চ্যানেল বাংলাদেশে প্রদর্শনের ক্ষেত্রে এ রকম কোনো শর্ত নেই। বরং বাংলাদেশি অপারেটরদের ভারতীয় চ্যানেল প্রদর্শনের জন্য টাকা দিতে হয়।
ভারতীয় চ্যানেল প্রদর্শনে দেশি চ্যানেল অনেকটা কোণঠাসা অবস্থায় রয়েছে। এ অবস্থায় গত ৫ ফেব্রুয়ারি অ্যাটকো সদস্যরা অর্থমন্ত্রী সঙ্গে বৈঠকে করেন। বৈঠকে অন্য দাবিদাওয়ার সঙ্গে ভারতীয় চ্যানেল প্রদর্শনে ভ্যাট আদায় করা, কেবল নেটওয়ার্কে বাংলাদেশের চ্যানেলগুলোর সিরিয়াল প্রথম দিকে রাখা ও বিদেশি সংস্কৃতি নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্বারোপ দাবি জানান অ্যাটকোর নেতারা।
বৈঠকে অ্যাটকোর সাধারণ সম্পাদক প্রধান শাইখ সিরাজ বলেন, ভারতীয় চ্যানেলগুলো বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে চালু থাকায় আমাদের বিজ্ঞাপনের বাজার ভারতে চলে যাচ্ছে। করপোরেটগুলো ভারতীয় চ্যানেলগুলোকে বিজ্ঞাপন দিচ্ছে। কিন্তু ভারতে বাংলাদেশের কোনো টেলিভিশন চ্যানেল চলে না।
তারা বলেন, আমরা ভারতীয় চ্যানেলের বিপক্ষে না, তবে ভারতীয় চ্যানেল অবাধ হওয়ার কারণে আমাদের সংস্কৃতি হুমকির মুখে পড়েছে। আমাদের সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে এ বিষয়ে এখনই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। উৎসঃ বর্তমান